প্রচ্ছদ জাতীয় আরও এক দুঃসংবাদ পেলেন মমতা

আরও এক দুঃসংবাদ পেলেন মমতা

মমতার দলে বিপর্যয়, আরও দুই প্রভাবশালী নেতার পদত্যাগ

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের বিপর্যয়ের পর দলটিতে পদত্যাগের হিড়িক পড়েছে। তৃণমূলের নেতা-মন্ত্রী থেকে শুরু করে বিভিন্ন পৌরসভার মেয়র ও কাউন্সিলররা একে একে ইস্তফা দিচ্ছেন। সেই তালিকায় এবার যুক্ত হয়েছেন রাজ্যের দুই সাবেক প্রভাবশালী মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক ও গৌতম দেব।

রাজ্যের সাবেক খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক একসময় রেশন দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। পরে তিনি জামিনে মুক্তি পান। সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে উত্তর ২৪ পরগনার হাবড়া আসন থেকে তাকে মনোনয়ন দিয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। কিন্তু বিজেপি প্রার্থী দেবদাস মণ্ডলের কাছে তিনি পরাজিত হন। নির্বাচনে এই হারের পর শুক্রবার (১৯ জুন) তিনি দল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেছেন।

অন্যদিকে, উত্তরবঙ্গে তৃণমূলের অন্যতম প্রভাবশালী নেতা ও সাবেক মন্ত্রী গৌতম দেব শিলিগুড়ির মেয়রের দায়িত্বে ছিলেন। এবারের নির্বাচনে তিনিও বিজেপি প্রার্থী শংকর ঘোষের কাছে হেরে যান। ভোটে পরাজয়ের পর আজ শিলিগুড়ির মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন গৌতম দেব।

এর আগে বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির বড় জয়ের পরপরই কলকাতা পৌরসভার মেয়র ফিরহাদ হাকিম, বিধাননগরের মেয়র কৃষ্ণা চক্রবর্তী ও চন্দননগরের মেয়র রাম চক্রবর্তী পদত্যাগ করেন। সেই ধারাবাহিকতায় আজ গৌতম দেবও মেয়রের পদ ছাড়লেন।

১৯৯৮ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে যখন তৃণমূল কংগ্রেস গঠিত হয়, তখন থেকেই তার ছায়াসঙ্গী ছিলেন জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর তার মতো অনেকেই তৃণমূল ছেড়েছেন। তৃণমূলে দেখা দিয়েছে বিদ্রোহ। নির্বাচিত বিধায়কদের বড় অংশ আলাদাভাবে পথ চলতে চাইছেন।

রাজনৈতিক এই ধাক্কা নিজের পরিবারেও ভালোভাবেই অনুভব করছেন মমতা। মমতার ভাই বাবন বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে ভাইয়ের স্ত্রী কাজরি বন্দ্যোপাধ্যায়। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে শুভেন্দু অধিকারীকে মমতার থেকে বেশি আপন করেছেন তারা।

পরিস্থিতি যেদিকে গড়াচ্ছে তাতে চলতি বছরের শেষে অনুষ্ঠিতব্য ১২৮ পৌর নির্বাচনে প্রার্থী দেয়ার মত অবস্থায় নেই তৃণমূল কংগ্রেস। এমন পরিস্থিতিতে পৌর নির্বাচনকে সামনে রেখে ঘর গোছাতে শুরু করেছে বিজেপি। যেখানে সাফল্য পেলে বিজেপি গ্রাসরুটে প্রশাসনিক পর্যায়ে যেমন পায়ের তলায় যেমন মাটি পাবে তেমনই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক শক্তি একেবারেই তলানিতে ঠেকবে।