
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত নিরসনে পরবর্তী দফার আলোচনার ভেন্যু হিসেবে পাকিস্তান ও তুরস্ক—উভয় দেশের নামই এখন টেবিলে রয়েছে। গত সপ্তাহান্তের ম্যারাথন বৈঠক কোনো চূড়ান্ত চুক্তি ছাড়াই শেষ হওয়ার পর এখন দ্বিতীয় দফার বৈঠকের জন্য ইসলামাবাদের পাশাপাশি ইস্তাম্বুলের সম্ভাব্য স্থান হিসেবে বিবেচনা করা বিবেচনা করা হচ্ছে। যদিও ইরানি কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চয়তা পাওয়া যায়নি, তবে কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে যে দুই দেশের অবস্থানের মধ্যে বেশ কিছু ‘ব্রিজেবল পয়েন্ট’ বা সমঝোতার সুযোগ তৈরি হয়েছে। খবর আল জাজিরার
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দ্বিতয়ি দফার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা প্রধান ইস্যুগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থগিতের মেয়াদ। গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র চায় ইরান অন্তত ২০ বছরের জন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ রাখুক। অন্যদিকে, ইরান এই স্থগিতাদেশের মেয়াদ ৫ বছর করার প্রস্তাব দিয়েছে। দুই পক্ষের দাবির মধ্যে বড় ব্যবধান থাকলেও একটি মাঝামাঝি সময়ে পৌঁছানোর সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিশ্লেষকরা।
আরেকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হলো হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনা এবং এই নৌপথের ভবিষ্যৎ কী হবে তা নির্ধারণ করা। ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, এই কৌশলগত নৌপথের ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা আগের চেয়ে ভিন্ন হবে। তার এই অবস্থান আলোচনার টেবিলে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
এছাড়া উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিয়েও দুই দেশ দরকষাকষি করছে। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি অনুযায়ী, ইরানের একটি ধ্বংসপ্রাপ্ত পারমাণবিক কেন্দ্রে প্রায় ৪৫০ কেজি (১০০০ পাউন্ড) উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত রয়েছে। ওয়াশিংটন চায় এই জ্বালানি সম্পূর্ণভাবে ইরান থেকে সরিয়ে ফেলা হোক। তবে তেহরান প্রস্তাব দিয়েছে যে, তারা এই ইউরেনিয়ামকে ৩ শতাংশের নিচে লঘু করে ফেলবে, যাতে তা দিয়ে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করা সম্ভব না হয়।
ইসলামাবাদে গত দফার ২১ ঘণ্টার আলোচনার অগ্রগতি এবং এই নতুন প্রস্তাবগুলো নিয়ে দ্বিতীয় দফায় সমঝোতার একটি পথ তৈরি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের কড়া অবস্থান এবং হরমুজ প্রণালিতে চলমান নৌ-অবরোধ এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে কতটা সফল হতে দেবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েই গেছে।












































