
মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় এক প্রবাসীর বিদেশ যাত্রা ঠেকাতে পুলিশ সুপারকে (এসপি) ঘুষ দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে এক নারী ও জেলা ছাত্রদলের এক নেতাকে আটক করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) দুপুরে কুলাউড়া থানায় সিলেট রেঞ্জের ডিআইজির বার্ষিক পরিদর্শন চলাকালীন এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে।
আটককৃতরা হলেন— কুলাউড়া উপজেলার রাউৎগাঁও ইউনিয়নের বাসিন্দা মাহতাব মিয়ার তালাকপ্রাপ্ত দ্বিতীয় স্ত্রী জেসমিন আক্তার এবং মৌলভীবাজার জেলা ছাত্রদলের স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক সামাদ চৌধুরী।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মাহতাব মিয়ার সঙ্গে তার প্রাক্তন স্ত্রী জেসমিন আক্তারের দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিরোধ ও মামলা চলছে। সম্প্রতি মাহতাব মিয়ার বিদেশ যাওয়ার খবর শুনে তা আটকাতে মরিয়া হয়ে ওঠেন জেসমিন। এর আগে স্বামীকে নাজেহাল করতে তিনি নিজের মেয়ের ওপর ধর্ষণের মিথ্যা অভিযোগসহ নানা ছলচাতুরীর আশ্রয় নিয়েছিলেন বলে জানা গেছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে কুলাউড়া থানা পরিদর্শনে ছিলেন সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি মো. মুশফেকুর রহমান। এসময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। জেসমিন আক্তার তার স্বামীর বিদেশ যাত্রা বন্ধের তদবির করতে সামাদ চৌধুরীকে সঙ্গে নিয়ে পুলিশ সুপারের সঙ্গে দেখা করেন।
অভিযোগ উঠেছে, জেসমিন আক্তার তার কাজ হাসিলের জন্য ২ লাখ টাকা সাথে নিয়ে এসেছিলেন। সামাদ চৌধুরী কৌশলে জেসমিনের কাছ থেকে সেই টাকা নেন এবং নিজের কাছে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা সরিয়ে রেখে মাত্র ৪০ হাজার টাকা জেলা পুলিশ সুপারের হাতে তুলে দেওয়ার চেষ্টা করেন।
পুলিশ সুপারকে প্রকাশ্যে ঘুষ দেওয়ার প্রস্তাব করায় তিনি তাৎক্ষণিক তাদের দুজনকে আটকের নির্দেশ দেন। এসময় পুলিশ তাদের কাছ থেকে নগদ টাকা উদ্ধার করে। ডিআইজির উপস্থিতিতে থানায় এমন দুঃসাহসিক ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মোল্যা জানান, এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে সামাদ চৌধুরী ও জেসমিন আক্তারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে। শুক্রবার (১ মে) তাদের আদালতে প্রেরণ করা হবে।












































