প্রচ্ছদ জাতীয় চোখের দেখাই সত্যি নয়, না জেনে ভদ্রমহিলাকে কেন ভিলেন বানাচ্ছেন?

চোখের দেখাই সত্যি নয়, না জেনে ভদ্রমহিলাকে কেন ভিলেন বানাচ্ছেন?

ভাই বড় ধন রক্তের বাঁধন/ যদিও পর হয় নারীর কারণ।’ এই কথা দিয়ে কেন শুরু করলাম; সেই কথায় পরে আসি। বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়া কাউকে জিরো থেকে হিরো বানায়। আবার কাউকে হিরো থেকে জিরো বানিয়ে দেয় মুহূর্তের মধ্যেই। কারো জীবন বিষিয়ে তোলে। কাউকে মৃত্যুর দিকে দেয় ঠেলে। কারো আবার মান-সম্মান ধুলায় যায় মিশে। এককথায় বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়া এক ভয়াবহ অবস্থা!

এই যে দেখুন, আজকে এই ভিডিওটি ভাইরাল হয়েছে এবং ভাইরাল করেছেন এই বয়স্ক অসুস্থ ব্যক্তিটির ছেলের বউ। আর বর্তমানে ছেলের বউ মানেই দজ্জাল। এদের কারণেই প্রত্যেকটা ফ্যামিলিতে সমস্যা। আর মা-বাবারও অনাদার-অবহেলায় ইহকাল ত্যাগ করতে হয়। সমাজে এ রকম হাজারটা প্রমাণ আছে।

এক বৃদ্ধাশ্রমে গেলেই দেখতে পাবেন, শুনতে পাবেন কত কত মা-বাবাদের কত করুণ কাহিনি! অবশ্যই সব ছেলের বা সব বাড়ির বউয়েরা খারাপ নয়। নিশ্চয়ই অনেক ভালো মেয়ে, ভালো বউ আছেন। তবে সংখ্যায় খুবই কম। সোশ্যাল মিডিয়ায় কারো জীবন বিষিয়ে তুলতে বা কাউকে মেরে ফেলতে কিংবা কারো মান-সম্মান শেষ করে দিতে আপনারা দর্শক-পাঠকই কিন্তু মূল ভূমিকা পালন করেন এবং আপনাদের নির্বুদ্ধিতাই দায়ী অনেকাংশে।

কারণ চোখের সামনে যা দেখেন; সেটা দিয়েই জাজ করে বা বিচার-শাস্তি সব দিয়ে ফেলেন। একবারও গভীরে গিয়ে অন্তর্দৃষ্টি দিয়ে বোঝার চেষ্টা করেন না যে, এখানে কি কাহিনি হতে পারে বা কতটুকু সত্যতা থাকতে পারে। আজকের ভিডিওটি ধারণ করেছে ওই বয়স্ক অসুস্থ লোকটির ছেলের বউ। যেখানে ব্লেইম দেওয়া হয়েছে মেয়েকে। যে জমি লিখে নিচ্ছেন। আর অমনি আপনারা সব বিশ্বাস করলেন? সমানে সেই ভিডিও শেয়ার করে যাচ্ছেন? কেউবা নারীটিকে দোষী সাব্যস্ত করে মনগড়া কথা লিখেছেন। কাউকে চেনেন না জানেন না, এমনকি কারো সম্পর্কে কোনো ধারণাও নাই। তাহলে আপনারা কিভাবে বুঝলেন যে, ওই মেয়েটি দোষী? আর ছেলের বউ সত্য কথা বলেছেন?

কেমন আছেন এক বছর আগে ভাইরাল হওয়া সেই বাবা-মেয়ে
এমনো তো হতে পারে, ছেলে এবং তার বউ ওই ভদ্রলোককে দেখাশোনা করছেন না। এটাই তো বর্তমানে হয়। আর অনেক ভাইয়েরাও বোনদের ঠকান বউয়ের পরামর্শে বাপের সম্পত্তি থেকে। সেই কথাই আমি শুরুতে লিখেছি। কাজেই পুরো বিষয়টি না জেনে আন্দাজে একজন ভদ্রমহিলাকে কেন আপনারা ভিলেন বানাচ্ছেন? কোনো মেয়ে কি কখনোই মা-বাবার সাথে খারাপ আচরণ করেন? খুব একটা না। দুই-একটা হয়তো ব্যতিক্রম থাকতে পারে।

আমি তো মনে করি, যেসব পেজে ওই ভদ্রমহিলাকে নিয়ে মনগড়া কথা লিখেছে প্রত্যেকের নামে মানহানির মামলা দায়ের করা উচিত। যেহেতু সেই সব লেখাগুলো শত শত শেয়ার হয়েছে। অনেকেই ভদ্রমহিলাকে গালাগাল করেছে, যা এখনো চলমান। কারণ ভিডিওটি আমি সকালে দেখেছি এবং তখনই বুঝতে পেরেছি এখানে ‘কিছু কিন্তু’ রয়েছে। যেহেতু ছেলের বউ আছে। এবং ভিডিওটি করেছেও ছেলের বউ। যা কথায় বোঝা গেল।

এমনিতেও কিছু একটা দেখলেই কখনোই আমি হুট করে বিশ্বাস করি না অন্যের দেখা চোখে। কেন সব সময়ই অন্যের চোখে দেখতে হবে? অন্যের বলা কথা বিশ্বাস করতে হবে? নিজের বোধবুদ্ধি তাহলে কী জন্য? আমার এই পোস্টের কমেন্ট বক্সে তার ছেলে মন্তব্য করেছেন। তিনি ডাক্তার এবং বাবার দেখাশোনা নিজেই করেন। আরও অনেক কাহিনি। এই অংশটি আমি এখন এডিট করে জুড়ে দিলাম মন্তব্যটি দেখার পরে। যাতে আপনারা মন্তব্যটি খুঁজে এখান থেকে পড়তে পারেন।

আবার ভাই যদি বোনদের ঠকিয়ে বাবার সম্পত্তি নিয়ে থাকে, তাহলে বোন নিলে দোষের কেন হবে? তবে ভালো মানুষ দেখলেই কিছুটা হলেও বোঝা যায়। যেমন এই নারীটিকে আমার কাছে নির্দোষ মনে হচ্ছে। আপনারা কেন না জেনে-বুঝে আন্দাজে একজন ভদ্রমহিলাকে সমাজের চোখে দোষী সাব্যস্ত করলেন? তার বাবা তো একবারও বলেননি ভিডিওতে যে মেয়ের দোষ? কিংবা বাবাকে রাগান্বিতও মনে হয়নি?

আবার ভিডিওটিতে কি কেউ দলিল দস্তাবেজ খাতাপত্র কিছু দেখেছেন? নাকি শুধু ভিডিও ধারণ করা এক নারীর মুখে শুনেছেন? যদি না দেখে থাকেন, তাহলে কোন প্রেক্ষিতে একজন ভদ্রমহিলা যিনি পেশায় ডাক্তার; তাকে আপনারা দোষারোপ করলেন? একটা কিছু দেখেই বিশ্বাস করে কাউকে দোষারোপ করার এই ধরনের মানসিকতা থেকে সবাই বেরিয়ে আসুন। সত্যটা জানার চেষ্টা করুন এবং ন্যায়ের পথে মজলুমের পাশে থাকুন।

মন্তব্যের ঘরে বেশ কয়েকটি মন্তব্য দেওয়া আছে। যেখানে আরও বিস্তারিত লেখা আছে। বিশেষ করে যারা ভদ্রমহিলাকে ব্যক্তিগত ভাবে চেনেন। ভদ্রমহিলার ছেলেটি মেবি কলেজ-ইউনিভার্সিটিতে পড়াশোনা করছেন। প্রোফাইল পিক দেখে সেটাই মনে হলো। তার মন্তব্যটি পিন করে দেওয়া হয়েছে প্রথম কমেন্টে। তিনি বিস্তারিত লিখেছেন। আমার লেখাটিও ছিল সেই একই উদ্দেশ্যে যে, ওই ভদ্রমহিলা কারো না কারো চোখে পড়বেন এবং সত্যটা জানা যাবে।