
সাংবাদিক ও উপস্থাপক খালেদ মুহিউদ্দীনের উপস্থাপনায় ‘ঠিকানা’ টকশোতে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। অনুষ্ঠানে সাম্প্রতিক সময়ে আওয়ামী লীগকে ঘিরে দেওয়া তার বিভিন্ন বক্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে খালেদ মুহিউদ্দীন জানতে চান, তিনি ‘গুপ্ত আওয়ামী লীগ’ কি না। জবাবে রুমিন বলেন, ‘না, আমি আওয়ামী লীগ করি না। অবশ্যই আমি আওয়ামী লীগ করি না।’
খালেদ: গত এক বছরে যারা আপনার বক্তব্য পছন্দ করেছেন, তাদেরই একটি বড় অংশ এখন অভিযোগ করছেন—আপনি আওয়ামী লীগকে বাঁচিয়ে রেখেছেন, তাদের ন্যারেটিভ টিকিয়ে রাখছেন। অনেকেই বলছেন, আপনি আসলে একজন ‘গুপ্ত আওয়ামী লীগার’। বিষয়টি আপনি কীভাবে দেখেন?
রুমিন: যদি তাদের সব অভিযোগই সত্য ধরে নিই—যে আমি আওয়ামী লীগকে বাঁচিয়ে রেখেছি, তাদের ন্যারেটিভ টিকিয়ে রেখেছি—তাহলে সম্ভবত আমি একটা লাইফ সাপোর্ট মেশিনের মতো। বিএনপি আইসিইউতে গেলে আমি বিএনপিকে বাঁচাই, আর আওয়ামী লীগ আইসিইউতে গেলে আওয়ামী লীগকে বাঁচাই।
খালেদ: বিএনপিকে বাঁচানোর চেষ্টা করাটা তো স্বাভাবিক, কারণ আপনি বিএনপির রাজনীতি করেন। কিন্তু আওয়ামী লীগ তো করেন না। নাকি গোপনে আওয়ামী লীগ করেন?
রুমিন: না, আমি আওয়ামী লীগ করি না। অবশ্যই করি না। তবে আমি আগেও বলেছি, আপনার প্রতিপক্ষের হাত থেকে তলোয়ার পড়ে গেলে তখন তাকে আঘাত করা সবচেয়ে বড় কাপুরুষতা। আমি তখনই কাউকে বীর বলব, যখন তিনি তার প্রতিপক্ষকে তার সর্বোচ্চ শক্তির অবস্থায় মোকাবিলা করবেন। আওয়ামী লীগ যখন সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে ছিল, তখন আজ যারা এসব মন্তব্য করছেন, তাদের নিয়ে কিছু বলা কি ঠিক হবে?
খালেদ: তাহলে কি আপনার বক্তব্যগুলো এখন আওয়ামী লীগের পক্ষে যাচ্ছে, কারণ আপনি যার প্রতি অন্যায় হচ্ছে, তার পক্ষেই কথা বলছেন?
রুমিন: একদম। বিষয়টা খুবই সহজ।
খালেদ: কিন্তু অনেকের প্রশ্ন হলো—আওয়ামী লীগ যদি এত বছর ধরে অন্যায় করে থাকে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ন্যায়বিচারের বদলে কঠোর আচরণ করা ভুল কেন? অনেকেই আমাকে এমন প্রশ্ন করেন।
রুমিন: ঘৃণার জবাবে যদি ঘৃণাই শুরু করেন, তাহলে শেষ পর্যন্ত শুধু ঘৃণারই চর্চা হবে। যেমন বলা হয়, ‘An eye for an eye makes the whole world blind.’ আমি সেই পথে যেতে চাই না। আপনি যদি আওয়ামী লীগের চেয়ে ভালো হতে চান, তাহলে আওয়ামী লীগকে সরিয়েছেন কেন? কারণ তারা খারাপ ছিল। এখন আপনি যদি একই কাজ করেন—মিথ্যা মামলা দেন, গায়েবি মামলা দেন, শিরীন শারমিন চৌধুরীর মতো একজনকে এই বয়সে খুনের মামলায় মাটিতে ফেলে দেন—তাহলে পার্থক্য কোথায়?
বিরোধী দলের নেত্রী খালেদা জিয়াকে যখন হেনস্তা করা হয়েছিল, তখন যদি সেটি আমাদের কষ্ট দিয়ে থাকে, তাহলে আজ অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের কাউকে একইভাবে হেনস্তা করা হলে তারও প্রতিবাদ করতে হবে। তা না হলে আগের প্রতিবাদও আর নৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য থাকে না। ব্যক্তি দেখে যদি আমি প্রতিবাদ বেছে নিই, তাহলে আমি আসলে ন্যায়কে সমর্থন করছি না; আমি শুধু ব্যক্তি বেছে অবস্থান নিচ্ছি। আমি সেটা করতে চাই না, খালেদ ভাই।













































