
নুরুল হক নুরকে ‘হাসিনার পুত্র’ বলে কটাক্ষ করা হলে আসিফ, নাহিদ ও আখতারকেও ‘হাসিনার নাতি’ বলা যায় বলে মন্তব্য করেছেন গণঅধিকার পরিষদের মুখপাত্র আবু হানিফ। নুরকে নিয়ে সমালোচনাকারীদের অতীত রাজনৈতিক অবস্থান ও তার সঙ্গে তাদের সম্পর্কের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি এ মন্তব্য করেন।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে আবু হানিফ এসব কথা বলেন।
পোস্টে তিনি লেখেন, ‘নুরুল হক নুরের বিরুদ্ধে যুক্তি-তর্কে পেরে না উঠলেই তাকে আওয়ামী লীগের দেওয়া ট্যাগ ‘বিকাশ নুর’ বলা হয়। হাসিনাকে মা ডেকেছিলেন—সেই প্রসঙ্গও সামনে আনা হয়।’
আবু হানিফের দাবি, ২০১৯ সালে ডাকসু নির্বাচনে ভিপি হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সময় কথার প্রসঙ্গে নুরুল হক নুর বলেছিলেন, তার মধ্যে মায়ের প্রতিচ্ছবি দেখতে পান। তবে এর পরদিনই মধুর ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলনে নুর শেখ হাসিনাকে স্বৈরাচার বলেছিলেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
আবু হানিফ আরও দাবি করেন, ২০১৮ সাল থেকে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের আগ পর্যন্ত নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের হাতে নুর অন্তত ৩০ বারের বেশি হামলার শিকার হয়েছিলেন। ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াইয়ে নুরের ভূমিকা আপসহীন ছিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
নুরের রাজনৈতিক ভূমিকার কথা তুলে ধরে গণঅধিকার পরিষদের এই মুখপাত্র বলেন, তরুণদের রাজনৈতিকভাবে সচেতন করার ক্ষেত্রে নুর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, আসিফ ও আখতার ২০১৯ সালের পর থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত নুরকে নেতা মেনে রাজনীতি করেছেন। তরিকুলও ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের আগ পর্যন্ত ছাত্র অধিকার পরিষদের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
নাহিদ প্রসঙ্গে আবু হানিফ বলেন, নুরের নেতৃত্বে নাহিদও ডাকসু নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। পরে ছাত্র অধিকার পরিষদে নিজের পছন্দমতো পদ না পাওয়ায় তিনি রাজনীতি থেকে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েন বলে দাবি করেন আবু হানিফ।
পোস্টের শেষাংশে তিনি লেখেন, ‘তারাও এখন নুরকে হাসিনার পুত্র বলে কটাক্ষ করেন। অথচ ২০১৯ সালের ওই ঘটনার পর থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত তারা নুরের সঙ্গেই ছিলেন। এতে তাদের চরিত্র স্পষ্ট হয়, তারা কেমন মানুষ।’
আবু হানিফ আরও বলেন, ‘তাদের এটা বোঝা উচিত, নুরুল হক নুর যদি হাসিনার পুত্র হন, তাহলে আসিফ, নাহিদ ও আখতাররা হাসিনার নাতি।’










































