প্রচ্ছদ জাতীয় বিএনপি ও সরকারের শূন্য পদ নিয়ে আলোচনা

বিএনপি ও সরকারের শূন্য পদ নিয়ে আলোচনা

রাষ্ট্রপতি পদে বসছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এখন বাকি শুধু আনুষ্ঠানিকতা। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরের পর শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাকে দলীয় মনোনয়ন দেন। পরে নির্বাচন কমিশনে রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুলের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়। সংসদে বিএনপির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় মির্জা ফখরুলই দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হতে যাচ্ছেন। তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে দল ও সরকারের তিনটি (ঠাকুরগাঁও-১ আসন, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব) গুরুত্বপূর্ণ পদ ফাঁকা হবে।

বিএনপি ও সরকার সূত্র বলছে, রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচনের আগেই গতকাল দলের মহাসচিব ও স্থায়ী কমিটির সদস্যপদ ছেড়েছেন মির্জা ফখরুল। স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর পদও ছাড়বেন শিগগির। আর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে মির্জা ফখরুলের ঠাকুরগাঁও-১ আসন শূন্য ঘোষণা করবে সংসদ সচিবালয়। এরপর ওই আসনে উপনির্বাচন হবে। মির্জা ফখরুলের রাষ্ট্রপতি হওয়ার সম্ভাবনা যতই স্পষ্ট হচ্ছে, ততই সামনে আসছে বিএনপির মহাসচিব পদে তার উত্তরসূরি হিসেবে কে আসছেন। কারা আসছেন দল ও সরকারের শূন্য পদে।

মির্জা ফখরুল ২০১১ সালে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হন। এর পর ২০১৬ সালে দলের জাতীয় কাউন্সিলে আনুষ্ঠানিকভাবে মহাসচিব নির্বাচিত হন। বিএনপি চেয়ারপারসন কারাগারে যাওয়ার পর ২০১৮ সাল থেকে দলের হাল ধরেন মির্জা ফখরুল। তারেক রহমান লন্ডনে নির্বাসিত জীবনে নেতৃত্বের ভূমিকায় থাকলেও দেশে আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে সামনে থেকে দলের আন্দোলন পরিচালনা করেছেন তিনি। ভারপ্রাপ্ত ও নির্বাচিত মহাসচিব হিসেবে টানা ১৬ বছর ধরে তিনি বিএনপির হাল ধরেছেন। দীর্ঘ এ সময়ে তিনি বিএনপির অন্যতম শীর্ষ নেতায় পরিণত হন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ছয়বার কারাগারে যান। বিগত সরকারের নানামুখী নির্যাতন ও প্রতিকূলতার মুখে দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন। রাজনীতিতে তিনি একজন গ্রহণযোগ্য নেতা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।

বিএনপির অভ্যন্তরীণ সূত্রগুলো বলছে, জাতীয় কাউন্সিলের আগে বা কাউন্সিল কেন্দ্র করে দলটি প্রাথমিকভাবে একজন ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব নিয়োগ করতে পারে। পরে জাতীয় কাউন্সিলে বা তার আশপাশের সময়ে দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক এ পদের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

মির্জা ফখরুল দলের মহাসচিবের পদ থেকে পদত্যাগ করায় ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পেতে পারেন সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। পরবর্তী সময়ে দলের জাতীয় কাউন্সিলের মাধ্যমে মহাসচিব নির্বাচন করা হবে।

এদিকে মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি পদে বসলে শূন্য হবে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রীর পদ। সেখানে দায়িত্ব পেতে পারেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি স্থানীয় সরকারে এলে স্বরাষ্ট্রের জন্য আলোচনায় রয়েছে দুজনের নাম। তারা হলেন—বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এবং যুগ্ম মহাসচিব ও পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, মন্ত্রণালয়ে রদবদল সরকারের একটি স্বাভাবিক কার্যক্রম। এ নিয়ে মন্তব্যের সুযোগ নেই।

জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি কালবেলাকে বলেন, রাষ্ট্রপতি হিসেবে যিনি আসবেন, তিনি যদি পূর্ব কোনো পদে থাকেন, তাহলে তো পদত্যাগ করবেন। সেখানে নতুন কাউকে দায়িত্ব দেওয়া হবে।

এ ছাড়া মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি হলে ঠাকুরগাঁও-১ সংসদীয় আসনে উপনির্বাচনে তার পরিবার থেকেই প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। সেই হিসেবে আলোচনায় আছেন মির্জা ফখরুলের ভাই ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমীন এবং ফখরুলকন্যা ড. শামারুহ মির্জা।