
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম চূড়ান্ত হওয়ার পর তার সংসদীয় আসন ঠাকুরগাঁও-১-এ সম্ভাব্য প্রার্থী নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
সবকিছু ঠিক থাকলে রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেওয়ার আগে মির্জা ফখরুলকে তার সংসদীয় আসন ছাড়তে হবে। ফলে আসনটি শূন্য হবে।
আসনটির উপনির্বাচন সামনে রেখে বিএনপির ভেতরে নতুন মুখ নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয় নেতাকর্মী ও দলীয় পর্যায়ে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে মির্জা ফখরুলের পরিবারের সদস্যদের নামও আলোচনায় এসেছে।
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেন, এ বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। আসনটি শূন্য হওয়ার পর নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণা করবে। তখন দলীয় ফোরামে আলোচনা এবং স্থানীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে পরামর্শ করে দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে।
আলোচনায় থাকা শামারুহ মির্জা পেশাগতভাবে একজন গবেষক ও শিক্ষাবিদ। তিনি দীর্ঘদিন ধরে অস্ট্রেলিয়ায় বসবাস ও কর্মরত আছেন। তার একাডেমিক ও পেশাগত কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি বাবার রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণেও বিভিন্ন সময়ে তিনি আলোচনায় এসেছেন।
রাজনীতিতে তার সরাসরি সম্পৃক্ততা খুব বেশি দৃশ্যমান না হলেও তরুণ প্রজন্ম, শিক্ষিত মধ্যবিত্ত ও নারী ভোটারদের মধ্যে তার একটি পরিচ্ছন্ন ও ইতিবাচক ভাবমূর্তি রয়েছে, যা রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে বলে মনে করছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা।
মির্জা ফখরুলের ছোট ভাই মির্জা ফয়সাল আমিন ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি। ঠাকুরগাঁও পৌরসভার সাবেক মেয়র ও জেলা বিএনপির এই শীর্ষ নেতা দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূলের রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।
স্থানীয় বিএনপি নেতারা বলেন, ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর এলাকায় বেশ কিছু বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন মির্জা ফখরুলের ছোট ভাই।
অন্যদিকে, তার মেয়ে এখনো সেভাবে সরাসরি রাজনীতির মাঠে পা রাখেননি।
ঠাকুরগাঁও সদর, ভুল্লি ও রুহিয়া নিয়ে গঠিত ঠাকুরগাঁও-১ আসনটি দীর্ঘদিন ধরেই ‘মির্জা পরিবারের ঘাঁটি’ হিসেবে পরিচিত। মির্জা ফখরুলের বাবা মরহুম মির্জা রুহুল আমিনের সময় থেকেই এ অঞ্চলে পরিবারটির রাজনৈতিক ভিত্তি তৈরি হয়। পরে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মাধ্যমে সেই ভিত্তি আরও শক্তিশালী হয়।
বৃহস্পতিবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের নির্বাচনী কর্তা এ এম এম নাসির উদ্দিনের কাছে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মনোনয়নপত্র জমা দেয় দলটি।
আগামী ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট হবে। তফসিল অনুযায়ী, ১৩ আগস্ট প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
আজ (১৬ আগস্ট) মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই হবে এবং ১৮ আগস্ট প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন।
সংসদে বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশ প্রতিনিধিত্ব রয়েছে। ফলে দলটির মনোনীত প্রার্থীই রাষ্ট্রপতি হবেন বলে মনে করা হচ্ছে; বাকি কেবল আনুষ্ঠানিকতা।
গত ২৪ জুলাই গুরুতর অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। সংবিধান অনুযায়ী, নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
এ সময় স্পিকারের দায়িত্ব পালন করছেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল। সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক দশকের বেশি সময় ধরে বিএনপির মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করছেন। ২০১১ সালে তিনি দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হন এবং ২০১৬ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে মহাসচিবের দায়িত্ব পান।
বেগম খালেদা জিয়া কারাবন্দি এবং তারেক রহমান বিদেশে অবস্থানকালে তিনি বিএনপির নেতৃত্ব দিয়েছেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেছেন।










































