প্রচ্ছদ হেড লাইন শতাধিক আলেম গ্রেপ্তারের খলনায়ক মাওলানা ফেরদৌস

শতাধিক আলেম গ্রেপ্তারের খলনায়ক মাওলানা ফেরদৌস

জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের অভ্যন্তরে বইছে ঝড়ের আভাস। নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মাওলানা ফেরদাউসুর রহমানের বিরুদ্ধে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ ও ‘সংগঠন বিরোধী’ কর্মকাণ্ডের পাহাড় সমান অভিযোগ তুলেছেন দলেরই শীর্ষ নেতারা।

​শনিবার রাজধানীর পুরানা পল্টনে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত নির্বাহী পরিষদের সভায় এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসে। সভার সবচেয়ে বড় চমক ছিল মাওলানা হারুনুর রশীদের বক্তব্য। তিনি অভিযোগ করেন, ২০২১ সালে র‍্যাব-১১ এর অভিযানে মুফতী মনির হোসাইন কাসেমীসহ শতাধিক আলেমকে গ্রেপ্তারে সরাসরি অর্থের বিনিময়ে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করেছিলেন মাওলানা ফেরদাউস।

​শুধু তাই নয়, ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে পোলিং এজেন্টের স্লিপ বিক্রি এবং সাম্প্রতিক ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে গোপন বৈঠক করার মতো গুরুতর অভিযোগও তার বিরুদ্ধে আনা হয়েছে। সভায় যখন এই অভিযোগগুলো উত্থাপন করা হচ্ছিল, তখন উপস্থিত নেতাদের সামনে মাওলানা ফেরদাউসকে বিমর্ষ ও নির্বাক অবস্থায় বসে থাকতে দেখা যায়।

​এই পরিস্থিতিতে মাওলানা ওবায়দুল্লাহ ফারুকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। মাওলানা বাহাউদ্দিন জাকারিয়াকে প্রধান করে গঠিত এই কমিটিকে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নেতা জানান, সভায় প্রভাব বিস্তার করতে মাওলানা ফেরদাউস সংগঠনের বাইরের লোকজনকে নিয়ে এসে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টাও করেছেন। তদন্তের পরেই চূড়ান্ত হবে—জমিয়তের এই প্রভাবশালী নেতার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কোন দিকে মোড় নিচ্ছে।