প্রচ্ছদ জাতীয় সংসদ ভবন থেকে উধাও ১৩৪৩ কপার বার!

সংসদ ভবন থেকে উধাও ১৩৪৩ কপার বার!

saiful amin kazal _2017

রাষ্ট্রের সবচেয়ে সুরক্ষিত স্থাপনাগুলোর একটি জাতীয় সংসদ ভবন। সেই সংসদ ভবনের স্টোররুম থেকেই উধাও ১ হাজার ৩৪৩টি কপার বাসবার। সরকারি হিসাবে যার মূল্য ২ থেকে আড়াই কোটি টাকা। কিন্তু এ বিপুল পরিমাণ ভারী ধাতব সরঞ্জাম কীভাবে গায়েব হলো, তা জানেন না দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারাও। কেউ বলছেন স্টোরে ছিল, কেউ বলছেন বুঝে পাননি, আবার কেউ দায় চাপাচ্ছেন অধস্তন কর্মকর্তার ওপর। অথচ কাগজে-কলমে সব ঠিকঠাক।

৭১ কোটি টাকার সাব-স্টেশন উন্নয়ন প্রকল্পে নতুন সরঞ্জাম ব্যবহারের কথা থাকলেও পরে দেখা যায় পুরোনো কিছু কপার বারই আবার ব্যবহার করা হয়েছে। কাজ শেষে অবশিষ্ট মালপত্র স্টোরে জমা করার কথা বলা হলেও বাস্তবে মিলছে না সেসবের অস্তিত্ব। আরও বিস্ময়কর বিষয় হলো—একই কাজের জন্য দুইবার সার্ভে রিপোর্ট তৈরি হয়েছে; কিন্তু দুই রিপোর্টেই অসংগতি লক্ষণীয়। কোথাও স্বাক্ষর নেই, কোথাও তারিখ নেই, আবার কোথাও সরঞ্জামের পরিমাণ ও মূল্য গেছে পাল্টে। প্রতিটি নথিই যেন আরেকটি নথিকে আড়াল করার জন্য তৈরি।

অভিযোগ উঠেছে, প্রকল্পের পুরো কাজ শেষ না করেই বিল তুলে নেওয়া হয়েছে। আর সেই অনিয়ম ঢাকতেই পুরোনো মালপত্র বিক্রি কিংবা গায়েবের ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। তদন্তের আগেই দায় চাপানো হয়েছে এমন এক উপসহকারী প্রকৌশলীর ওপর, যিনি মাত্র পাঁচ মাস দায়িত্বে ছিলেন; কিন্তু তার দাবি, তাকে কখনোই স্টোর বা প্রকল্পের প্রকৃত অবস্থা বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি।

এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো জাতীয় সংসদ ভবনের মতো কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টিত স্থান থেকে এত বিপুল পরিমাণ কপার বার কীভাবে উধাও হলো? এটি কি শুধুই চুরি, নাকি এর আড়ালে আছে আরও বড় কোনো প্রকল্পে দুর্নীতি, যেখানে কোটি কোটি টাকার হিসাব গায়েব হয়ে গেছে নথির আড়ালে?

সংসদ ভবন সূত্রে জানা গেছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ‘আমব্রেলা প্রজেক্ট’-এর আওতায় প্রায় ৭১ কোটি টাকা ব্যয়ে সংসদ ভবনের নবম তলায় এবিসিডি সাব-স্টেশনে এলটি ও ইএলটি প্যানেল কেবলের ইলেক্ট্রো-মেকানিক্যাল কাজ করে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান এডেক্স করপোরেশন লিমিটেড। চারটি সাব-স্টেশনের মধ্যে শুধু-ডি এর কাজ শেষ হলে ৩৪২টি কপার বাসবার স্টোররুমে জমা করেন তৎকালীন নির্বাহী প্রকৌশলী। ৫ আগস্টের পর তাকে বদলি করা হলে দায়িত্বপান মো. আনোয়ার হোসেন; কিন্তু আনোয়র হোসেনের আমলে বাকিগুলো সম্পন্ন হয়েছে বলা হলে পুরোনো কপার পাওয়া যাচ্ছে না।