প্রচ্ছদ অপরাধ ও বিচার সোহেলের স্ত্রীর তথ্যে রামিসা হ’ত্যাকাণ্ডে নতুন মোড়

সোহেলের স্ত্রীর তথ্যে রামিসা হ’ত্যাকাণ্ডে নতুন মোড়

রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী শিশু রামিসা আক্তারকে (৭) নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় লোমহর্ষক ঘটনা জানতে পেরেছে পুলিশ। সোহেল রানার (৩০) স্ত্রী স্বপ্নাকে এ তথ্য দিয়েছেন।

মঙ্গলবার (১৯ মে) রাতে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন নজরুল ইসলাম।

পুলিশ জানায়, নিহত রামিসার পরিবার একই ভবনে দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে বসবাস করছেন। অভিযুক্ত দম্পতি মাত্র দুই মাস আগে উল্টো দিকের ফ্ল্যাটে ভাড়া আসেন। গতকাল সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে পাঠানোর জন্য খুঁজতে গিয়ে তার মা ওই ফ্ল্যাটের দরজার সামনে তার স্যান্ডেল দেখতে পান।

সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার এস এন নজরুল ইসলাম জানান, রামিসার মা যখন দরজায় নক করছিলেন, তখন ভেতরে হত্যাকাণ্ডটি ঘটানো হচ্ছিল। মূল আসামি সোহেল যেন পালাতে পারেন, সেই সুযোগ করে দিতে স্ত্রী স্বপ্না দীর্ঘক্ষণ দরজা বন্ধ রাখেন। সোহেল জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যাওয়ার পর স্বপ্না দরজা খোলেন। তিনি নিজে এই হত্যাকাণ্ডের সহযোগী হিসেবে কাজ করেছে।

তিনি আরো জানান, ধারণা করা হচ্ছে প্রতিবেশীর বিকৃত যৌনলালসার শিকার হয়েছিল শিশুটি। নির্যাতন বা রক্তক্ষরণের বিষয়টি জানাজানি হয়ে যাওয়ার ভয়েই তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে আলামত গোপন ও মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে শিশুটির মাথা ও হাত কেটে ফেলা হয়েছিল। তবে ধর্ষণের বিষয়টি ময়নাতদন্ত ও কেমিক্যাল রিপোর্টের পর পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যাবে।

ঘটনার পর পুলিশ স্বপ্নাকে ফ্ল্যাট থেকেই আটক করে।

তবে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যান সোহেল। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পুলিশ জানতে পারে, সোহেল নারায়ণগঞ্জের একটি দোকানে তার বন্ধুর মাধ্যমে পাঠানো টাকা তুলতে গেছে। তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় পুলিশ ও দোকানদারের সহায়তায় ডিএমপির টিম সেখানে অভিযান চালিয়ে বিকাশের দোকান থেকেই তাকে গ্রেপ্তার করে।

এর আগে মঙ্গলবার সকালে পল্লবীর ওই ফ্ল্যাটের খাটের নিচ থেকে রামিসার মস্তকবিহীন দেহ এবং পরে বাথরুম থেকে খণ্ডিত মাথা উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত রামিসা স্থানীয় পপুলার স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং এ ঘটনায় পল্লবী থানায় একটি চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।