
গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে সমালোচনার মধ্যে বর্তমান পরিস্থিতির কারণ ব্যাখ্যা করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের নীতিগত সিদ্ধান্তের কারণে জ্বালানি খাত আমদানিনির্ভর হয়ে পড়েছে। ফলে গ্যাস সরবরাহে সাময়িক ঘাটতি তৈরি হলে এর প্রভাব বিদ্যুৎ উৎপাদনসহ পুরো অর্থনীতিতে পড়ছে।
রোববার (১৬ আগস্ট) এক ভিডিও বার্তায় ডা. জাহেদ উর রহমান এসব কথা বলেন।
সম্প্রতি গ্যাস ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের সমালোচনা প্রসঙ্গে ডা. জাহেদ বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে যে জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে, সেখান থেকে কি এর চেয়ে অনেক ভালো কিছু করার সুযোগ রয়েছে? অন্য কেউ এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকলে পরিস্থিতি কি আরও ভালো হতো বা সংকট কম হতো?
তিনি আরও বলেন, বাস্তবতা মেনে নিয়ে এ সংকট কীভাবে কমানো যায়, সে বিষয়ে আলোচনা করতে হবে।
জাহেদ উর রহমান বলেন, গ্যাস সংকটের কারণে দেশের শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্য বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গ্রামাঞ্চলে ব্যাপক লোডশেডিং হয়েছে, ঢাকাতেও কয়েকদিন বিদ্যুৎ ঘাটতির কারণে ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। এ পরিস্থিতির জন্য প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে জনগণের কাছে দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে।
চলতি সংকটের একটি কারণ হিসেবে দেশের একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের (এফএসআরইউ) কারিগরি সমস্যার কথা সামনে এসেছে। জুলাইয়ে একটি এফএসআরইউতে ত্রুটির কারণে জাতীয় গ্যাস গ্রিডে দৈনিক প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ কমে যায়। এর প্রভাব পড়ে শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সিএনজি স্টেশনসহ বিভিন্ন খাতে।
জাহেদ উর রহমান বলেন, বাংলাদেশের গ্যাস চাহিদার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ আমদানির মাধ্যমে পূরণ করতে হয়। তিনি বলেন, শেখ হাসিনার সরকারের সময়ে দেশের গ্যাস খাতকে ক্রমেই আমদানিনির্ভর করা হয়েছে।
তিনি বলেন, বর্তমান সংকটের দায় একেবারে বর্তমান সরকারের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই। দীর্ঘদিনের নীতি ও সিদ্ধান্তের ফল হিসেবেই আজকের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, গ্যাস এবং জ্বালানি সংকটের বিষয়ে বর্তমান সরকারের কোনো দায় নেই, এর জন্য চোখ বন্ধ করে শেখ হাসিনা সরকারকে দায় দিয়ে দেওয়া যায়।
ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, বর্তমানে সারা বিশ্বেই জ্বালানি ও গ্যাস সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। তবে বাংলাদেশের বর্তমান সংকট রাতারাতি সমাধান করা সম্ভব নয়। জ্বালানি সংকট কমাতে সরকার যেসব পদক্ষেপ নিয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়নে অন্তত তিন থেকে চার বছর সময় লাগতে পারে।













































