প্রচ্ছদ জাতীয় পঁচা আবর্জনা তসলিমার কোনো প্রয়োজন নেই, হিন্দুরা প্রেম করবে কি না

পঁচা আবর্জনা তসলিমার কোনো প্রয়োজন নেই, হিন্দুরা প্রেম করবে কি না

তীব্র গণআন্দোলন ও চরম বিতর্কের মুখে প্রায় ২০ বছর আগে পশ্চিমবঙ্গ থেকে বিতাড়িত হওয়া ইসলাম-বিদ্বেষী বিতর্কিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন আবারও কলকাতায় ফিরছেন। তবে তাঁর এই দীর্ঘ ২০ বছর পর কলকাতা প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে কড়া মন্তব্য প্রকাশ করেছেন পশ্চিমবঙ্গের জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের সভাপতি তথা রাজ্যের সাবেক গ্রন্থাগারবিষয়ক মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি তসলিমা নাসরিনকে ধর্ম থেকে বহিষ্কৃত এবং “পচা আবর্জনার” সঙ্গে তুলনা করে তীব্র সমালোচনা করেন।

সাক্ষাৎকারে সিদ্দিকুল্লা বলেন, তসলিমা নাসরিন ইসলাম ধর্মে ‘মুরতাদ’ বা ধর্ম থেকে বহিষ্কৃত এবং বাংলাদেশের মুসলমানরা তাকে অনেক আগেই ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছে। তিনি তসলিমা নাসরিনের বর্তমান বয়স ও অবস্থান নিয়ে মন্তব্য করে বলেন, “যদি ৪০ বছরে গিয়ে থাকে, এখন ৬৫ বছর। এখন তো বুড়ি হয়ে গেছে।”

হিন্দু সম্প্রদায় বা অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সঙ্গে হিন্দুত্ববাদীদের দোসর হিসেবে খ্যাত এই লেখিকার সম্পর্ক প্রসঙ্গে মন্তব্য করতে গিয়ে তিনি বলেন, “এখন তসলিমা নাসরিনের সাথে লেখাপড়া বা চায়ের কাপে ভাব-ভালোবাসা কারা করবে আমি জানি না। এখানকার হিন্দু ভাইয়েরা কে প্রেম করবেন, কথা বলবেন জানি না, তবে আমাদের কোনো প্রয়োজন নেই।”

তসলিমা নাসরিনের বস্তা পঁচা সাহিত্য ও লেখনিকে তীব্র আক্রমণ করে সাবেক এই মন্ত্রী তাকে বরফে রাখা দুর্গন্ধযুক্ত “পচা মাছ” এবং “পচা আবর্জনার” সাথে তুলনা করেন। তিনি মন্তব্য করেন যে, একজন লেখক হিসেবে তসলিমা নাসরিন স্রষ্টাকে নিয়ে কলমের খোঁচা চালিয়েছেন, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বিজেপি সরকারের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি আরও বলেন, “যাদের সুগন্ধ আছে তারা সুগন্ধ ব্যবহার করুক। বিজেপি সরকার প্রেম-প্রীতি করলে তারা করবে, আমার কী যায় আসে! দুর্গন্ধকে আমাদের পাশে রাখার জায়গা নেই।” কলকাতায় তসলিমা নাসরিনের প্রাসঙ্গিকতা পুরোপুরি ফুরিয়ে গেছে দাবি করে তিনি সাফ জানান, বাংলার মানুষের কাছে ওনার কোনো প্রয়োজন বা গুরুত্ব নেই।

এদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সচেতন মহলের মতে, তসলিমা নাসরিনের এই কলকাতা প্রত্যাবর্তন কোনো সাহিত্যিক তাগিদে নয়, বরং সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এবং উগ্র হিন্দুত্ববাদী শক্তি বিজেপির সরাসরি পৃষ্ঠপোষকতায়। আগামী ১ আগস্ট কলকাতার রবীন্দ্র সদনে তথাকথিত এক ‘কট্টরপন্থা-বিরোধী’ সম্মেলনে যোগ দেবেন তিনি। আর এই মঞ্চে তাঁর সঙ্গী হচ্ছেন পশ্চিমবঙ্গের কট্টর হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির পোস্টার বয় এবং বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

একদিকে নিজেকে আজীবন ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ ও ‘মুক্তমনা’ দাবি করা, অন্যদিকে কট্টর হিন্দুত্ববাদী এজেন্ডা বাস্তবায়নকারী ও মুসলিম-বিদ্বেষী হিসেবে পরিচিত রাজনৈতিক দলের কাঁধে ভর দিয়ে ‘কট্টরপন্থা-বিরোধী’ বুলি আওড়ানোকে চরম তামাশা ও হাস্যকর হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, এটি তসলিমার ধর্মনিরপেক্ষতার মুখোশকে আরও একবার উন্মোচিত করেছে। আসলে এটি কোনো মুক্তচিন্তার আসর নয়, বরং ‘ধর্মনিরপেক্ষতার’ মোড়কে সুপরিকল্পিত একটি মুসলিম-বিরোধী উসকানিমূলক তৎপরতা। মুসলিমদের বিরুদ্ধে উদ্বেগজনক এই ঘটনাটিকে পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান বিজেপি সরকার একটি বড় প্রতীকী জয় হিসেবে তুলে ধরছে। তাদের দাবি, পূর্ববর্তী সরকারগুলো ধর্মীয় মৌলবাদের কাছে যেভাবে মাথানত করেছিল, এটি তার অবসান ও ঐতিহাসিক পরিবর্তনের একটি বড় প্রমাণ।

বিতাড়িত তসলিমা নাসরিন নিজেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানিয়েছেন যে, আগামী ১ আগস্ট রবীন্দ্র সদনে আয়োজিত একটি কট্টরপন্থা-বিরোধী সাহিত্য সম্মেলনে যোগ দিতে তিনি কলকাতায় থাকবেন। সেখানে তিনি কবিতা পাঠ করবেন বলেও আশা করা হচ্ছে।

এবারের অনুষ্ঠানটির জন্য তাঁকে যৌথভাবে আমন্ত্রণ জানিয়েছে ‘সেক্যুলার মিশন’ এবং ‘হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড বাংলাদেশ ফ্রিডম ফাইটার্স ফাউন্ডেশন’ (এইচআরবিএফএফ)। আয়োজকদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, কট্টরপন্থার বিরুদ্ধে তাঁর দীর্ঘদিনের আপসহীন লড়াই এবং মুক্তচিন্তা ও বাকস্বাধীনতার পক্ষে অবিচল অবস্থানের প্রতি সম্মান জানিয়েই তাঁকে এই আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তবে সিদ্দিকুল্লা চৌধুরীর মতো রাজ্যের প্রভাবশালী মুসলিম নেতাদের এমন কড়া অবস্থানের পর এই অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে কলকাতার রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে উত্তেজনা আরও বাড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে।