প্রচ্ছদ জাতীয় মেয়রের বিশ্রামাগারে ছাত্রলীগের সভা, রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্ক

মেয়রের বিশ্রামাগারে ছাত্রলীগের সভা, রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্ক

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলায় নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের একটি সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ–সংক্রান্ত ছবি ও তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার উপজেলার রোসাংগিরী ইউনিয়নের মাইজভান্ডার–নাজিরহাট সড়কের পাশে অবস্থিত একটি ভবনে ওই সভা অনুষ্ঠিত হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিওতেও সেখানে কয়েকজনের উপস্থিতিতে বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার বিষয়টি দেখা যায়।

স্থানীয়দের দাবি, ভবনটি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মঞ্জুরুল আলম মঞ্জুরের মালিকানাধীন। এটি মূলত আশেক-ভক্তদের বিশ্রামাগার হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। তবে এ বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বৈঠকে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের স্থানীয় পর্যায়ের কয়েকজন নেতা-কর্মী অংশ নিয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সভার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।

খবর পেয়ে ফটিকছড়ি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং সেখানে উপস্থিত কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে। পাশাপাশি ঘটনার বিষয়ে প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ করে। এ সময় দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

ফটিকছড়ি থানার ওসি রবিউল আলম খান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অনুসন্ধান শুরু করেছে।

তিনি বলেন, “ঘটনার সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে। কারা সেখানে উপস্থিত ছিলেন এবং বৈঠকের উদ্দেশ্য কী ছিল, সে বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তবে তদন্তের স্বার্থে থানায় নেওয়া ব্যক্তিদের পরিচয় প্রকাশ করতে রাজি হননি ওসি। তিনি জানান, তদন্ত শেষ হওয়ার আগে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব নয়।

এদিকে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, নিষিদ্ধ ঘোষিত কোনো সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ অত্যন্ত স্পর্শকাতর বিষয়। তাই বিষয়টি নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

সূত্র : কালের কণ্ঠ