
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরীফ ওসমান হাদিকে নিয়ে তার বোন মাসুমা হাদির দেওয়া একটি ফেসবুক স্ট্যাটাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইতোমধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
স্ট্যাটাস তিনি হাদির ‘বিদ্রোহী’ কবিতা আবৃত্তির প্রশংসা করেন এবং কবি কাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে তার ভাইয়ের আবৃত্তিকে আবেগঘনভাবে তুলে ধরেন।
রোববার (১৬ আগস্ট) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে দেওয়া ওই স্ট্যাটাসে মাসুমা হাদি লেখেন, ‘বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম তার বিখ্যাত ‘বিদ্রোহী’ কবিতাটি লিখে গেছেন শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ সন্তান বিপ্লবী শহীদ ওসমান হাদি আবৃত্তি করার জন্যই।’
তিনি লেখেন, ‘‘বিদ্রোহী’ কবিতা লেখার পর থেকে এখন পর্যন্ত ওসমান হাদি ছাড়া অন্য কেউ এত সাবলীলভাবে, শব্দের সঠিক উচ্চারণ ও বিদ্রোহী মনোভাব ফুটিয়ে তুলে কবিতাটি আবৃত্তি করতে পারেননি।’
স্ট্যাটাসের শেষাংশে মাসুমা হাদি লেখেন, ‘আল্লাহর জিম্মায় নিশ্চয়ই ভালো আছেন, বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম, আপনার বিপ্লবী কবি শহীদ ওসমান হাদিকে কাছে পেয়ে।’
তার এই স্ট্যাটাস প্রকাশের পর ওসমান হাদির ‘বিদ্রোহী’ কবিতা আবৃত্তি এবং তাকে নিয়ে বোনের মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। স্ট্যাটাসটি ঘিরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন নেটিজেনরা।
উল্লেখ্য ঝালকাঠির নলছিটির সন্তান ওসমান হাদির বাবা মাদ্রাসা শিক্ষক। ওসমান হাদি নিজেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার আগে পড়ালেখা করেন নেছারাবাদ কামিল মাদ্রাসায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের এ শিক্ষার্থী বেসরকারি একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছিলেন।
গত বছরের ১২ ডিসেম্বর দুপুরে ঢাকার পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে শরিফ ওসমান হাদির মাথায় গুলি করে দুর্বৃত্তরা। প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়।
অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর ওসমান হাদিকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তার মৃত্যু হয়।
জুলাই অভ্যুত্থানে তার সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল। ৫ আগস্টের পর ইনকিলাব মঞ্চ গঠন করে আলোচনায় আসেন হাদি। ঢাকা-৮ আসন থেকে সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে চেয়েছিলেন তিনি। তার আগেই সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হন তরুণ এ নেতা।









































