
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য বিএনপি ৩৬ জনের নামের তালিকা ঘোষণা করেছে। এই তালিকায় রয়েছেন মৌলভীবাজার-১ (বড়লেখা-জুড়ী) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী প্রয়াত এবাদুর রহমান চৌধুরীর কন্যা ব্যারিস্টার জহরত আদিব চৌধুরী। তবে তিনি কেবল ‘পারিবারিক ঐতিহ্যে’ নয়, বরং নিজের বর্ণাঢ্য শিক্ষা ও কর্মজীবন দিয়ে নিজেকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। বাবার আদর্শ ধরে রাখতে এবার সংরক্ষিত আসনে দলীয় মনোনয়ন পেয়ে চমক লাগিয়েছেন তিনি।
দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের এই সিদ্ধান্তে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন মৌলভীবাজারের স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
জহরত আদিব চৌধুরী বিএনপির চেয়ারপার্সন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্ঠা, সাবেক সচিব ব্যারিস্টার মো. হায়দার আলীর পুত্র, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের ডেপুটি এটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মুহাম্মদ জিসান হায়দারের স্ত্রী তিনি।
ব্যারিস্টার জহরত আদিব চৌধুরীর পিতা অ্যাডভোকেট এবাদুর রহমান চৌধুরী মৌলভীবাজার-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য, সাবেক প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। এছাড়া তিনি মৌলভীবাজার জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। এর আগে তিনি, জাতীয় পার্টি থেকে মনোনয়ন নিয়ে এ আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন।
জহরত আদিব কালবেলাকে বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন কমিটিতে আমি হাইকমান্ডের নির্দেশে নির্বাচনের বিভিন্ন দিক নিয়ে কাজ করেছি। নির্বাচনী ইশতেহার তৈরিতে দল আমাকে যুক্ত রেখেছিল। আমি বেশ কয়েক বছর যাবত দলকে সময় দিয়ে যাচ্ছি। তাছাড়া আন্তর্জাতিকভাবে দলকে শক্তিশালী করতে বিশ্বের নানান দেশে ছুটে গিয়েছি। পড়াশোনা ও কর্মক্ষেত্রের পাশাপাশি দীর্ঘ ২২ বছর নীরবে-নিভৃতে দলের হয়ে কাজ করেছি।
সংরক্ষিত মহিলা আসনে মনোনয়ন পাওয়া নিয়ে তিনি বলেন, মৌলভীবাজার-১ (বড়লেখা-জুড়ী) আসনের জনসাধারণের অনুরোধে আমি চলতি বছরের (১২ ফেব্রুয়ারি) সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে মাঠে ছিলাম। কিন্তু দলীয় হাইকমান্ডের নির্দেশে নির্বাচনের প্রাক্কালে আমাকে কেন্দ্রীয় ইলেকশন কমিটি ও ইশতেহার নিয়ে কাজ করতে হয়েছে। তাছাড়া দলীয়ভাবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও আমার কাজ করার সুযোগ হয়েছে। আসলে দীর্ঘ ২২ বছরের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে দলের হয়ে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন স্থানে কাজ করতে চেষ্টা করেছি। হয়তো আমার সেই ক্ষুদ্র অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে দল আমাকে জনগণের সেবা করার সুযোগ দিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বড়লেখা-জুড়ীতে আমার পিতা, সাবেক প্রতিমন্ত্রী প্রয়াত এবাদুর রহমান চৌধুরী শিক্ষাসহ সার্বিক উন্নয়নে অন্যন্য ভূমিকা রেখেছেন। যা এলাকার জনসাধারণ তাকে আজও স্মরণ রেখেছে। আমি জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে মৌলভীবাজারের পর্যটন শিল্প, কর্মসংস্থান, শিক্ষা-স্বাস্থ্য ও নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে কাজ করবো। বিশেষ করে দেশের তরুণ সমাজ যেন বিদেশমুখি না হয় সেক্ষেত্রে বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করবো।
বাবার মতোই সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে বড়লেখা-জুড়ীসহ পুরো মৌলভীবাজারের মানুষের সেবা করাই আমার একমাত্র লক্ষ্য।’ বাবার অসমাপ্ত কাজগুলো সম্পন্ন করতেই আমি রাজনীতির মাঠে।
তিনি মনে করেন, নিজের যোগ্যতায় পৃথিবীকে বদলানো যায়। তবে বড়লেখা ও জুড়ীর মাটির সঙ্গে তার বাবার যে গভীর সম্পর্ক ছিল, সেই টান এড়িয়ে যেতে পারেননি। দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার পর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
ব্যারিস্টার জহরত আদিবের শিক্ষাজীবন মেধাবীর জন্য অনুপ্রেরণা। তিনি লন্ডনের ঐতিহ্যবাহী লিংকনস্ ইন থেকে ব্যারিস্টারি ডিগ্রি (বার-অ্যাট-ল) অর্জন করেছেন। উচ্চতর শিক্ষার নেশায় তিনি পাড়ি জমিয়েছেন বিশ্বসেরা হার্ভার্ড বিজনেস স্কুলে। যেখান থেকে তিনি সিনিয়র এক্সিকিউটিভ লিডারশিপ প্রোগ্রাম সম্পন্ন করেন। এ ছাড়া, যুক্তরাজ্যের ডার্বি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাণিজ্যিক আইনে এলএলএম এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ থেকে অ্যাডভান্সড সার্টিফিকেট ইন বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অর্জন করেছেন।
রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার আগে জহরত আদিব ছিলেন দেশের করপোরেট জগতের পরিচিত মুখ। তিনি দেশের অন্যতম শীর্ষ টেলিকম প্রতিষ্ঠান বাংলালিংক’র ডেপুটি সিইও এবং চিফ লিগ্যাল অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। উল্লেখ্য, তিনিই বাংলাদেশের টেলিকম ইন্ডাস্ট্রির প্রথম নারী ডেপুটি সিইও হিসেবে ইতিহাস গড়েছেন। এর আগে তিনি গ্রামীণফোন এবং নোভার্টিসের মতো বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ পদে কাজ করেছেন।
পেশাগত কাজের প্রয়োজনে জহরত আদিব বিশ্বের ৩০টিরও বেশি দেশ ভ্রমণ করেছেন। তিনি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন এবং মৌলভীবাজার বার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য। এ ছাড়া, তিনি বিভিন্ন সামাজিক ও শিক্ষামূলক ট্রাস্টের মাধ্যমে জনকল্যাণমূলক কাজে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন।
এদিকে বড়লেখার বিএনপি নেত্রী মৌলভীবাজার-হবিগঞ্জ সংরক্ষিত মহিলা আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ায় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী ছাড়াও সাধারণ জনসাধারণের মধ্যে আনন্দের বন্যা বইছে। সংরক্ষিত মহিলা সংসদ সদস্য বারিস্টার জহরত আদিব চৌধুরীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন মৌলভীবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য নাসির উদ্দিন আহমেদ মিঠু, জেলা বিএনপির সাবেক উপদেষ্টা ও কাতার বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরীফুল হক সাজু, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক আব্দুস শহীদ খান, সাবেক আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মুজিব রাজা চৌধুরী ও জেলা মহিলা দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাহেনা বেগম হাছনা।
তারা আশা প্রকাশ করেন, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার জহরত আদিব চৌধুরী তার মরহুম পিতা সাবেক প্রতিমন্ত্রী মরহুম অ্যাডভোকেট এবাদুর রহমান চৌধুরীর আদর্শ অনুসরণ করে সততা, নিষ্ঠা ও দায়িত্ববোধ নিয়ে জনগণের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রাখবেন। তার নেতৃত্বে এলাকার মানুষের প্রত্যাশা প্রতিফলিত হবে এটাই বিশ্বাস।













































