
২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে ধস নেমেছে রীতিমতো। গেল বারের তুলনায় পাসের হার কমেছে প্রায় ৬ শতাংশ। এদিকে জিপিএ-৫ এর সংখ্যাও কমে গেছে বেশ।
সোমবার (১০ আগস্ট) সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ফলাফল ঘোষণা করেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। সেখানে উঠে আসে এই তথ্য।
চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে এভাবে ধস নামার পেছনে মূলত দুটি বিষয় দায়ী—ইংরেজি ও গণিত। প্রকাশিত ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, দেশের সব শিক্ষা বোর্ডেই এই দুই বিষয়ে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে। এই দুটি বিষয়ই ফলাফল বিপর্যয়ে বড় নিয়ামক হিসেবে কাজ করেছে।
বিষয়টি লক্ষ্য করেছেন মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, ঢাকার চেয়ারম্যান প্রফেসর সৈয়দ আক্তারুজ্জামানও। তিনি বলেন, ইংরেজি ও গণিত এই দুটি বিষয়ের কারণে ফেলের হার সবসময় বাড়িয়ে দেয়। বিপরীত চিত্র দেখা গেছে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ে, যেখানে সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে।
ঢাকা বোর্ডে ইংরেজিতে ৭৮.৪০ শতাংশ ও গণিতে ৮২.৮৫ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে। রাজশাহীতে এই হার যথাক্রমে ৭৪.৭ ও ৭৭.১৭ শতাংশ, কুমিল্লায় ৮১.২৯ ও ৮১.৭৫ শতাংশ, যশোরে ৭১.৮৪ ও ৮৩.৩৪ শতাংশ, চট্টগ্রামে ৭২.২৭ ও ৮০.০৫ শতাংশ, বরিশালে ৬৯.২৪ ও ৭৭.৯৮ শতাংশ, সিলেটে ৬৯.১১ ও ৭৫.৯৬ শতাংশ এবং দিনাজপুরে ৭২.৯১ ও ৭১.০৫ শতাংশ।
এছাড়া ময়মনসিংহ বোর্ডে ইংরেজি ও গণিতে যথাক্রমে ৬৬.৬৪ ও ৬৯.৬১ শতাংশ, মাদ্রাসা বোর্ডে ৭৯.২১ ও ৬৯.৯৭ শতাংশ এবং কারিগরি বোর্ডে ৯৪.৭৯ ও ৭০.৯২ শতাংশ শিক্ষার্থী কৃতকার্য হয়েছে।
এবারের গড় পাশের হার নেমে দাঁড়িয়েছে ৬২.২৫ শতাংশে, যেখানে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন শিক্ষার্থী। গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালে গড় পাশের হার ছিল ৬৮.৪৫ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১ লাখ ৩৯ হাজার ৩২ জন। শুধু ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের হিসাবেই গড় পাশের হার আগের বছরের ৬৮.০৪ শতাংশ থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ৬৪.০৫ শতাংশে—অর্থাৎ প্রায় ৪ শতাংশ পয়েন্ট পতন ঘটেছে।
সব মিলিয়ে ফলাফল বিশ্লেষণ বলছে, ইংরেজি ও গণিতে ব্যাপক হারে ফেল করাই এবারের সার্বিক পাশের হার কমে যাওয়ার প্রধান কারণ, যেখানে আইসিটির ভালো ফল সেই ধাক্কা কিছুটা হলেও সামলাতে পারেনি।










































