প্রচ্ছদ জাতীয় এনসিপির ভোট কারচুপির অভিযোগে কমিশন জানালো ‘নাচতে না জানলে

এনসিপির ভোট কারচুপির অভিযোগে কমিশন জানালো ‘নাচতে না জানলে

দেশের বৃহৎ বার ঢাকা আইনজীবী সমিতির ২০২৬-২০২৭ কার্যকরী কমিটির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপি-সমর্থিত নীল প্যানেলের বিরুদ্ধে ভোট ইঞ্জিনিয়ারিং, জালিয়াতি ও কারচুপির অভিযোগ তুলেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সমর্থিত ন্যাশনাল লইয়ার্স অ্যালায়েন্স।

তাদের বিভিন্ন অভিযোগ নিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার অ্যাডভোকেট মো. বোরহান উদ্দিন বলেন,আমি মনে করি না নির্বাচন নিয়ে কোনো অভিযোগের ভিত্তি আছে। কারণ যখনই কেউ মনে করে খেলায় হেরে যাবে, তখনই বলে আজকে খেলার মাঠ ভেজা ছিল। তাই ফুটবল খেলতে পারিনি। যেই মঞ্চে আমাকে নাচতে বলেছে, সেটা আঁকাবাঁকা ছিল। গ্রাম্য ভাষায় একটা কথা আছে, নাচতে না জানলে…।

শুক্রবার (১ মে) বিকেলে ঢাকা আইনজীবী সমিতি ভবনে নির্বাচনের ফল গণনার উদ্বোধন শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কার্যালয়ে এমন মন্তব্য করেন তিনি।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার আরও বলেন, শুধু এনসিপি না, যারা ভোট বর্জন করেছে, দেশকে অচলাবস্থায় নিয়ে যেতে চায়, তারাই এসব প্রচারণা চালাচ্ছে। তারা ব্যালটে বিভিন্ন চিত্র এঁকেছে। জানিনা এরা কি ধরনের আইনজীবী হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বিগত নির্বাচনের চেয়ে এবার সকল প্রতিবন্ধকতার মধ্যে অত্যন্ত সুন্দর, অংশগ্রহণমূলক, গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়েছে। স্বাধীনভাবে সবাই নিজের ভোট দিয়েছে।

এর আগে এনসিপির ন্যাশনাল ল’ইয়ার্স অ্যালায়েন্সের মুখ্য সংগঠক অ্যাডভোকেট সাকিল আহমাদ সাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ভোটগ্রহণ চলাকালে জাল ভোট প্রদান, বুথের ভিতরে প্রবেশ করে ভোটারদের ব্যালটে জোরপূর্বক সিল মারা, বিরোধী প্যানেলের কমিশনার ও এজেন্টদের বের করে দেওয়া, যাচাই বাচাই ছাড়াই ব্যালট বিতরণ এবং বহু ভোটারের ভোট আগেই জালিয়াতির মাধ্যমে প্রদান করার মতো গুরুতর অনিয়ম সংঘটিত হয়েছে। এগুলো কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং এটি একটি সুপরিকল্পিত ভোট ডাকাতির সামগ্রিক চিত্র, যা অতীতের ফ্যাসিবাদী শাসনামলের কালো অধ্যায়েরই পুনরাবৃত্তি।

এর আগে গত ২৯ ও ৩০ এপ্রিল দেশের বৃহত্তম বার ঢাকা আইনজীবী সমিতির ২০২৬-২০২৭ কার্যকরী কমিটির নির্বাচনে দুই দিন ব্যাপী ভোটগ্রহণ শেষ হয়। এ নির্বাচনে মোট ভোটার ২০ হাজার ৭৮৫ জন আইনজীবী। দুই দিনে ৭ হাজার ৬৯ জন আইনজীবী ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন, যা মোট ভোটারের ৩৪ শতাংশ। অর্থাৎ ভোট দেন নি ৬৬ শতাংশ আইনজীবী।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনে সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ ২৩টি পদে ভোট ভোট গ্রহণ হয়। বিএনপি ও গণঅধিকার পরিষদ সমর্থিত আইনজীবীরা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য প্যানেল (নীল প্যানেল) এবং জামায়াত ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সমর্থিত আইনজীবী ঐক্য পরিষদ (সবুজ প্যানেলে) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। উভয় প্যানেলে ২৩ জন করে মোট ৪৬ জন ছাড়াও স্বতন্ত্র আটজন প্রার্থী বিভিন্ন পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

যদিও নির্বাচনে মাঠে নেই আওয়ামী লীগ (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সমর্থিত সাদা প্যানেল। প্যানেল না থাকলেও আওয়ামী সমর্থিত কয়েকজন আইনজীবী স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করতে চাইলে মনোনয়ন নিতে বাঁধার সম্মুখীন হন বলে গণমাধ্যমে অভিযোগ করেন কয়েকজন আইনজীবী।

নির্বাচনে বিএনপি জোট নীল প্যানেল থেকে সভাপতি পদে মো. আনোয়ার জাহিদ ভূঁইয়া এবং সাধারণ সম্পাদক পদে মোহাম্মদ আবুল কালাম খান প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

অপর দিকে জামায়াত-এনসিপি সমর্থিত ১১ জোটের সবুজ প্যানেল থেকে সভাপতি পদে এস. এম. কামাল উদ্দিন এবং সাধারণ সম্পাদক পদে মো. আবু বাক্কার সিদ্দিক লড়ছেন।

এর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০২৪ সালের ২৮ ও ২৯ ফেব্রুয়ারি সর্বশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ওই নির্বাচনে সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ ২১টি পদে নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগ সমর্থিত আইনজীবীরা। সেবার নির্বাচনে ৪৬ শতাংশ আইনজীবী ভোট দেন।

যদিও ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ঢাকা আইনজীবী সমিতির নির্বাচিতরা আদালতে আসা বন্ধ করে দেন। এতে সমিতির সব কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়। এই পরিস্থিতিতে ওই বছরের ১৩ আগস্ট অ্যাডহক কমিটি গঠন করেন বিএনপি ও জামায়াতপন্থী আইনজীবীরা। এরপর থেকেই তারা দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।