
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের বর্তমান ‘রাকিব-নাছির’ কমিটির বিদায় প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর সংগঠনটির নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি নিয়ে আলোচনা জোরালো হয়েছে। বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায় ও ছাত্রদলের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রের দাবি, সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি আগস্টেই নতুন কমিটি ঘোষণা হতে পারে। তবে ঘোষণার সময় পিছিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাতে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ শীর্ষ পাঁচ নেতার ‘বিদায়ী’ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্য দিয়ে বর্তমান কমিটির বিদায় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে বলে মনে করছেন সংগঠনটির নেতারা।
সাক্ষাতের পর ছাত্রদলের সভাপতি মো. রাকিবুল ইসলাম রাকিব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে নতুন কমিটিকে স্বাগত জানানোর আহ্বান জানান। একই সঙ্গে দায়িত্ব পালনকালে কোনো ভুল হয়ে থাকলে তা ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ করেন তিনি।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রদলের নতুন কমিটি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, এ বিষয়ে তার কাছে তখন পর্যন্ত কোনো নির্দেশনা আসেনি। চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হলে তা সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হবে বলেও জানান তিনি।
সভাপতি পদে আলোচনায় একাধিক নাম
নতুন কমিটির সভাপতি পদে বর্তমান কমিটির একাধিক নেতার নাম আলোচনায় রয়েছে। ২০০৮-০৯ শিক্ষাবর্ষ থেকে সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত যুগ্ম সম্পাদক রিয়াদ রহমান, এইচ এম আবু জাফর, এজাজুল কবির রুয়েল, খোরশেদ আলম সোহেল ও মঞ্জুরুল আলম রিয়াদের নাম রয়েছে সম্ভাব্য তালিকায়।
এ ছাড়া ২০০৯-১০ শিক্ষাবর্ষ থেকে সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মমিনুল ইসলাম জিসান, সাংগঠনিক সম্পাদক আমানুল্লাহ আমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. হাসানুর রহমান, শরিফ প্রধান শুভ ও ফারুক হোসেনের নামও সভাপতি পদে আলোচনায় রয়েছে।
সাধারণ সম্পাদক পদে যারা আলোচনায়
সাধারণ সম্পাদক পদে ২০১০-১১ শিক্ষাবর্ষ থেকে সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তরিকুল ইসলাম তারিক এবং সহসভাপতি আনিসুর রহমান খন্দকার অনিকের নাম আলোচনায় রয়েছে।
এ ছাড়া ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষ থেকে সংগঠনের বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করা সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক মিনহাজ আহমেদ প্রিন্স, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাজু আহমেদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস, সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন, গাজী সাদ্দাম হোসেন, ইব্রাহিম খলিল, মাসুদুর রহমান মাসুদ, তারেক হাসান মামুন, নাছির উদ্দীন শাওন ও জাহিদ হাসান শাকিলের নামও আলোচনায় রয়েছে।
এ ছাড়া সহসভাপতি জিয়াউদ্দিন বাসেত ও সালেহ মোহাম্মদ আদনানের নামও শীর্ষ পদে সম্ভাব্য হিসেবে আলোচিত হচ্ছে।
নেতৃত্ব বাছাইয়ে আন্দোলন ও সাংগঠনিক দক্ষতায় গুরুত্ব
ছাত্রদলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনে বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা, সাংগঠনিক দক্ষতা, ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি, ত্যাগ, দলের প্রতি আনুগত্য এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে গ্রহণযোগ্যতাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে নিয়মিত শিক্ষার্থী, বিতর্কমুক্ত ও শিক্ষার্থীবান্ধব নেতাদের অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।
পদপ্রত্যাশীদের কয়েকজনের মতে, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে—এমন নেতাদের মধ্য থেকেই নেতৃত্ব নির্বাচন করা হলে সংগঠন আরও শক্তিশালী হবে।
কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক রিয়াদ রহমান বলেন, ছাত্ররাজনীতি বন্ধ করা কোনো সমাধান নয়। তার মতে, ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের আন্দোলনে ছাত্রসমাজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ভবিষ্যতের নেতৃত্বকে নৈতিক, শিক্ষার্থীবান্ধব ও গ্রহণযোগ্য হতে হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মমিনুল ইসলাম জিসান জানান, সংগঠনের তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত তার নিবিড় যোগাযোগ রয়েছে এবং সহযোদ্ধা-কর্মীদের একটি অংশ তাকে সভাপতি হিসেবে দেখতে চান। তবে নেতৃত্ব নির্বাচনে তিনি দলের সর্বোচ্চ সাংগঠনিক অভিভাবক তারেক রহমানের সিদ্ধান্তের ওপর আস্থাশীল বলে জানান।
অন্যদিকে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রাজু আহমেদ বলেন, নতুন নেতৃত্ব ও নতুন উদ্যমে এগিয়ে যেতে সারা দেশের ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা অপেক্ষা করছেন। তার প্রত্যাশা, তারেক রহমান শিগগিরই নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি উপহার দেবেন।
চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দলের শীর্ষ নেতৃত্বের
দলীয় সূত্রগুলোর দাবি, ছাত্রদলের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ফলে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় থাকা নেতাদের মধ্যে শেষ পর্যন্ত কারা দায়িত্ব পাচ্ছেন, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
চলতি আগস্টে কমিটি ঘোষণার সম্ভাবনা থাকলেও নির্দিষ্ট সময় এখনো চূড়ান্ত হয়নি। নতুন নেতৃত্ব নিয়ে ইতোমধ্যে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তাদের প্রত্যাশা, জুলাই গণঅভ্যুত্থানসহ সাম্প্রতিক আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা রাখা ত্যাগী, পরীক্ষিত ও সাংগঠনিকভাবে দক্ষ নেতাদের মূল্যায়নের ভিত্তিতে নতুন কমিটি গঠন করা হবে।













































