
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম সমন্বয়ক এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। আন্দোলনের নেপথ্যের পরিকল্পনা, ডিবি কার্যালয়ের অভিজ্ঞতা, শীর্ষ সমন্বয়কদের সিদ্ধান্ত গ্রহণ, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ, জুলাই-পরবর্তী রাষ্ট্র সংস্কার এবং দুই বছর পর ফিরে দেখা নানা বিষয়ে আগামীর সময়-এর সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। সাক্ষাৎকাতর নিয়েছেন আমজাদ হোসেন হৃদয়।
আগামীর সময়: জুলাইয়ে আন্দোলন কীভাবে ছাত্র থেকে ছাত্র-জনতায় রূপ নেয়?
আসিফ মাহমুদ: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ কয়েকটি ক্যাম্পাসের কিছু শিক্ষার্থী কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেছিলেন। তখন আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু ছিল শিক্ষার্থীদের অধিকার ও ভবিষ্যতের প্রশ্ন। তবে ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা এবং ১৬ জুলাই শহীদ আবু সাঈদের প্রকাশ্যে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হওয়ার ঘটনা আন্দোলনের গতিপথ বদলে দেয়। আবু সাঈদের মৃত্যুর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদের জন্ম হয়। এরপর ধীরে ধীরে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ, পেশাজীবী সংগঠন এবং সাধারণ মানুষ আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করতে শুরু করেন। অভিভাবক, শিক্ষক, শ্রমজীবী মানুষ থেকে শুরু করে সমাজের নানা স্তরের মানুষ রাজপথে নামেন। ফলে আন্দোলনটি শিক্ষার্থীদের দাবির গণ্ডি পেরিয়ে একটি সর্বস্তরের গণআন্দোলনে রূপ নেয়।
আগামীর সময়: আপনিসহ সমন্বয়কদের ডিবি কার্যালয়ে নেওয়ার পর কী ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছিল?
আসিফ মাহমুদ: বিকালে প্রথমে আমাকে, নাহিদ ভাই ও বাকেরকে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়। আমি সেখানে ছয় দিন ছিলাম। পরে ধাপে ধাপে আরও কয়েকজন সমন্বয়ককে সেখানে নেওয়া হয়। প্রথম দিন থেকেই আমাদের ওপর আন্দোলন বন্ধ ঘোষণা দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছিল। বারবার বলা হচ্ছিল, আন্দোলনের ডাকে মানুষ রাস্তায় নেমে প্রাণ দিচ্ছে, তাই এসব ঘটনার দায়ও আমাদের। একই সঙ্গে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে হওয়া মামলাগুলোতে আমাদের নাম জড়ানো এবং পরিবারকে হয়রানির হুমকিও দেওয়া হচ্ছিল। আমাদের আলাদা আলাদা কক্ষে রাখা হয়েছিল। একেক সময় একেক কর্মকর্তা এসে বোঝানোর চেষ্টা করতেন যে অন্যরা রাজি হয়ে গেছেন, এখন আমাদেরও সিদ্ধান্ত বদলাতে হবে। পুরো সময় জুড়ে আমাদের মানসিকভাবে ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা চলেছে।
আগামীর সময়: আন্দোলন স্থগিতের যে ভিডিও বার্তা প্রচার হয়েছিল, সেটি কীভাবে নেওয়া হয়েছিল?
আসিফ মাহমুদ: টানা কয়েক দিন চাপ প্রয়োগের পর আমাদের বলা হয়, আমরা যদি আন্দোলন বন্ধের ঘোষণা দিতে রাজি হই, তাহলে বাইরে গিয়ে সংবাদ সম্মেলন করার সুযোগ পাব। তখন আমরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিই, যদি বাইরে যাওয়ার সুযোগ পাই, তাহলে আন্দোলন বন্ধের পরিবর্তে চালিয়ে যাওয়ার কথাই বলব। পরে আমাদের কাছ থেকে একটি ভিডিও বার্তা নেওয়া হয়। আমাদের ধারণা ছিল, সেটি শুধু ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে দেখানো হবে এবং অনুমতি পেলেই আমাদের ছেড়ে দেওয়া হবে। কিন্তু পরে দেখি, আমাদের মুক্তি না দিয়েই ভিডিওটি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তখন আমরা বুঝতে পারি, আমাদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে এবং ওই ভিডিওটি চাপ প্রয়োগ করেই নেওয়া হয়েছিল।










































