
আপনার সঙ্গে পিছু হটা যায় না— কথাটি বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াকে বলেছিলেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ত্যাগী নেতা হিসেবে মনোনয়নপ্রত্যাশী থাকলেও মনোনয়ন পাননি বিএনপির এ নেতা।
একান্ত এক সাক্ষাৎকারে নিজের রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন ঘটনাবলি তুলে ধরেছেন তিনি।
বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে ভালো সময় কাটানো সম্পর্কে তিনি বলেন, যখন আমি ছাত্রদলের সেক্রেটারি তখন তিনি (খালেদা জিয়া) একটি রোড মার্চে গেলেন। সে সময় নারায়ণগঞ্জের সন্ত্রাসী গডফাদার শনির আখরার পরে একটি ব্যারিকেড দিলেন। বহরের সমস্ত গাড়ি আটকা পড়ে গেল, কেউ যেতে পারছিল না। সন্ত্রাসী বাহিনী আমাদের বহরের দিকে তাক করেছিল, তখন তিনি (খালেদা জিয়া) আমাকে ডেকে বললেন যে, এই অবস্থায় অনেকে তো আমাকে ফিরে যেতে বলছে। আমি তো যেতে চাই, তুমি কী বলো? আমি বললাম, আপনার সঙ্গে পিছু হটা যায় না। আপনি আপসহীন নেত্রী। আপনি যাবেন, আমরা থাকবো। অবশেষে ওই সন্ত্রাসের মুখোমুখী দাঁড়িয়ে আমরা যে যাত্রা শুরু করেছিলাম, সে যাত্রা আমরা অব্যাহত রেখেছিলাম এবং বন্দুকের নল আমাদের কাছে পরাজিত হয়েছে। এরকম বহু ঘটনা আছে, একবার চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে তাকে (খালেদা জিয়া) আটকে ফেলল। সন্ত্রাসীরা গোলাগুলি শুরু করল, এই অবস্থায় আমরা চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ থেকে আমরা তাকে বের করে এনেছিলাম। এটা আমার একটা মানসিক শান্তি ছিল।
বেগম খালেদা জিয়া ভীষণ পছন্দ করতো এ সম্পর্কে তিনি বলেন, নেত্রীর কাছে আমাকে কখনো ব্যক্তিগতভাবে কিছু চাইতে হয় নাই, দল, পদ, পদবি সব তিনি আমাকে দিয়েছেন এবং তার যে জিনিসটা আমার সবচেয়ে ভালো লাগতো- শি ওয়াজ নেভার এ হিপোক্রেট, হিপোক্রেসি তার সঙ্গে যায় না। তিনি (খালেদা জিয়া) একদম সরল মনের মানুষ ছিলেন, যেটা ফিল করতেন, সেটাই বলতেন এবং সেটাই করতেন। আমাদের কাছে একটা খোলা বইয়ের মতো। আমরা তার মুখ দেখলেই বুঝতে পারতাম কী চাচ্ছেন, আর কিছু বলা লাগতো না।
বিএনপির এই নেতা বলেন, তিনি (খালেদা জিয়া) তার মতামত আমাদের সঙ্গে শেয়ার করতেন নিশ্চিন্তে এবং আমাদের মতামতকে তিনি সবসময় প্রাধান্য দিয়েছেন। আমরা তার জন্যে সর্বোচ্চ ঝুঁকি নিয়েছি এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জন্যও আমরা সর্বোচ্চ ঝুঁকি নেওয়ার জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত আছি।












































