প্রচ্ছদ হেড লাইন মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে বিএনপির মহাসচিব হবেন কে

মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে বিএনপির মহাসচিব হবেন কে

সব কিছু ঠিক থাকলে আগামী ২০ আগস্ট থেকেই নতুন রাষ্ট্রপতি পাচ্ছে বাংলাদেশ। এ ক্ষেত্রে ক্ষমতাসীন দলে সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত হচ্ছে বর্তমান মহাসচিব ও এলজিআরডি মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দলের উচ্চ পর্যায় কয়েকজন নেতা জানান, মির্জা ফখরুলই বিএনপির মনোনয়ন পাচ্ছেন, এটা প্রায় নিশ্চিত। অফিসিয়ালি ঘোষণা না হলেও এটাকে ‘নিশ্চিত’ ধরেই আরও একটি বিষয় নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে— মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যদি রাষ্ট্রপতি হয়েই যান, তাহলে বিএনপির পরবর্তী মহাসচিব কে হচ্ছেন?

দলের একাধিক সূত্র বলছে, মহাসচিবের পদ শূন্য হলে পদাধিকার বলে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আপাতত ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করবেন। পরবর্তী সময়ে চলতি বছরের ডিসেম্বর বা আগামী জানুয়ারিতে দলীয় কাউন্সিলে তাকে ভারমুক্ত করে পূর্ণ মহাসচিব করা হতে পারে। যদিও তার বাইরেও সাবেক ছাত্র নেতৃত্ব থেকে বিএনপিতে আসা কয়েকজন নেতার নামও আলোচনায় রয়েছে। এক্ষেত্রে স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের নামও জোরেশোরে আলোচিত হচ্ছে। কোনও কারণে এই দুই জনের কেউ মহাসচিব না হলে— আরও দুই সাবেক ছাত্রনেতার মধ্য থেকে একজনকে বেছে নেওয়া হতে পারে। তারা হলেন, কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি কিংবা যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল।

রাজপথের অভিজ্ঞতা ও ক্লিন ইমেজেরে কারণে ঘুরেফিরে এই চারজনের নামই মহাসচিব পদে আলোচনায় আসছে। তবে এর বাইরেও অন্য কেউ মহাসচিব হতে পারেন এমন সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি কেউই।

কেন জোরেশোরে দুই নাম

মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হয়ে গেলে মহাসচিব পদে তার উত্তরসূরী হিসেবে একাধিক নেতা আলোচনায় থাকলেও এর মধ্যে সালাহউদ্দিন আহমদ ও রুহুল কবির রিজভীর সম্ভাবনা বেশি হওয়ার পেছনে একাধিক কারণকে বিবেচ্য হিসেবে দেখছে হাইকমান্ড। সূত্র জানায়, তারা ছাত্রজীবন থেকেই আপাদমস্তক রাজনীতিবিদ ও রাজপথের পরীক্ষিত নেতা।

এর মধ্যে স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণে তার দক্ষতা এবং দীর্ঘ অভিজ্ঞতাকে বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা, গুমের শিকার হওয়া এবং সংসদের ভেতরে-বাইরে তার তথ্যপূর্ণ বাগ্মিতার কারণেও মহাসচিব হিসেবে আলোচনার শীর্ষে রয়েছেন তিনি। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ হিসেবেও সালাহউদ্দিন আহমদের সম্ভাবনা বেশি বলে দাবি সূত্রটির।

মহাসচিব পদে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আলোচনায় রয়েছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। দীর্ঘদিন দলের দফতর ও সাংগঠনিক কার্যক্রম সামলানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। বিগত দেড় দশকে মামলা-হামলা উপেক্ষা করেই নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অবস্থান করেন তিনি। রাজপথে মিছিল করতে গিয়ে বাধার মুখেও পিছপা হননি। অনেক সময় হামলায় রক্তাক্ত হয়েছেন। বারবার কারাগারে গেছেন। তারপরও তখন নয়াপল্টনই যেন ছিল তার ঘরবাড়ি। এমনকি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা হলেও নয়াপল্টন কার্যালয়ে তার যাতায়াত কোনোভাবেই কমেনি। তাই একজন নিবেদিতপ্রাণ রাজনীতিক হিসেবে প্রধানমন্ত্রী ও শীর্ষনেতাদের গুডবুকে তাঁর নামও আছে।

আলোচনায় আরও দুই যুগ্ম মহাসচিব

বিএনপির আরেকটি সূত্র জানায়, মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে সালাহউদ্দিন আহমদ এবং রিজভীর বাইরেও আলোচনায় রয়েছেন আরও দুই যুগ্ম মহাসচিব। তারা হলেন শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি ও হাবিব উন নবী খান সোহেল।

এর মধ্যে শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বিএনপির যুগ্ম মহাসচিবের পাশাপাশি বর্তমান সরকারের পানিসম্পদ মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। ছাত্রদল থেকে রাজনীতির হাতেখড়ি থেকে রাজপথেও ছিলেন সক্রিয়। বিগত দিনে কারা-নির্যাতিত হয়েছেন। ক্লিন ইমেজের কারণে লক্ষ্মীপুর থেকে বারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সব কিছু বিবেচনায় তিনিও মহাসচিব হতে পারেন বলে জানা গেছে।

এছাড়া জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেলও মহাচিব হওয়ার সম্ভাবনা রযেছে বলে জানান একাধিক নেতা্। ছাত্রদল-স্বেচ্ছাসেবক দল সামলিয়ে মূল দল বিএনপির দুর্দিনেও রাজপথে সক্রিয় ছিলেন তিনি। সরকারবিরোধী আন্দোলন করতে গিয়ে বারবার গ্রেফতার হয়েছেন। তারেক রহমানের নেতৃত্বে দলের অনেক নেতেই মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীসহ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্বপ্রাপ্ত হলেও সরকারে কোনও পদ পাননি তিনি। এমনকি গত নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়নও পাননি এ নেতা। তবে দলের আনুগত্য লঙ্ঘন করেননি। অনেকের ধারণা, দল হয়তো তাকে নিয়ে বড় চিন্তা করছে। তাই সরকারের কোনও পদে রাখা হয়নি। সেক্ষেত্রে আগামীতে বিএনপির মহাসচিব পদে তাকে দেখা গেলেও অবাক হওয়ার কিছু নেই।

এখনই চূড়ান্ত কিছু বলতে নারাজ বিএনপি

রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর— গণমাধ্যমে এমন খবর চাউর হলেও এ বিষয়ে সরকার বা বিএনপির পক্ষ থেকে খোলাসা করে কিছু বলা হচ্ছে না। আগামী ১৩ আগস্ট রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির মনোনীত রাষ্ট্রপতি প্রার্থীর নাম জানানো হবে বলে জানিয়েছে দলটি। একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে মহাসচিব পদ নিয়েও। এ নিয়েও কঠোর গোপনীয়তা অবলম্বন করা হচ্ছে। নেতারাও এসব বিষয়ে গণমাধ্যমে হিসাব করে কথা বলছেন। সর্বশেষ গত ১ আগস্ট দলের গুলশান কার্যালয়ে স্থায়ী কমিটির বৈঠকের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ গণমাধ্যমকে জানান, রাষ্ট্রপতি ও মহাসচিব নির্বাচনসহ সার্বিক বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব দলীয় চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর ন্যাস্ত করা হয়েছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তিনিই নেবেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির এক সংসদ সদস্য জানান, আসলে রাষ্ট্রপতি ও পরবর্তী মহাসচিব কে হচ্ছেন— মোটামুটি সেই বৈঠকেই চূড়ান্ত হয়ে গেছে। কৌশলগত কারণে এখনই তা প্রকাশ করা হচ্ছে না।

জানতে চাইলে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি বা দলের পরবর্তী মহাসচিব কে হচ্ছেন, এ নিয়ে অনেকে অনেক কথা বললেও আমাদের পক্ষে বলা কঠিন। কারণ যিনি এখন মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করছেন, তিনি রাষ্ট্রপতি হলেই তো মহাসচিবের পদ নিয়ে কথা হবে। যদি মহাসচিবের পদ শূন্য হয়, সেক্ষত্রে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী একজন ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করবেন। পরবর্তীকালে কাউন্সিলের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ মহাসচিব নির্বাচন করা হবে।’ আপাতত এর বাইরে কিছু বলা সম্ভব নয় বলে তিনি জানান।