
জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়কদের জন্য ‘ক্যাপ্টেনস কার্ড’ এনেছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) অ্যাডহক কমিটির প্রধান তামিম ইকবাল। এই কার্ড ব্যবহার করে বেশকিছু সুযোগ-সুবিধা পাবেন সাবেক অধিনায়করা। তবে তামিমের এই নতুন উদ্যোগকে কেউ কেউ ‘তেলা মাথায় তেল দেয়ার’ সঙ্গে তুলনা করছেন।
ক্যাপ্টেনস কার্ড ব্যবহার করে সবমিলিয়ে ৪টি বিশেষ সুবিধা পাবেন সাবেক অধিনায়করা। সেগুলো হলো–ক্যাপ্টেনস কার্ড দিয়ে সাবেক অধিনায়করা এখন থেকে বিসিবির যেকোনো ম্যাচ ও ইভেন্টে, দেশে ও দেশের বাইরে বিনা বাধায় প্রবেশ করতে পারবেন। বিসিবিতে ভিভিআইপি কার পার্কিংয়ের সুবিধা পাবেন সব সাবেক অধিনায়ক।
এ ছাড়া বর্তমান জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের মতোই বিসিবির মেডিকেল বিভাগ থেকে চিকিৎসাসেবা পাবেন কার্ডধারী সাবেক অধিনায়করা। প্রয়োজন হলে বিদেশে চিকিৎসার জন্যও সাবেক অধিনায়কদের পাশে থাকবে বিসিবি। সাবেক অধিনায়কদের জন্য স্বাস্থ্য বিমার ব্যবস্থাও করবে বিসিবি।
জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়কদের বেশিরভাগই সচ্ছল জীবনযাপন করেন। তাদের অনেকেই বোর্ডের সঙ্গে বিভিন্নভাবে যুক্ত, কেউ কেউ ঢাকার ক্লাব ক্রিকেটের প্রভাবশালী নাম। সে সুবাদে সাবেক অধিনায়কদের একটা বড় অংশই বিসিবির পক্ষ থেকে অঘোষিতভাবে নানাক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পেয়ে থাকেন।
তাই তামিমের এই উদ্যোগ নিয়ে কেউ কেউ প্রশ্ন রাখছেন। তাদের মতে, সাবেক অধিনায়কদের জন্য এই ধরনের প্রকল্প হাতে নেয়ার চেয়ে বরং অসচ্ছল বা অর্থকষ্টে ভুগছেন–এমন ক্রিকেটারদের পাশে দাঁড়াতে বিসিবির সচেষ্ট হওয়া উচিত।
তামিমের ‘ক্যাপ্টেনস কার্ড’ প্রকল্পের কড়া সমালোচনা করেছেন জাতীয় দলের সাবেক পেসার তাপস বৈশ্য। অ্যাডহক কমিটি প্রধানের বিরুদ্ধে বৈষম্যের অভিযোগ তুলে তিনি বলেছেন, ‘আগে থেকেই খেলা দেখার জন্য অধিনায়কদের জন্য এসি বক্স আর অন্য জাতীয় দলের সতীর্থদের জন্য সাধারণ গ্যালারি!! আর এখন তো কার্ড!! অধিনায়করা রাজা আর অন্যরা প্রজা!! অধিনায়ক হলেই তুমি চৌধুরি আর অন্য সতীর্থরা? খেলে তো সকলেই মিলে ১১জন বা ১৪ জন, খেলা ছেড়ে দেওয়ার পর সকলেই জাতীয় খেলোয়ার!!
বিসিবি সভাপতি পদে আর কোনও সাবেক ক্রিকেটারকে দেখতে চান না উল্লেখ করে বৈশ্য লিখেছেন, ‘এই বৈষম্যের কারণে আমি আমার নিজেকে জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক খেলোয়াড় হিসেবে পরিচয় দিতেই লজ্জাবোধ করছি। এই যুগে এটা চরম বৈষম্য…।’
সূত্র: চ্যানেল 24












































