
চলতি ফুটবল বিশ্বকাপে বর্তমান শিরোপাধারী আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে রেফারিদের পক্ষপাতের অভিযোগ তুলে তাদের টুর্নামেন্ট থেকে বহিষ্কারের দাবিতে সরব হয়েছেন ফুটবল ভক্তদের একটি বড় অংশ। অনলাইনে শুরু হওয়া এই পিটিশনে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ৭৮ লাখেরও বেশি মানুষ সই করেছেন, যা ফুটবল বিশ্বে রীতিমতো আলোচনার ঝড় তুলেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের আটালান্টা স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় বুধবার (১৫ জুন) রাত ১টায় ২০২৬ বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনা। তবে হাইভোল্টেজ এই ম্যাচের আগেই আলবিসেলেস্তেদের বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেয়ার বিতর্ক চরম আকার ধারণ করেছে। তবে এ আবেদনে অবশ্য এখন পর্যন্ত কেউ সাড়া দেয়নি।
অভিযোগ উঠেছে যে, নকআউট পর্বে মিশর ও সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার সাম্প্রতিক জয়গুলো বিতর্কিত সিদ্ধান্তের ওপর ভিত্তি করে এসেছে। এছাড়া, আলজেরিয়ার বিপক্ষে টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে লিওনেল মেসির বিরুদ্ধে গুরুতর ফাউলের অভিযোগ উঠলেও রেফারি তাকে কার্ড দেখাননি—এমন দাবিও জোরালো হয়েছে।
চীনা সংবাদমাধ্যম সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের একটি প্রতিবেদন বলা হয়, ‘আর্জেন্টিনা আউট ডটকম’ (ArgentinaOut.com) নামের একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ থেকে বহিষ্কারের এই প্রচারণা চালানো হচ্ছে।
তাদের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘এটি স্পষ্ট যে ফিফা এবং রেফারিরা লিওনেল মেসি ও আর্জেন্টিনার প্রতি পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ করছে। জয়ী যদি আগেই নির্ধারিত হয়ে থাকে, তবে বাকি বিশ্বের আর প্রতিযোগিতা করার প্রয়োজনীয়তা কী? আমরা দাবি জানাই, আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ থেকে বহিষ্কার করা হোক এবং বাকি দলগুলোকে একটি ন্যায্য সুযোগ দেয়া হোক।’
আর্জেন্টিনার পারফরম্যান্স এবং রেফারিদের ভূমিকা নিয়ে মাঠের বাইরে এই তুমুল বিতর্কের মধ্যেই আজ রাতে মাঠে গড়াচ্ছে ইংল্যান্ড-আর্জেন্টিনা মহারণ। ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ কেন্দ্রিক রাজনৈতিক বৈরিতা এবং ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপে দিয়েগো ম্যারাডোনার বিতর্কিত ‘হ্যান্ড অব গড’ গোল—এই দুইয়ের মিশেলে দুই দেশের ফুটবল দ্বৈরথ সবসময়ই উত্তেজনার পারদ বাড়িয়ে দেয়।
ম্যারাডোনার সেই বিখ্যাত ঘটনার ঠিক ৪০ বছর পর আজ আবারও মুখোমুখি হচ্ছে ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনা। একদিকে লিওনেল মেসির একক নৈপুণ্যে টানা দ্বিতীয় শিরোপার স্বপ্ন দেখছে আর্জেন্টিনা, অন্যদিকে বিতর্ক আর চাপের মুখে পড়া বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা এই ম্যাচে কেমন প্রভাব ফেলে—তা দেখতেই এখন তাকিয়ে আছে গোটা বিশ্ব।













































