
ভোলার চরফ্যাশনে বালুভর্তি ট্রলির ধাক্কায় দশম শ্রেণির এক মাদ্রাসাছাত্রী নিহত হওয়ার ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়ে সহপাঠীরা। পরে তারা নিহতের মরদেহ কাঁধে নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধ করে ঘাতক চালকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং নিরাপদ সড়কের দাবি জানান।
বুধবার (১ জুলাই) সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটের দিকে উপজেলার শশীভূষণ থানার চেয়ারম্যান বাজার-শশীভূষণ আঞ্চলিক সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত লিয়া আক্তার (১৫) হাজারীগঞ্জ ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা শফিক আহমেদের মেয়ে। সে চেয়ারম্যান বাজার ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার দশম শ্রেণির ছাত্রী ছিল।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, প্রতিদিনের মতো সকালে লিয়া মাদ্রাসার উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হয়। চেয়ারম্যান-শশীভূষণ আঞ্চলিক সড়কে পৌঁছালে পেছন দিক থেকে দ্রুতগতিতে আসা বালুভর্তি একটি ট্রলি তাকে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার পরপরই ট্রলিচালক পালিয়ে যান।
এ ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে মাদ্রাসার শিক্ষার্থী, শিক্ষক, স্বজন ও এলাকাবাসী ঘটনাস্থলে জড়ো হন। পরে সহপাঠীরা লিয়ার মরদেহ কাঁধে নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল বের করে এবং চেয়ারম্যান-শশীভূষণ আঞ্চলিক সড়ক অবরোধ করে। এ সময় তারা ‘বোনের হত্যার বিচার চাই’, ‘ঘাতক চালকের শাস্তি চাই’, ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ ইত্যাদি স্লোগান দেয়। এতে সড়কের উভয় পাশে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
খবর পেয়ে শশীভূষণ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আলোচনা করে সড়ক থেকে অবরোধ তুলে দেওয়া হয় এবং মরদেহের আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।
শশীভূষণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফিরোজ হাসান জানান, এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। একটি অপমৃত্যু মামলা রুজু করা হয়েছে। পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। একই সঙ্গে দুর্ঘটনায় জড়িত ট্রলিটি জব্দ করা হয়েছে। তবে চালক পলাতক থাকায় তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।











































