
লক্ষ্মীপুর পৌর শহরের শাহপুর এলাকায় অন্তঃসত্ত্বা এক কলেজছাত্রীসহ যুবদল নেতার পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে বিএনপি নেতা আবু সাইদ ও তার ছেলে সাবেক ছাত্রদল নেতা ও স্থানীয় এমপি এ্যানি চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ সহচর শাহাদাত জুবায়েরসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নাজমুন নাহার পুষ্পা বাদী হয়ে আবু সাইদ (৬০), শাহাদাত জুবায়েরসহ (৩৫) সাতজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন। একই ঘটনায় সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে লক্ষ্মীপুর শহরের একটি চাইনিজ রেস্টুরেন্টে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, শাহপুর এলাকায় ভাড়া বাসা পরিবর্তনের বিষয়ে বাড়ির মালিক পান্নাকে আগে থেকেই অবহিত করা হয়েছিল। গত ৩০ জুলাই হঠাৎ বাড়ির মালিক বাসায় এসে উচ্চবাচ্য শুরু করলে একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ সময় বিএনপি নেতা আবু সাইদ, তার ছেলে সাবেক ছাত্রদল নেতা এবং স্থানীয় এমপি এ্যানি চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ সহচর শাহাদাত জুবায়েরসহ কয়েকজন লোক বাসায় ঢুকে অতর্কিত হামলা চালান বলে অভিযোগ করেন তারা।
তাদের অভিযোগ, হামলার একপর্যায়ে অন্তঃসত্ত্বা কলেজছাত্রী ঋতি আক্তারকে মারধর করেন আবু সাইদ। তাকে বাধা দিতে গেলে তিনি ‘এমন চার-পাঁচজন মরলে কিছু হবে না’ বলেও মন্তব্য করেন বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়।
পরে ঋতি আক্তার অসুস্থ হয়ে পড়লে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেন বলে জানান স্বজনরা।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, ঢাকায় নেওয়ার প্রস্তুতির সময় ঋতি আক্তারের স্বামী ও যুবদল নেতা সাব্বির হোসেন মোহন জামাকাপড় নিতে বাড়িতে গেলে পুলিশ তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পরে প্রায় ১১ ঘণ্টা তাকে থানায় আটকে রাখা হয়। কোনো মামলা বা অভিযোগ ছাড়াই তাকে দীর্ঘ সময় আটকে রাখার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
সাব্বির হোসেন মোহন বলেন, ‘আমার পরিবারের ওপর এমন নৃশংস হামলার পরও কোনো মামলা বা অভিযোগ ছাড়া আমাকে কেন দীর্ঘ সময় আটক করে রাখা হলো, আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।
থানায় আটকে রাখার ঘটনায় লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওয়াহেদ ফারভেজের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন বলেও জানান তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে শাহাদাৎ জোবায়ের বলেন, আমাদের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ মিথ্যা। এটি ষড়যন্ত্রের অংশ।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী বলেন, ওসির বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ আমরা এখনো পাই নি। ডিআইজি কার্যালয় থেকে যদি আমাদের কাছে আসে তাহলে আমরা সেটি তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।











































