
জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের পর বিপ্লবীদের প্রতিনিধি হিসেবে নাহিদ ইসলাম, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও মাহফুজ আলমের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্তটি সঠিক ছিল না বলে মন্তব্য করেছেন দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমান। তার মতে, ক্ষমতার অংশীদার না হয়ে তাদের উচিত ছিল সরকারের বাইরে থেকে বিপ্লবের মূল দর্শন ও একটি নতুন বিপ্লবী রাজনৈতিক দল গঠনে আত্মনিয়োগ করা।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর দ্য ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশে (আইইবি) আয়োজিত এক স্মারক আলোচনা সভায় মাহমুদুর রহমান এই অভিমত ব্যক্ত করেন। ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদ, বিশেষত শহীদ প্রকৌশলীদের স্মরণে’ এই সভার আয়োজন করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সহযোগী সংগঠন ‘ন্যাশনাল ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যালায়েন্স অব বাংলাদেশ’ (এনইএবি)।
সরকারে তরুণ নেতাদের অংশগ্রহণ নিয়ে বিষদ ব্যাখ্যা দিয়ে মাহমুদুর রহমান বলেন, ফ্যাসিবাদের দোসরদের বর্তমান স্পর্ধার পেছনে বিপ্লবীদের মধ্যকার অনৈক্য ও কৌশলগত ভুল সিদ্ধান্তই দায়ী। কিউবার বিপ্লবের উদাহরণ টেনে তিনি উল্লেখ করেন, বিপ্লবের নিয়ম অনুযায়ী হয় সবাই মিলে সরকার গঠন করতে হয়, নয়তো বাইরে থেকে নেতৃত্ব দিতে হয়। প্রচলিত ব্যবস্থার অধীনে গঠিত সরকারে প্রবেশ করার কারণে বিপ্লবীদের ওপর মূল প্রশাসনিক ব্যর্থতার দায় চেপেছে। যদি তারা বাইরে থাকতেন, তবে ক্ষমতার দায়বদ্ধতা এড়িয়ে আন্দোলনের প্রকৃত ‘জুলাই দর্শন’ তৈরি ও আন্দোলনের প্রকৃতি (অভ্যুত্থান, বিপ্লব নাকি আন্দোলন) স্পষ্ট করতে পারতেন।
তবে বিপ্লবীদের তরফ থেকে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা করার সিদ্ধান্তকে শতভাগ সঠিক ও সময়োপযোগী হিসেবে অবিহিত করেন তিনি। তৎকালীন রাজনৈতিক সংকটে অধ্যাপক ইউনূসের কোনো বিকল্প ছিল না বলেও মন্তব্য করেন এই প্রবীণ সাংবাদিক।
উক্ত আলোচনা সভায় জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির গোলাম আযমের ছেলে ও সাবেক সেনা কর্মকর্তা আবদুল্লাহিল আমান আযমী এক নতুন রাজনৈতিক উদ্যোগের কথা প্রকাশ করেন। তিনি জানান, রাজনৈতিক সংঘাত এড়াতে তিনি অরাজনৈতিক, দেশপ্রেমিক ও দূরদর্শী ব্যক্তিবর্গকে সঙ্গে নিয়ে একটি ‘জাতীয় পুনর্মিলন উদ্যোগ’ শুরু করতে যাচ্ছেন, যা দলগুলোর মধ্যে কাদা ছোড়াছুড়ি বন্ধে কাজ করবে।
অনুষ্ঠানে জামায়াতে ইসলামীর সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মারদিয়া মমতাজ সংসদীয় ব্যবস্থা ও সংসদ সদস্যদের অভিজ্ঞতার সমালোচনা করে বলেন, অনেক জনপ্রতিনিধি আইন বা বিল না বুঝে কেবল চিফ হুইপের নির্দেশনায় দলীয় লাইনে হ্যাঁ বা না ভোট দিয়ে যাচ্ছেন।
অন্যদিকে প্রধান বক্তার বক্তব্যে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী সরকারের নজরদারি ব্যবস্থার তীব্র সমালোচনা করেন। জামায়াত এমপি গাজী নজরুলের সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ঘটনাপ্রবাহের প্রসঙ্গ টেনে তিনি অভিযোগ করেন, সরকার সাধারণ নাগরিক ও নেতাদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা বা প্রাইভেসি লঙ্ঘন করছে এবং অনৈতিকভাবে সিসিটিভি নজরদারি জোরদার করেছে।
এনইএবির আহ্বায়ক মো. আবদুল হামিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে এনসিপির সংসদ সদস্য আতিক মোজাহিদ, ঢাকা জেলা উত্তর শাখার আহ্বায়ক নাবিলা তাসনিদ, জাতীয় যুবশক্তির আহ্বায়ক তারিকুল ইসলাম এবং শহীদ জাহিদুজ্জামান তানভীনের মা বিলকিস জামানসহ অন্যান্যরা বক্তব্য রাখেন।










































