
বরিশালের আগৈলঝাড়ায় রডের পরিবর্তে বাঁশের কঞ্চি ব্যবহার করে ব্রিজ নির্মাণের অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে উপজেলা প্রশাসন। অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় নির্মিত ব্রিজের ঢালাই ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে অভিযুক্ত ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
উপজেলার রত্নপুর ইউনিয়নের দুশুমি-করিমবাজার খালের ওপর রুহুল আমিনের বাড়ির সামনে নির্মিত ব্রিজটি নিয়ে স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে সংবাদ প্রকাশ হয়।
এরপর গতকাল বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী রবীন্দ্র চক্রবর্তী সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। এ সময় স্থানীয় শতাধিক গ্রামবাসী ব্রিজের ঢালাইয়ে বাঁশের কঞ্চি ব্যবহারের পাশাপাশি ইউপি সদস্য সোহেল মোল্লার বিরুদ্ধে ৮৫ হাজার টাকা উৎকোচ নেওয়ার অভিযোগ তোলেন।
পরিদর্শনকালে প্রকৌশলী রবীন্দ্র চক্রবর্তী ব্রিজের উত্তরের অংশে রডের পরিবর্তে বাঁশের কঞ্চি ব্যবহারের সত্যতা পান। অনিয়মের প্রমাণ মেলায় তিনি তৎক্ষণাৎ ব্রিজের ঢালাই ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেন।
বলিখেলা ও বৈশাখী মেলায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেবে সিএমপি
স্থানীয়দের অভিযোগ, ৪৫ ফুট দৈর্ঘ্য ও সাড়ে ৫ ফুট প্রস্থের এই ব্রিজে ঢালাইয়ের ক্ষেত্রে সরকারি নিয়ম (৫ ইঞ্চি) না মেনে দেওয়া হয়েছে মাত্র সাড়ে ৩ ইঞ্চি। এছাড়া ৮ ইঞ্চি পরপর রড দেওয়ার নিয়ম থাকলেও দেওয়া হয়েছে ১ ফুট পরপর। ঢালাইয়ের সময় বাধা দিলে অনিয়ম ঢাকতে বাঁশের কঞ্চি ব্যবহার করে তড়িঘড়ি করে কাজ সম্পন্ন করা হয়।
আগৈলঝাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিখন বণিক জানান, ব্রিজটির মূল স্ট্রাকচার বিগত অর্থবছরে উপজেলা পরিষদের অর্থায়নে নির্মিত হয়েছিল, তবে তা ঢালাই করা হয়নি। এই অর্থবছরে ঢালাইয়ের কোনো বরাদ্দ বা অনুমোদন দেওয়া হয়নি।
তিনি বলেন, স্থানীয় একজন ইউপি সদস্য নিজ উদ্যোগে ও এলাকাবাসীর সহায়তায় ঢালাইয়ের কাজ শুরু করেন। কিন্তু সেখানে সরকারি নিয়মনীতি অনুসরণ করা হয়নি এবং রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহার করায় ব্রিজটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। তাই ঢালাই ভেঙে সরকারি নিয়ম মেনে আমরা ব্রিজটি পুনরায় নির্মাণ করে দেব।
তিনি আরও বলেন, সরকারি কাজের নামে যারা ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।













































