বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ভয়াবহ কারসাজি হজ যাত্রীদের সঙ্গে

0
981

বছরে দেশ থেকে চলে যাচ্ছে ৪শ কোটি টাকা
তিন থেকে চারগুন বেশি ভাড়া গুণতে হচ্ছে যাত্রীদের

লতি বছর প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকে একজন হজযাত্রী পরিবহনে সৌদি এয়ারলাইন্স ভাড়া পাচ্ছে ৫৭ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ৮৯ হাজার টাকা। আর বাংলাদেশি হজযাত্রী পরিবহনে একই এয়ারলাইন্স জনপ্রতি ভাড়া নিচ্ছে ১ লাখ ৩৮ হাজার টাকা। যা বেসরকারি হজযাত্রীদের ক্ষেত্রে ১ লাখ ৬৮ হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে। ভারতের তুলনায় বাংলাদেশি একজন হজযাত্রী পরিবহনে সৌদি এয়ারলাইন্স বাড়তি পাচ্ছে ৮০ হাজার টাকারও বেশি। আর বাংলাদেশের সাধারণ যাত্রী পরিবহনের তুলনায় সেই বাড়তির পরিমাণ প্রায় তিন থেকে চারগুণ।

জানা গেছে, মূলত বিমান বাংলাদেশকে অবৈধ সুবিধা দেওয়ার সুযোগ নিচ্ছে সৌদি এয়ারলাইন্স। যার মাধ্যমে এবার সৌদির বিমান সংস্থাটি বাংলাদেশি হাজীদের থেকে বাড়তি প্রায় ৪শ’ কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। এই টাকা হজযাত্রীদের পকেট থেকে জোর করে আদায় করা হচ্ছে। যা দেশের অর্থ দুর্নীতির মাধ্যমে বিদেশিদের লোটার সুযোগ করে দেওয়ার সামিল বলে মন্তব্য করেছেন সংশ্লিষ্টরা। কারণ, বিমান বাংলাদেশকে বাড়তি সুযোগ দিতে গিয়েই সৌদি এয়ারলাইন্সকেও তাতে ভাগ বসানোর সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। যদি হজযাত্রী পরিবহনে থার্ড ক্যারিয়ার ওপেন থাকতো বা তৃতীয় কোনো পক্ষকে হজযাত্রী পরিবহনের সুযোগ দেওয়া হতো, তাহলে এই বাড়তি অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার সুযোগ পেত না বিদেশি এই এয়ারলাইন্সটিও। অথচ বাংলাদেশ বিমানকে অবৈধ সুবিধা দিতে গিয়ে প্রতিবছরই এভাবে সৌদি

এয়ারলাইন্সকেও বাংলাদেশ থেকে ৩শ’ থেকে ৪শ’ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার সুযোগ করে দেয়া হচ্ছে। এতে একদিকে বাংলাদেশের কষ্টার্জিত বৈদেশিক মুদ্রা বিদেশে চলে যাচ্ছে। অন্যদিকে সাধারণ হজযাত্রীদের বাড়তি বোঝা বহন করতে হচ্ছে।
যেভাবে সৌদি এয়ারলাইন্স বছরে হাতিয়ে নিচ্ছে ৪শ কোটি টাকা
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চাঁদ দেখা সাপেক্ষে এবার সম্ভাব্য হজের তারিখ ২১ আগস্ট। হজ ফ্লাইট শুরু হয়েছে গত ১৪ জুলাই। শেষ ফ্লাইট ঢাকা থেকে ছেড়ে যাবে আগামী ১৫ আগস্ট। পবিত্র হজ পালন শেষে প্রথম ফিরতি হজ ফ্লাইট শুরু হবে ২৭ আগস্ট। চলতি বছর বাংলাদেশ থেকে ১ লাখ ২৬ হাজার ৭৯৮ জন হজযাত্রী পবিত্র হজ পালনের জন্য সৌদি আরব যাচ্ছেন। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় যাচ্ছেন ৬ হাজার ৭৯৮ জন। আর বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় যাচ্ছেন ১ লাখ ২০ হাজার জন। বিমান বাংলাদেশের সঙ্গে ভাগাভাগি করে সৌদি এয়ারলাইন্স হজযাত্রীদের পরিবহন করছে। সেই চুক্তির ভিত্তিতে এবার বিমান বাংলাদেশ ১৮৭টি ফ্লাইটে ৬৪ হাজার ৯৬৭ জন এবং সৌদি এয়ারলাইন্স ৬১ হাজার ৮৩১ জন হজযাত্রী পরিবহন করবে।

সূত্রমতে, হজযাত্রী পরিবহণ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও সৌদি এয়ারলাাইন্সের মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখে অতিরিক্ত বিমান ভাড়া নির্ধারণ করে হজযাত্রীদের তা দিতে বাধ্য করা হচ্ছে। চলতি বছর হজযাত্রীপ্রতি সর্বোনিঘ্ন বিমান ভাড়া ধরা হয়েছে ১ লাখ ৩৮ হাজার ১৯১ টাকা। যা গত বছরের চেয়েও ১৩ হাজার টাকা বেশি। অথচ একই সময় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সসহ অন্যান্য এয়ারলাইন্সে ঢাকা-জেদ্দা-ঢাকা আসা যাওয়ার বর্তমান ভাড়া সাধারণ যাত্রীদের ক্ষেত্রে ৩৬ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকা। ওমরাহ যাত্রীদের আসা যাওয়ার ভাড়া ৪৯ হাজার থেকে ৫২ হাজার টাকা। অথচ একই ফ্লাইটে একজন হজযাত্রীকে ভাড়া গুণতে হচ্ছে ১ লাখ ৩৮ হাজার ১৯১ বা ১ লাখ ৬৮ হাজার ২৭৭ টাকা। সেই হিসাবে বাংলাদেশি একজন হজযাত্রীর কাছ থেকে এবার বাড়তি বিমান ভাড়া নেওয়া হচ্ছে কমপক্ষে ৫৮ হাজার ১৯১ টাকা। আর ১ লাখ ২৬ হাজার ৭৯৮ জন ‘আল্লাহ ঘরের মেহমানের’ কাছ থেকে বিমান ভাড়া হিসাবে বাড়তি আদায় করা হচ্ছে ৭৪০ কোটি টাকার বেশি। যার অর্ধেকের মতো নিয়ে যাচ্ছে সৌদি এয়ারলাইন্স। টাকার অঙ্কে যার পরিমাণ প্রায় ৪শ কোটি।

মন্তব্য