
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন জাতীয় বেতন কাঠামো বা পে স্কেল শতভাগ বাস্তবায়নসহ সরকারের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির আহ্বায়ক আবদুল মালেক।স্থানীয় সংবাদ পরিবেশন
পে স্কেল নিয়ে সরকারের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে অনেকটা হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘কর্মচারীদের মধ্যে একটা চরম হতাশা কাজ করছে যে, আসলেই আমরা ৫০ শতাংশ পাব নাকি ১০০ শতাংশ পাব? যদিও সরকার থেকে আমরা কোনো আপডেট জানি না।’
একটি গণমাধ্যমকে আবদুল মালেক বলেন, ‘সরকার ক্ষমতায় আসার পর আমরা শুধুই শুনছি যে, পে স্কেল হচ্ছে। কিন্তু আদৌ পে স্কেল হবে কিনা সরকার থেকে কোনো নির্ভরযোগ্য বা কোনো নীতি নির্ধারক মন্ত্রী বা অর্থসচিব বা এই লেভেলের কেউ, এখনো সরকারের পক্ষ থেকে আসেনি। আমরা বারবার দাবি করে আসছিলাম যে, অন্তত বাজেট শুরু হওয়ার আগে সরকারের পক্ষ থেকে একটা আনুষ্ঠানিক বিবৃতি আমাদের মধ্যে আসে যে, পে স্কেল টা হচ্ছে। তাহলে কর্মচারীদের মধ্যে যে হতাশা বিরাজ করছে, সেটা আসলে থাকতো না। আমরা আশা করি, সরকার এগুলো চিন্তাভাবনা করেই পে স্কেল বাস্তবায়নের দিকে এগোবে।’
আবদুল মালেক জানান, দীর্ঘ ১১ বছর পর পে স্কেল কোনো ধাপে চাচ্ছেন না। একবারেই সব দেওয়া হোক। এতে হয়তো কষ্ট হবে। কিন্তু এটার ওপরে ভিত্তি করে বারবার অসাধু ব্যবসায়ীরা দাম বৃদ্ধি করার সুযোগ পাবে না। এবং কর্মচারীরা লাভবান হবে।
তিনি বলেন, ‘হয়তো আমরা এটা বলতে পারি যে, দেশের উন্নয়ন তো প্রতিবছর হচ্ছে। বাজেটও কিন্তু প্রতি বছর হবে। কিন্তু পে স্কেল তো প্রতিবছর হবে না। পে স্কেল তো একবারেই হবে। এটি বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনে অন্য একটা দিক কাটছাট করে বরাদ্দটা বাড়ালে কর্মচারী অঙ্গণ সরকারের প্রতি আরো বিশ্বস্ত হবে এবং নির্ভরশীল হবে, এটা আমাদের ধারণা।’
জানা গেছে, পুরো নতুন বেতন কাঠামো একসঙ্গে কার্যকর না করে তা তিনটি অর্থবছরে পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে। আগামী জুলাই মাস থেকেই সরকারি চাকরিজীবীরা নতুন বেসিক বেতনের অর্ধেক অংশ পেতে শুরু করবেন। পরবর্তী অর্থবছরে বাকি অর্ধেক বেসিক কার্যকর করা হবে। এরপর ২০২৮-২০২৯ অর্থবছরে নতুন পে স্কেলের আওতায় নির্ধারিত বিভিন্ন ভাতা ও সুবিধা ধাপে ধাপে চালু করা হবে।
আসন্ন বাজেটে ৩০ থেকে ৩৭ হাজার কোটি টাকার একটি বিশেষ ‘থোক বরাদ্দ’ রাখার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। আগামী ৭ জুন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ত্রয়োদশ অধিবেশনের বাজেট অধিবেশন শুরু হবে। তবে এদিনই পে স্কেলের বরাদ্দ হচ্ছে না। এদিন বেলা ৩টায় রাষ্ট্রপতির আহবানে জাতীয় সংসদ ভবনে এ অধিবেশন শুরু হবে।
এরপর আগামী ১১ জুন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট সংসদে পেশ করবেন। সে দিনই পে স্কেলে বরাদ্দের বিষয়ে চূড়ান্ত তথ্য জানা যাবে।
নবম জাতীয় পে কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন ৫০ শতাংশ বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে। এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে ১ম গ্রেড থেকে শুরু করে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত বিদ্যমান পুরো বেতন কাঠামোতে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে।
এদিকে, কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী, মাসে ২০ হাজার টাকার কম পেনশনপ্রাপ্তদের পেনশন প্রায় ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। যাদের মাসিক পেনশন ২০ থেকে ৪০ হাজার টাকার মধ্যে, তাদের ক্ষেত্রে প্রায় ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির প্রস্তাব রয়েছে। আর ৪০ হাজার টাকার বেশি পেনশনপ্রাপ্তদের ক্ষেত্রে প্রায় ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে।
এ ছাড়া প্রবীণ পেনশনভোগীদের জন্য চিকিৎসা ভাতা বাড়ানোর প্রস্তাবও রাখা হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, ৭৫ বছরের বেশি বয়সী পেনশনভোগীদের চিকিৎসা ভাতা ১০ হাজার টাকা নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়েছে, যা বর্তমানে ৮ হাজার টাকা। অপরদিকে, ৫৫ বছরের কম বয়সী পেনশনভোগীদের জন্য চিকিৎসা ভাতা ৫ হাজার টাকা নির্ধারণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে সম্প্রতি নবম পে-স্কেল আগামী ১ জুলাই থেকে বাস্তবায়নের ইঙ্গিত দিয়েছে সরকার। নতুন অর্থবছরের শুরু থেকেই সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়বে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তবে বেতন কত শতাংশ বাড়বে এবং পুরো কাঠামো একবারে কার্যকর হবে নাকি ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে—সেসব বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
বিবিসি বাংলাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আগামী বাজেটেই নতুন বেতন কাঠামো বা নবম পে-স্কেল বাস্তবায়ন হবে। তবে এটি কীভাবে কার্যকর করা হবে, তা নিয়ে এখনো আলোচনা চলছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সরকার আগামী তিন বছরে ধাপে ধাপে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করছে। তবে সরকারি চাকরিজীবীদের বিভিন্ন সংগঠন শুরু থেকেই একযোগে পুরো পে-স্কেল কার্যকরের দাবি জানিয়ে আসছে। উল্লেখ্য, সর্বশেষ সরকারি বেতন কাঠামো ঘোষণা করা হয়েছিল ২০১৫ সালে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আগামী বাজেটেই নতুন বেতনকাঠামো নিশ্চিতভাবে বাস্তবায়ন হবে। তবে বাস্তবায়ন কীভাবে হবে, এ নিয়ে কথাবার্তা চলছে।’
নবম পে-স্কেল পুরোপুরি এবারের বাজেটেই কার্যকর হবে নাকি ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এ বাজেটেই শুরু হবে।’













































