প্রচ্ছদ জাতীয় আসমানে কমছে, জমিনে বাড়ছে

আসমানে কমছে, জমিনে বাড়ছে

গত মাসের মাঝামাঝিতে বেড়েছে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম। যার প্রভাবে বেড়েছে পরিবহন ভাড়াও। এর মধ্যে শুরু হয়েছে বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির প্রক্রিয়া। এমন পরিস্থিতিতে ধনীর যানবাহনের জ্বালানি হিসেবে পরিচিত উড়োজাহাজের জ্বালানির (জেট ফুয়েল) দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।

গতকাল বৃহস্পতিবার বিইআরসির ঘোষিত নতুন মূল্যে অভ্যন্তরীণ রুটে ফ্লাইটের জন্য প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের দাম ২২৭ টাকা ৮ পয়সা থেকে কমিয়ে করা হয়েছে ২০৫ টাকা ৪৫ পয়সা। আর আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের জন্য প্রতি লিটারের দাম ১ দশমিক ৪৮০৬ ডলার (শুল্ক ও মূসকমুক্ত) থেকে কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ১ দশমিক ৩৩৮৫ ডলার।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের দাম ৯৪ টাকা ৯৩ পয়সা ছিল। ফেব্রুয়ারিতে ১৯ পয়সা বাড়িয়ে লিটারপ্রতি দাম নির্ধারণ করা হয় ৯৫ টাকা ১২ পয়সা।

ফেব্রুয়ারির শেষভাগ থেকে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত শুরু হলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হয়। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে মার্চ মাসে। প্রথম দফায় ৯৫ টাকা ১২ পয়সা েথকে এক লাফে দাম বাড়িয়ে করা হয় ১১২ টাকা ৪১ পয়সা।

২৪ মার্চ মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে দ্বিতীয় দফায় দাম বাড়িয়ে ২০২ টাকা ২৯ পয়সা নির্ধারণ করা হয়। সর্বশেষ এপ্রিলে তা আরও বেড়ে ২২৭ টাকা ৮ পয়সায় পৌঁছায়। মার্চে বড় উল্লম্ফনের পর এভিয়েশন অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ, এওএবি মূল্যবৃদ্ধিকে ‘অযৌক্তিক’ বলেও মন্তব্য করেছিল।

এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে গত ১৮ এপ্রিল দেশের সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি ১৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি করে বিইআরসি। এতে কৃষকের সেচ খরচ থেকে শুরু করে বেড়ে গেছে পরিবহন ভাড়া। বেড়েছে জীবনযাত্রার ব্যয়ও। এ মাসে জ্বালানি তেলের দাম রয়েছে অপরিবর্তিত। যদিও বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম কমবে বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

‘উড়োজাহাজ বড় লোকের বাহন। সেই বাহনে ব্যবহৃত তেলের দাম কমে। আর কৃষিতে যে ডিজেল লাগে, তার দাম বাড়ে। এ কেমন কথা? তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে সেচের ব্যয় বেড়েছে। পরিবহন খরচও আগের চেয়ে বেশি,’ খানিকটা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছিলেন চুয়াডাঙ্গার ডিঙ্গেদহ বাজারের কৃষক ইমরান হোসেন।

ঢাকার মিরপুরের বাসিন্দা সেলিম হোসেন বলছিলেন, ‘জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে এমনিতেই বেড়েছে সব ধরনের ব্যয়। এখন আবার সরকার বিদ্যুতের দাম বাড়াবে বলে শুনছি। অন্যদিকে উড়োজাহাজের জ্বালানির দাম কমাচ্ছে। ধনীদের আয় বেশি। তাদের জ্বালানির দাম কমালে ডিজেল, পেট্রল ও অন্যান্য জ্বালানির দামও তো কমানোর দরকার ছিল।’

উল্লেখ্য গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল মিলে ইরানে আক্রমণের মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের সূত্রপাত। এরপর ইরান ওই অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে হামলা শুরু করলে তেলসমৃদ্ধ ওই অঞ্চলের পুরোটা জুড়ে যুদ্ধ বিস্তৃত হয়। দুই পক্ষের হামলায় লক্ষ্যবস্তু হয় জ্বালানি স্থাপনাগুলো। এতে জ্বালানির দাম অস্থির হয়ে ওঠে বিশ্ববাজারে। শান্তি আলোচনায় ইতিবাচক অগ্রগতির খবরে কমছে দাম।

এর আগে জেট ফুয়েলের দাম নির্ধারণ করত বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। তবে নির্বাহী আদেশে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম নির্ধারণের ধারা অন্তর্বর্তী সরকার বাতিল করে দেয়। এরপর ২০২৪ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ফার্নেস অয়েল, জেট এ-১-এর দাম নির্ধারণের এখতিয়ার বিইআরসিকে দেওয়া হয়।

প্রজ্ঞাপনের পর ২০২৫ সালের ২৩ মার্চ প্রথমবারের মতো জেট ফুয়েলের দাম নির্ধারণে গণশুনানি গ্রহণ করে বিইআরসি। এর পর থেকে প্রতি মাসে সমন্বয় করা হচ্ছে দাম।