প্রচ্ছদ জাতীয় জালিয়াতি করে কর্মচারী নিয়োগ, ফেঁসে গেলেন ৩ মাদরাসাপ্রধান

জালিয়াতি করে কর্মচারী নিয়োগ, ফেঁসে গেলেন ৩ মাদরাসাপ্রধান

ভোলার লালমোহন ও চরফ্যাশন উপজেলায় ভুয়া নিয়োগ বোর্ড গঠন করে কর্মাচারী নিয়োগের দায়ে তিন মাদরাসার প্রধানের এমপিও (বেতন-ভাতা) সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তর। একই সঙ্গে কেন তাদের এমপিও (বেতন-ভাতা) স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হবে না সে বিষয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

গত ২৯ জুন মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (অর্থ) এবং এমপিও বাছাই ও অনুমোদন কমিটির সদস্যসচিব মোহাম্মদ শুকুর আলম মজুমদার সই করা চিঠিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।

এরা হলেন লালমোহন মুসলিমিয়া আলিম মাদরাসার অধ্যক্ষ মো. মোস্তফা কামাল জাফরী, চরফ্যাশনের পূর্ব ফরিদাবাদ ইউনুছিয়া জিহাদুল উলুম দাখিল মাদরাসার সুপার মুহাম্মদ জাফর উদ্দিন ও চর শশীভূষণ হোসাইনিয়া দাখিল মাদরাসার সুপার মো. ওমর ফারুক।

আরো পড়ুন
ফরিদপুরে ২ পক্ষের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ তরুণের মৃত্যু, সড়ক অবরোধ বিক্ষুব্ধ জনতার
ফরিদপুরে ২ পক্ষের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ তরুণের মৃত্যু, সড়ক অবরোধ বিক্ষুব্ধ জনতার

মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের অর্থ শাখার ওই চিঠি সূত্রে জানা যায়, অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের প্রতিনিধির জাল চিঠি তৈরি ও জাল সই দিয়ে ভুয়া নিয়োগ বোর্ড গঠন করে লালমোহন মুসলিমিয়া আলিম মাদরাসার অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে মো. সাকিল নামের একজনকে অবৈধভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়। একইভাবে জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে চরফ্যাশনের পূর্ব ফরিদাবাদ ইউনুছিয়া জিহাদুল উলুম দাখিল মাদরাসায় ল্যাব সহকারী পদে মো. মিরাজ হোসন এবং একই উপজেলার চর শশীভূষণ হোসাইনিয়া দাখিল মাদরাসায় গবেষণাগার/ল্যাব সহকারী পদে আফফান নামের একজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়।

পরবর্তীতে অবৈধভাবে নিয়োগ দেওয়া এসব কর্মচারীদের এমপিওভুক্তির জন্য কাগজপত্র মাদরাসা অধিদপ্তরে পাঠানো হয়।
এমপিও নীতিমালা অনুযায়ী, এমপিও বাছাই ও অনুমোদন কমিটি জুন মাসের এমপিওর আবেদন যাচাই করলে এদের কাগজপত্র জাল পাওয়া যায়। এতে সংশ্লিষ্ট মাদরাসার প্রধানদের এমপিও সাময়িক স্থগিত করে কেন তাদের এমপিও স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হবে না মর্মে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়। নোটিশে আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে এ বিষয়ে সন্তোষজনক লিখিত জবাব দেওয়ার কথাও বলা হয়।

এই চিঠির অনুলিপি সংশ্লিষ্ট উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস ও মাদরাসার সভাপতিকে দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে লালমোহনের মুসলিমিয়া আলিম মাদরাসার অধ্যক্ষ মো. মোস্তফা কামাল জাফরী সাংবাদিকদের জানান, তদবির ছাড়া বিল পাঠালে এ রকম করে। জালিয়াতির বিষয়টি দেখা যাক কি হয়। আমার কাছে ডিজি প্রতিনিধির চিঠির স্মারক নাম্বার আছে। কারণ দর্শানোর বিষয়টি চ্যালেঞ্জ করা হবে।

অপর দুই মাদরাসার সুপারের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করলেও তারা রিসিভ না করায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

চরফ্যাশন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ও লালমোহনের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকামীর এ কে এম আবুল খায়ের বলেন, বিভিন্ন লোকের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরেছি। এ বিষয়ে অধিদপ্তর তাদের লিখিতি জবাব দিতে বলেছে। লিখিত জবাব সন্তোষজনক না হলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

google news