প্রচ্ছদ জাতীয় পুলিশের অভিযানে ছাদ থেকে পড়ে ছাত্রদল নেতার মৃত্যু নিয়ে রহস্য

পুলিশের অভিযানে ছাদ থেকে পড়ে ছাত্রদল নেতার মৃত্যু নিয়ে রহস্য

ঢাকার সাভারে পুলিশি অভিযানে ছাদ থেকে পড়ে মো. মনোয়ারুল নামে ছাত্রদলের এক নেতার মৃত্যু নিয়ে রহস্য সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে সাভারের বাংলাদেশ লোক প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (বিপিএটিসি) এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এদিকে নিহতের পরিবারের দাবি, পুলিশ তাকে ধাক্কা দিয়ে নিচে ফেলে দিয়েছে।

সাভারের বাংলাদেশ লোক প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (বিপিএটিসি) এলাকায় পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ভবনের ছাদে নেওয়ার পর ছাদ থেকে পড়ে মো. মনোয়ারুল নামে সাভার ইউনিয়ন ছাত্রদল নেতার মৃত্যুর ঘটনায় রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র ও পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, রংপুর থেকে আসা পুলিশের একটি দল সাভার থানার দুই সদস্যকে সঙ্গে নিয়ে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে বিপিএটিসি এলাকায় যায়। পরে ছাত্রদল নেতা মনোয়ারুলকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একটি পাঁচতলা ভবনের ছাদে নেওয়া হয়। কিছুক্ষণ পর তিনি ছাদ থেকে নিচে পড়ে গুরুতর আহত হন।

অভিযোগ রয়েছে- মনোয়ারুলকে উদ্ধার না করে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যরা দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন।

নিহতের পরিবারের অভিযোগ, এটি কোনো দুর্ঘটনা নয়, বরং তাকে জিজ্ঞাসাবাদের নামে পরিকল্পিতভাবে ধাক্কা দিয়ে নিচে ফেলে হত্যা করা হয়েছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের বিচারের দাবি জানিয়েছেন।

পুলিশ জানায়, রংপুর থেকে আসা পুলিশ সদস্যরা একটি মামলা তদন্তে এসে বিষয়টি সাভার মডেল থানাকে জানান। তাদের সহযোগিতা নিয়ে একটি মেয়েঘটিত মামলার তদন্তে বিপিএটিসিতে যান; কিন্তু ওই ছাত্রের মৃত্যুর খবর পেয়ে তারা সাভার থানা পুলিশকে অবহিত না করেই এলাকা ত্যাগ করেন।

এ বিষয় সাভারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম শুক্রবার সকালে যুগান্তরকে জানান, রংপুরের চৌগাছার একটি অপ্রাপ্ত বয়স্ক মেয়ের মিসিং মামলার তদন্তে সাভার আসে রংপুর পুলিশের একটি দল। তারা গভীর রাতে সাভার পুলিশের একটি টিমের সহায়তায় বিপিএটিসিতে যায়। ছাত্রদলের ওই নেতাকে ভবনের ছাদে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের সময় তিনি ছাদ থেকে পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হন। এ সময় পুলিশ এ ঘটনার পর দ্রুত স্থান ত্যাগ করলে স্বজনরা আহতকে নিয়ে স্থানীয় হাসপাতালে গেলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।

তিনি বলেন, রংপুরের মিসিং হওয়া ওই মেয়েটি মৃতের ভাগ্নের সঙ্গে সাভারে পালিয়ে আসে। পুলিশি অভিযানের আগেও তারা দুইজন ওই বাড়িতেই ছিল; কিন্তু অভিযানের পর তারা পাশের অন্য বাড়িতে আত্মগোপন করাতে মনোয়ারুলকে জিজ্ঞাসাদের জন্য পুলিশ আটক করে।

জাহাঙ্গীর আলম আরও বলেন, এ বিষয়টি পুলিশ সুপার শামীমা পারভীনকে জানালে তিনি এখানে কারো দায়িত্বে অবহেলা হয়েছে কিনা তদন্তে করতে নির্দেশনা দিয়েছেন এবং তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দিয়েছেন। সকালে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকার সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় এখনো কোনো হত্যা মামলা হয়নি। তবে একটি ইউডি মামলা ও জিডি লিপিবদ্ধ করা হয়েছে।

ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্তের দাবি উঠিয়েছেন পরিবারের সদস্যরাও।