
আধুনিক ফুটবলে সাফল্যই শেষ কথা—এখানে সৌন্দর্য, আবেগ গৌণ। সাফল্য না পেলে কোচ ছাঁটাইয়ের আগে সংশ্লিষ্টদের সব সুবিধা নিশ্চিত করতে হয়। বাংলাদেশের মতো ফুটবলে অনুন্নত দেশগুলোর চিত্রটা ভিন্ন। এখানে কোচকে হাত-পা বেঁধে পানিতে ফেলা হয় সাঁতার কাটার জন্য! আলফাজ আহমেদের বেলায় ঠিক একই ঘটনা ঘটেছে। আলফাজ এখানে বলির পাঁঠা!
ফুটবলারদের বেতন বকেয়া, কয়েক দফা আন্দোলন-সংগ্রামে সমাধানের পথ খুঁজে পায়নি সমস্যাটা। দিনের পর দিন খেলোয়াড়দের বুঝিয়ে খেলিয়েছেন কোচ আলফাজ আহমেদ ও ম্যানেজার ইমতিয়াজ আহমেদ নকীব। এ অবস্থায় প্রত্যাশিত ফল না হওয়ায় কোচ ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্তটা কতটুকু যৌক্তিক? উত্তরটা কিন্তু আলফাজ আহমেদও খুঁজে পাচ্ছেন না।
‘কোচ হিসেবে ব্যর্থতার দায় অবশ্যই আমার। কিন্তু দল কী পরিস্থিতিতে খেলছে, কাদের নিয়ে খেলছে—সেগুলো বিবেচনায় নিলে পুরো দায় একা আমার নয়’—বলছিলেন সদ্য চাকরি হারানো কোচ আলফাজ আহমেদ। সাবেক এই ফুটবলার যোগ করেন, ‘বেতন বকেয়া ছিল। খেলোয়াড়রা একাধিকবার অনুশীলন বয়কট করেছেন। তাদের বুঝিয়ে মাঠে আনতে হয়েছে। ক্লাবজুড়েও ছিল অস্থিরতা। সব মিলিয়ে সময়টা ভালো যায়নি। এ পরিস্থিতিতে আগের মতো পারফরম্যান্স করা কঠিন ছিল। তারপরও চেষ্টা করেছি।’
২৩ ফেব্রুয়ারি মোহামেডানের নির্বাচন নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কর্মকর্তাদের প্রশ্ন করা হয়েছিল—বকেয়া বেতন পরিশোধের জন্য না কি ফুটবলাররা অনুশীলন বয়কট করেছেন? নির্বাচনের মাধ্যমে ক্লাবের ডিরেক্টর ইনচার্জ হওয়ায় লোকমান হোসেন ভূঁইয়া প্রশ্নটা সযত্নে এড়িয়ে গেছেন, ‘আমরা এখানে নির্বাচন নিয়ে বসেছি, নির্বাচন প্রসঙ্গেই থাকি। অন্য প্রসঙ্গে ভিন্ন সময় কথা বলা যাবে।’
ফুটবল মাঠে মোহামেডান পথ হারিয়েছিল গেল মৌসুমে, শিরোপা নিশ্চিত করার পরই। ১৬ মে চট্টগ্রাম আবাহনীর বিপক্ষে জয়ের পর ঢাকা আবাহনীর হারে ২৩ বছর পর লিগ শিরোপা নিশ্চিত হয়েছিল ঐতিহ্যবাহী ক্লাবটির। তার পরই খেই হারিয়েছিল মোহামেডান। রহমতগঞ্জের বিপক্ষে ৪-৩ গোলে হার, ব্রাদার্সের বিপক্ষে ৩-৩ গোলে ড্র করার পর ফকিরেরপুল ইয়াংমেন্স ক্লাবকে ৬-১ গোলে বিধ্বস্ত করে ২০২৪-২৫ মৌসুমের লিগের ইতি টানে ঐতিহ্যবাহী ক্লাবটি।
নতুন মৌসুমের সূচনা ফরটিজ এফসির কাছে ২-০ গোলে হারের পর বাংলাদেশ পুলিশের সঙ্গে
১-১-এ ড্র করে চ্যাম্পিয়নরা। তৃতীয় ম্যাচে আবাহনীকে ৩-২ গোলে হারিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর মঞ্চ তৈরি করেছিল। চতুর্থ ম্যাচে দ্বিতীয় হারের তোতো স্বাদ নিতে হয়েছে ফকিরেরপুলের বিপক্ষে। পরবর্তী সময়ে পিডব্লিউডিকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দেওয়া মোহামেডান বসুন্ধরা কিংসের কাছে হেরেছে ২-০ গোলে। আরামবাগ, রহমতগঞ্জ, ব্রাদার্স ইউনিয়নের বিপক্ষে টানা তিন ড্র করতে হয়েছিল। সর্বশেষ তিন ম্যাচের মধ্যে ফরটিজ এফসি ও আবাহনীর কাছে হারতে হয়েছে, মাঝে একটি ড্র ছিল ইয়াংমেন্স ফকিরেরপুল ক্লাবের সঙ্গে। আবাহনীর কাছে হরের পরই চাকরি হারাতে হয়েছে আলফাজ আহমেদকে।
সূত্র : কালবেলা













































