প্রচ্ছদ জাতীয় বিএনপি-জামায়াতকে নিয়েই অভ্যুত্থান করেছি: হান্নান মাসউদ

বিএনপি-জামায়াতকে নিয়েই অভ্যুত্থান করেছি: হান্নান মাসউদ

নোয়াখালী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদ বলেছেন, বাংলাদেশে যারা অভ্যুত্থান করেছে তারাই সরকারি দল আবার তারাই বিরোধীদল। নেপালে অভ্যুত্থানকারীরা সরকার গঠন করেছে আর বিরোধী দল অভ্যুত্থানের পরাজিতরা। এই জায়গায় বাংলাদেশ সফল। বাংলাদেশে আমরা বিএনপি-জামায়াতকে নিয়েই অভ্যুত্থান করেছি। একা একা তো করিনি।

সোমবার (১৩ মার্চ) বিকেলে চাটখিল উপজেলা অডিটোরিয়ামে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উদ্যোগে আয়োজিত এক বিশেষ ‘চায়ের আড্ডা’ ও ও মতবিনিময় সভায় তিনি এসব মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, তারেক রহমানও অভ্যুত্থানের একটা ফেস। উনিও দীর্ঘদিন ধরে অত্যাচারিত হয়েছেন, হাসিনা বিরোধী আন্দোলনে লড়াই করেছেন। উনিই প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। এখন যদি উনি কথা না রাখেন, সেটা পরের আলোচনা।

হান্নান মাসউদ বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে যে ধারা আছে, সে ধারায় আওয়ামী-বিএনপি-জাতীয় পার্টি এই তিনটা দলই ক্ষমতায় এসে রাজনৈতিক দল গঠন করেছে। ক্ষমতার বাইরে থেকে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে দুটি রাজনৈতিক দল। তার মধ্যে একটি জামায়াতে ইসলামী আরেকটি জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। এভাবে তরুণ রাজনৈতিক দল গঠন করে ইতিহাসে প্রথম সাংসদ নির্বাচনে ৬ জন সংসদ সদস্য পাওয়া দল এনসিপি। আমরা (এনসিপি) দেশের ভয়েস, এদেশের সাধারণ মানুষের কণ্ঠস্বর। যে কণ্ঠস্বর একজন হতে পারে, দুজন হতে পারে, পাঁচজনও হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, কে, কখন সাধারণ মানুষের হয়ে কথা বলবে, কে নেতৃত্ব দেবে; সেটা আল্লাহই ঠিক করে দেন। বিএনপি বড় রাজনৈতিক দল ছিল, জামায়াতে ইসলামী বড় রাজনৈতিক দল ছিল। গণঅভ্যুত্থানের নেতৃত্ব আল্লাহ বিএনপি কিংবা জামায়াতকে দিতে পারতেন; কিন্তু সেখানে ছোট ছোট কয়েকজনের হাতে নেতৃত্ব দিয়েছেন৷ আবার সেখান থেকে ছয় জনকে এমপিও বানিয়ে ফেলেছেন। এটা আল্লাহ প্রদত্ত।

সংসদ সদস্য হান্নান বলেন, সরকারের বিরুদ্ধে বলা যায়, মাফিয়াদের বিরুদ্ধে কথা কম বলতে হয়। কারণ সরকারও কন্ট্রোল করে মাফিয়ারা। এই মাফিয়াদের হাত এতোই শক্তিশালী, এরা যেকোনো সরকারও চেঞ্জ করতে পারে। আমরা কথা বলতেছি। আমরা সিস্টেমটার পরিবর্তন করতে চাচ্ছি।

প্রশাসনিক সীমাবদ্ধতার উদাহরণ দিতে গিয়ে মাসউদ বলেন, সিস্টেমের কারণেই হাদিসহ বহু হত্যারই বিচার ঠিকমতো হচ্ছে না। পুলিশ তদন্তে যায়, সরকার তাকে ঠিকমতো লজিস্টিক সাপোর্ট দেয় না। কৃষি বীজ আসে, সরকারি ত্রাণের চাল আসে কিন্তু সেখানেও ঠিকঠাক ভাড়া দেওয়া হয় না। এগুলো দুর্নীতির সুযোগ তৈরি করে। যে কারণে সিস্টেমের পরিবর্তন না হলে দেশের দুর্নীতি দূর হবে না।