
ইরানের সামরিক সক্ষমতা খর্ব করতে এবং শাহেদ সিরিজের ড্রোন ও ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সরঞ্জাম সরবরাহ রুখতে একযোগে ১০ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
শুক্রবার (৮ মে) মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় (ট্রেজারি বিভাগ) ‘ইকোনমিক ফিউরি’ ক্যাম্পেইনের অংশ হিসেবে এই ঘোষণা দেয়।
মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের তথ্যমতে, এবারের নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে চীন ও হংকংভিত্তিক কয়েকটি প্রতিষ্ঠান এবং মধ্যপ্রাচ্য ও পূর্ব ইউরোপের বেশ কিছু ব্যক্তি।
অভিযোগ রয়েছে, এই নেটওয়ার্কটি ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এবং তাদের সহযোগী সংস্থাগুলোর জন্য মহাকাশ প্রযুক্তিতে ব্যবহৃত উচ্চমানের কাঁচামাল ও ড্রোন তৈরির যন্ত্রাংশ সংগ্রহে সরাসরি সহায়তা করছিল।
নিষেধাজ্ঞা বিষয়ে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এক বিবৃতিতে বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দৃঢ় নেতৃত্বে আমরা যুক্তরাষ্ট্রকে নিরাপদ রাখতে আপসহীন। ইরানের সামরিক বাহিনীকে যারা অস্ত্র ও কাঁচামাল দিয়ে সাহায্য করছে এবং মার্কিন বাহিনীর বিরুদ্ধে ব্যবহারের সুযোগ করে দিচ্ছে, সেই বিদেশি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া অব্যাহত থাকবে।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, আইআরজিসি-র নেতারা এখন একটি ‘ডুবন্ত জাহাজের ইঁদুরের মতো আটকা পড়েছেন’ এবং তাদের অর্থনৈতিক ভিত নাড়িয়ে দিতে ট্রেজারি বিভাগ কাজ করে যাচ্ছে।
বার্তা সংস্থা আনাদোলু জানিয়েছে, এই নিষেধাজ্ঞার ফলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের যুক্তরাষ্ট্রে থাকা সব সম্পত্তি জব্দ করা হবে এবং মার্কিন কোনো নাগরিক বা প্রতিষ্ঠানের সাথে তাদের লেনদেন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে।
এছাড়া যে সকল বিদেশি আর্থিক প্রতিষ্ঠান এদের সহায়তা দেবে, তাদের ওপরও মাধ্যমিক নিষেধাজ্ঞা আসার ঝুঁকি রয়েছে।
উল্লেখ্য, আগামী সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যে বেইজিংয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
সেই সফরের ঠিক আগমুহূর্তে চীন ও হংকংয়ের প্রতিষ্ঠানের ওপর এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ বেইজিংয়ের ওপর ওয়াশিংটনের এক ধরনের কূটনৈতিক চাপ হিসেবেই দেখছেন বিশ্লেষকরা।
ইরান যখন লোহিত সাগর ও হরমুজ প্রণালীতে নিজেদের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে, তখন যুক্তরাষ্ট্রের এই অর্থনৈতিক আঘাত তেহরানের সামরিক উৎপাদন সক্ষমতাকে কতটা সীমিত করতে পারে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।








































