প্রচ্ছদ জাতীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া মানুষটি কে?

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া মানুষটি কে?

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গত ২৫ মে আকস্মিক পরিদর্শনে যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। এ সময় বিভিন্ন ওয়ার্ডের পরিবেশ, পরিচ্ছন্নতা ও চিকিৎসাসেবার মান পর্যবেক্ষণ করেন তিনি। রান্নাঘরে রোগীদের জন্য প্রস্তুত করা খাবারও নিজে খেয়ে মান যাচাই করেন।

তরকারি গরম থাকায় মন্ত্রী যখন চামচে ফুঁ দিচ্ছিলেন, ঠিক তখনই পাশে থাকা এক ব্যক্তি ওই চামচে ফুঁ দিয়ে ঠান্ডা করার চেষ্টা করেন। এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়।

সীমান্তে বিজিবি এলার্ট আছে, পুশইনের বিপক্ষে সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসীমান্তে বিজিবি এলার্ট আছে, পুশইনের বিপক্ষে সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

চামচে ফুঁ দেওয়া ওই ব্যক্তির নাম ডা. জি আর এম জিহাদুল ইসলাম রিয়াজ। তিনি কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জুনিয়র কনসালট্যান্ট। বাড়ি কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার খয়রাবাদ এলাকায়। তার বড় ভাই একজন যুগ্ম সচিব।

ছাত্রজীবনে ডা. রিয়াজ কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি ছিলেন। ৩২তম বিশেষ বিসিএসে নিয়োগ পান তিনি। প্রথমে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) হিসেবে যোগ দেন। পরে দেবীদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জুনিয়র কনসালট্যান্ট হিসেবে যোগদান করেন।

দেবীদ্বারে যোগদানের কিছুদিনের মধ্যেই ওএসডি হয়ে মহাখালীর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর পুনরায় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জুনিয়র কনসালট্যান্ট পদে যোগ দেন।

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যোগদানের পর ডা. জিহাদুল ইসলাম রিয়াজ বিএনপিপন্থি চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) রাজনীতিতে সক্রিয় হন। ড্যাব কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তবে বর্তমানে ওই কমিটি স্থগিত রয়েছে।

সেদিন হাসপাতালে মন্ত্রীর পরিদর্শনের সময়ের ভিডিওতে দেখা যাওয়া নিয়ে কথা বলেন ডা. জিহাদুল ইসলাম রিয়াজ।

তিনি বলেন, ‘আমি তো ওনার (মন্ত্রী) পাশে ছিলাম, উনি যেটা টেস্ট করার জন্য নিয়েছিলেন সেটা অনেক গরম ছিল, জাস্ট সেটা ঠান্ডা করার জন্য ফুঁ দিয়েছিলাম।

পরে দেখলাম সেটা নিয়ে অনেক সমালোচনা, অনেক পেজ থেকে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়া হয়েছে। আসলে মানুষ তো আমকে চেনে না, জানে না। না জেনে মন্তব্য করছে।’

মন্ত্রীকে কোনো প্রকার তোষামোদ করার ইচ্ছা থেকে ফুঁ দেননি বলেও দাবি ডা. রিয়াজের। তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন মানুষ যেটা কমেন্ট করছে (তোষামোদ নিয়ে), এমন কোনো ইচ্ছা বা আকাঙ্ক্ষা ছিল না। আমি জাস্ট পাশে ছিলাম, তাই ফুঁ দিয়েছি, ঠান্ডা করার জন্য। অন্য কোনো উদ্দেশ্যে ছিল না।’

বিষয়টি নিয়ে যে এত সমালোচনা হবে তা বুঝতে পারেননি বলেও জানান এই চিকিৎসক। তিনি বলেন, আমরা পাশাপাশি থাকলে হঠাৎ অনেক কিছু করি, কিন্তু সেটা এতো চিন্তা করে করা হয় না। এটা নিয়ে মানুষ যে এতো সমালোচনা করবে, সেটা বুঝতে পারিনি। যেহেতু মানুষ সাধারণ বিষয় নিয়েও অনেক বেশি সমালোচনা করে, সেক্ষেত্রে এখন থেকে এসব বিষয়ে আরও সচেতন থাকব।