
রাজধানীর বকশীবাজার এলাকার সরকারি মাদ্রাসা-ই-আলিয়া (ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসা) ক্যাম্পাসে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদের মধ্যে কয়েক ঘণ্টা ধরে দফায় দফায় পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে শিবির কর্মীরা এলাকা ত্যাগ করেন। এরপর ছাত্রদল ও যুবদলের নেতা-কর্মীরা মাদ্রাসার একমাত্র আবাসিক হল আল্লামা কাশগরী (রহ.)-এ ঢুকে ব্যাপক ভাঙচুর চালান এবং শিক্ষার্থীদের বের করে দিয়ে ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও দলীয় সূত্রে জানা যায়, হলে প্রবেশের পর ছাত্রদল ও যুবদলের নেতা-কর্মীরা ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে শিবিরের নিয়ন্ত্রণে থাকা বেশ কয়েকটি কক্ষ ভাঙচুর করেন। এ সময় বাধা দিতে গেলে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মোহাম্মদ ওবায়দুল হককে লাঞ্ছিত করেন তাদের কয়েকজন। পরে হলে অবস্থানরত সাধারণ শিক্ষার্থীদের বের হয়ে যেতে বাধ্য করা হয়।
যুবদলের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সদস্যসচিব রবিউল ইসলাম নয়নের নেতৃত্বে ছাত্রদল ও যুবদলের কয়েক শ নেতাকর্মী হলে প্রবেশ করেন। এ সময় পুলিশ সদস্যরা বাইরেই অবস্থান করছিলেন। হলের ফটকে তালা লাগানোর বিষয়ে আলিয়া মাদ্রাসার ফাজিল প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল নেতা মো. ইব্রাহীম বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থেই আমরা হল তালাবদ্ধ করেছি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পরে খুলে দেওয়া হবে।’
এই সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৫৫ জন নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। ইসলামী ছাত্রশিবিরের ঢাকা মহানগর পূর্বের প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক দাউদ খান জানিয়েছেন, যুবদল ও ছাত্রদলের ‘সন্ত্রাসী হামলায়’ তাদের ২৫ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে ফুয়াদ নামের এক কর্মীর অবস্থা সংকটাপন্ন, তার মাথায় ১২টি সেলাই দেওয়া লেগেছে।
অন্যদিকে, ছাত্রদলের ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসা শাখার নেতা সাদ চৌধুরী দাবি করেছেন, শিবিরের হামলায় তাদের ৩০ জনের বেশি নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন। এর মধ্যে ছাত্রদল ও যুবদলের দুজনের অবস্থা গুরুতর।
সংঘর্ষের সূত্রপাত মূলত সকালের দিকে। জুলাই অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত একটি সেমিনারকে কেন্দ্র করে ছাত্রশিবির ও জাতীয় ছাত্রশক্তির মধ্যে উত্তেজনার রেশ আলিয়া মাদ্রাসায় এসে পড়ে। বেলা ৩টার দিকে প্রথম দফায় ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া শুরু হয়। এর কিছুক্ষণ পর মাদ্রাসার সামনের সড়কে যান চলাচল শুরু হলেও বিকেল সোয়া ৫টার দিকে ফের দ্বিতীয় দফায় বড় ধরনের সংঘর্ষ বাধে। প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে দুই পক্ষের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া চলতে থাকে। ওই সময় ৭-৮টি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে এবং এলাকাটি রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। পুলিশ সদস্যরা দুই পক্ষের মাঝে অবস্থান নিলেও শুরুতে তাদের সংখ্যা কম থাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হন। পরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
ঘটনার প্রেক্ষাপট বর্ণনা করে ছাত্রশিবিরের আলিয়া মাদ্রাসা শাখার সভাপতি আবদুল আলিম জানান, দুপুরে হঠাৎ ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা হলে ঢুকে তাদের মারধর করে এবং শিবিরের কয়েকটি রুমে তালা দেয়। এরপর তারা ছাত্রদলকে ধাওয়া দিয়ে হল থেকে বের করে দেন। পরে ছাত্রদল দলবল নিয়ে এলে সংঘর্ষ বাধে।
অন্যদিকে ছাত্রদল নেতা সাদ চৌধুরীর ভাষ্য, ৫ আগস্টের পর থেকে শিবিরের নেতা-কর্মীরা হলের বেশ কয়েকটি কক্ষ দখল করে রেখেছেন। গতকাল রাতে তারা বহিরাগতদের হলে এনে রাখেন এবং আজ সকালে ছাত্রদলের একটি রুমে তালা দেন। এরপর ছাত্রদল পাল্টা তালা লাগালে শিবিরের সঙ্গে মারামারি শুরু হয়।
বর্তমানে পুরো বকশীবাজার ও আলিয়া মাদ্রাসা এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে এবং সেখানে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।












































