
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাদের উপস্থিতিতে আয়োজিত ন্যাশনাল স্পোর্টস অ্যালায়েন্সের আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান ও ক্রীড়াঙ্গনে সম্পৃক্ততার ব্যাখ্যা দিয়েছেন সংগীতশিল্পী আসিফ আকবর। বিএনপির সাবেক নেতা হিসেবে পরিচয় তুলে ধরে তিনি বলেছেন, ২০১১ সালে দলটির নির্বাহী কমিটি থেকে পদত্যাগ করেছেন। বর্তমানে তিনি বিএনপির একজন সমর্থক।
সোমবার (২ নভেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে ন্যাশনাল স্পোর্টস অ্যালায়েন্সের আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন তিনি। অনুষ্ঠানে এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এবং দলটির সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান ব্যাখ্যা করে আসিফ আকবর বলেন, ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির নির্বাহী কমিটির একজন সাবেক সদস্য ছিলাম। পদত্যাগ করেছি ২০১১ সালে। আমি বর্তমানে বিএনপির একজন সমর্থক। আমার নেতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান।’
তিনি বলেন, ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বলেছিলেন- ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে দেশ বড়-যেটাতে বর্তমান বিএনপি নাই।’
এনসিপির প্রোগ্রামে গিয়ে তার এমন বক্তব্যে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, তবে কি আসিফ আকবর দল পরিবর্তন করতে যাচ্ছেন।
ন্যাশনাল স্পোর্টস অ্যালায়েন্সের অনুষ্ঠানে যুক্ত হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে আসিফ বলেন, ‘সংগঠনটির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মকে খেলাধুলায় আগ্রহী করা এবং দেশের ক্রীড়াঙ্গনকে এগিয়ে নেওয়া। দেশের খেলাধুলায় নানা অসংগতি রয়েছে।’
আসিফ জানান, তিনি অনূর্ধ্ব-১৪ ক্রিকেট কোচিং থেকে উঠে এসেছেন। ১৪ বছর বয়স থেকেই ক্রীড়াঙ্গনের নানা বিষয় পর্যবেক্ষণ করছেন।
অনুষ্ঠানের উপস্থাপক তাকে বিসিবির সাবেক পরিচালক হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিলেও তিনি বলেন, ‘আমি আসলে বিসিবির সাবেক ডিরেক্টর না।’
বক্তব্যে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সাবেক ও বর্তমান কার্যক্রম নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ তোলেন আসিফ আকবর। তার দাবি, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে বিভিন্ন কমিটির নির্বাচন সঠিকভাবে হলেও বিসিবির ক্ষেত্রে তা হয়নি।
ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের সমালোচনা করে তিনি বলেন, বিসিবির নির্বাচন নিয়ে প্রশ্নের কারণে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা প্রত্যাশিত অবস্থানে যেতে পারেননি। এ সময় প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়েও মন্তব্য করেন তিনি।
আসিফ আরও বলেন, ‘বাংলাদেশে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় সবগুলো কমিটির নির্বাচন সঠিক ছিল। একমাত্র বিসিবিতে তারা সঠিক কিছু পায়নি। সঠিক কিছু না পাওয়ার কারণে অটোপাশ এমপি হতে পারে নাই, মন্ত্রী হয়েছেন। তার ঢাকা মহানগর উত্তরের দলীয় সদস্য পদ চলে গেছে। এখন উনি শুধু মন্ত্রী পদ নিয়ে আছেন, সেটাও যে কবে যায়?’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার মনে হয় মিডিয়াতে আমার বক্তব্যে প্রচারের পর তার সেই পদও টলমলে হয়ে যাবে। কারণ, একজন গোলরক্ষকের হাতে ক্রিকেট থাকতে পারে না। ফুটবলে তার কোনো ভূমিকা নেই, তাকে কেউ পাত্তা দেয় না।’









































