প্রচ্ছদ জাতীয় রুমিন ফারহানার বক্তব্য থামাতে হট্টগোল, নিন্দা জানালেন শফিকুর রহমান

রুমিন ফারহানার বক্তব্য থামাতে হট্টগোল, নিন্দা জানালেন শফিকুর রহমান

সংসদ অধিবেশনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার বক্তব্য দেওয়ার সময় সরকারি দলের সদস্যদের দ্বারা সৃষ্ট অঙ্গভঙ্গি ও হট্টগোলের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

রোববার (১৯ এপ্রিল) অধিবেশন চলাকালে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে এই ঘটনাকে ‘একেবারেই অগ্রহণযোগ্য’ বলে আখ্যায়িত করেন এবং এর নিন্দা জানান তিনি।

সংসদকে দেশের সর্বোচ্চ সম্মানের জায়গা উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, যারা জনগণের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা নিয়ে এখানে নির্বাচিত হয়ে এসেছেন, তাদের কাছ থেকে এমন আচরণ অপ্রত্যাশিত।

তিনি সকল সংসদ সদস্যের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, কোনো সংসদ সদস্য যখন কথা বলবেন, তখন তাকে নিয়ন্ত্রণ করার একক এখতিয়ার কেবল মাননীয় স্পিকারের।

বিরোধীয় নেতা আরও বলেন, আজকে লক্ষ্য করলাম যে একজন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য তিনি যখন কথা বলছিলেন দুঃখজনকভাবে ট্রেজারি বেঞ্চ থেকে সম্মানিত কিছু সদস্য এমন কিছু অঙ্গভঙ্গি করেছেন যেটা আমার বিবেকে আঘাত লেগেছে। আমি এটা আশা করি না।

তিনি আরও বলেন, একবার দুইবার নয়, চার-পাঁচবার নির্বাচিত হয়ে সংসদে আসা কিছু সদস্যও এই কাজে লিপ্ত ছিলেন। যাদের নাম উল্লেখ করে তিনি নিজে লজ্জা পেতে চান না।

সংসদে ভালো সংস্কৃতির চর্চার ওপর জোর দিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা প্রথম দিনই অনুরোধ করেছিলাম ভালো কিছু সংস্কৃতির চর্চা হোক এখানে এবং আমরা শিখতে চাই আমরা জাতিকে নিজে শিখবো জাতিকেও আমাদের সাথে উদ্বুদ্ধ করব।

তিনি আক্ষেপ করে বলেন, স্পিকার বারবার অনুরোধ করার পরেও ট্রেজারি বেঞ্চের সদস্যরা তাদের হট্টগোল চালিয়ে গেছেন, এমনকি মাইক বন্ধ থাকার পরেও সংসদ কী হচ্ছে তা বোঝা যাচ্ছিল না।

ডা. শফিকুর রহমান তার বক্তব্যে রুমিন ফারহানার প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করে বলেন, শেষমেষ যখন মাননীয় সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার বক্তব্য চলছিল বিষয়টা একেবারেই অগ্রহণযোগ্য যা করা হয়েছে আমি এটার জন্য দুঃখ প্রকাশ করছি এবং আমি এটার নিন্দা জানাতেও বাধ্য হলাম।

এরআগে রুমিন ফারহানা সংসদ অধিবেসনে তার বক্তব্যে বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে বারবার বলা হচ্ছে জ্বালানির কোনো ঘাটতি নেই, অথচ বাস্তবে চিত্রটি সম্পূর্ণ ভিন্ন। রাস্তায় তেলের জন্য ৩ কিলোমিটার লম্বা লাইন দেখা যাচ্ছে। ড্রাইভাররা মাঝরাত পর্যন্ত অপেক্ষা করেও তেল পাচ্ছে না। সরকারের যদি কোনো সংকটই না থাকে, তবে এই লম্বা লাইন কেন? কেন তেলের দাম বাড়াতে হচ্ছে?

জ্বালানি সাশ্রয়ে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করে তিনি বলেন, সরকার মার্কেটপ্লেস রাত ৮টার পরিবর্তে ৭টায় বন্ধের যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা অদূরদর্শী। মানুষ কেনাকাটা সাধারণত সন্ধ্যার পরেই করে। এছাড়া অফিস-আদালতের কর্মঘণ্টা পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

সরকারের মন্ত্রীরা গণমাধ্যমে সংকট নেই বলে যে দাবি করছেন, তার সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে রুমিন ফারহানা বলেন, আমি এই সংসদের মাধ্যমে জানতে চাই, বর্তমানে দেশে অকটেন ও ডিজেলের প্রকৃত মজুত কতদিনের আছে? পাম্পগুলোতে পর্যাপ্ত তেল কেন সরবরাহ করা হচ্ছে না? তেলের মজুতদারি কারা করছে এবং এর পেছনে কারা জড়িত, তা পরিষ্কার করতে হবে। এরপরই সরকার দলীয় পক্ষ থেকে হট্টগোল শুরু হলে রুমিন ফারহানার মাইক বন্ধ করে দেওয়া হয়।