
ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর ভারতে পালিয়ে থাকা ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা দেশে ফিরলেই তাকে গ্রেপ্তার করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায় কার্যকরের আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। সরকারের একটি দায়িত্বশীল সূত্র এনপিবি নিউজকে জানিয়েছে এ তথ্য জানিয়েছে।
সূত্র জানায়, মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন এবং বর্তমানে তিনি ওই মামলার পলাতক দণ্ডিত আসামি। ট্রাইব্যুনাল আইনে নির্ধারিত আপিলের সময়সীমা ইতোমধ্যে অতিক্রম হওয়ায় রায় কার্যকরে আইনগত বাধা নেই বলে সরকারের অবস্থান।
সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে ফেরার ইচ্ছার কথা জানান। এরপরই দেশে ফিরলে তার আইনি অবস্থান কী হবে, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। এর আগে বাংলাদেশ সরকারও বন্দি বিনিময় চুক্তির আওতায় শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর চেষ্টা করেছিল।
২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকেও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন, ১৯৭৩-এর ২১ ধারায় বলা হয়েছে, দণ্ডিত ব্যক্তি, সরকার বা অভিযোগকারী রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করতে পারবেন। নির্ধারিত সময় অতিক্রম করলে আপিল গ্রহণের সুযোগ থাকে না। সরকারের দায়িত্বশীল সূত্রটি এই বিধান উল্লেখ করে বলেছে, শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে রায় কার্যকরে আইনগত বাধা থাকবে না।
তবে এ বিষয়ে আইন অঙ্গনে ভিন্ন ব্যাখ্যাও রয়েছে। একাধিক আইনজীবীর মতে, নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মামলায় আপিল গ্রহণের নজির রয়েছে। উদাহরণ হিসেবে সম্প্রতি মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আবুল কালাম আজাদের আপিল গ্রহণের বিষয়টি উল্লেখ করা হচ্ছে। পাশাপাশি শেখ মুজিবুর রহমান হত্যা মামলার দণ্ডিতদের ক্ষেত্রেও বিলম্বিত আপিল গ্রহণের নজির রয়েছে।
তাঁদের মতে, সংবিধানের ১০৪ অনুচ্ছেদের অধীনে ‘কমপ্লিট জাস্টিস’-এর নীতি অনুসরণ করে আপিল বিভাগ বিশেষ ক্ষেত্রে বিলম্বিত আপিল গ্রহণ করতে পারেন।
সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শাহদীন মালিকও গণমাধ্যমে বলেছেন, শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তার আপিল করার সুযোগ থাকতে পারে।
তিনি বলেন, রায়ের এক মাসের মধ্যে আপিলের বিধান থাকলেও বাস্তবে সব ক্ষেত্রে তা কঠোরভাবে অনুসরণ করা হয় না। অতীতেও ১০ থেকে ১৫ বছর পর আপিল গ্রহণের নজির রয়েছে। তাঁর ভাষ্য, সময়সীমা অতিক্রম করলেও আপিল গ্রহণ করা হবে কি না, সেটি আদালতের বিবেচনার বিষয়।
শেখ হাসিনার পাসপোর্ট বাতিল করা হয়েছে। ফলে দেশে ফিরতে হলে তাকে নতুন পাসপোর্ট বা ট্রাভেল পারমিটের মতো প্রয়োজনীয় ভ্রমণ নথি সংগ্রহ করতে হবে। সে ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। সরকারের সূত্রের দাবি, দেশে প্রবেশের পর তিনি গ্রেপ্তার হবেন এবং পরবর্তী আইনি কার্যক্রম শুরু হবে।
এদিকে ক্ষমতাচুত্যির দুই বছর পর প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে আসতে যাচ্ছেন শেখ হাসিনা। ইন্ডিয়া টুডের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, আগামী ৫ আগস্ট ভারতের নয়াদিল্লিতে এফসিসি সাউথ এশিয়া আয়োজিত এক ভার্চ্যুয়াল অনুষ্ঠানে তিনি নিজের রাজনৈতিক পরিকল্পনা এবং বাংলাদেশে ফেরার রূপরেখা তুলে ধরবেন।
আগামী ৫ আগস্ট সন্ধ্যা ৬টা থেকে সাড়ে ৭টা পর্যন্ত নয়াদিল্লির মাথুরা রোডের স্যার মার্ক টুলি অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হবে। ক্লাবের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এটি সরাসরি সম্প্রচার করা হবে বলেও জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমটি।











































