প্রচ্ছদ জাতীয় শ্বশুরবাড়িতে সাবেক ছাত্রদল নেতার রহস্যজনক মৃত্যু

শ্বশুরবাড়িতে সাবেক ছাত্রদল নেতার রহস্যজনক মৃত্যু

শেরপুর জেলা শহরের শ্বশুরবাড়িতে আলী রেজা (২৫) নামে জেলা ছাত্রদলের এক সাবেক নেতার রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের দাবি, তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে প্রচারের চেষ্টা করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) ভোররাতে শহরের পৌর ট্রাক টার্মিনাল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত আলী রেজা শহরের বাগরাকসা এলাকার কাঁচামাল ব্যবসায়ী মো. শহিদুল ইসলাম কালুর ছেলে। তিনি শেরপুর জেলা ছাত্রদলের সাবেক প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন মাস আগে পরিবারের অমতে সিকিউরিটি গার্ড মো. লুৎফর রহমানের মেয়ে লুৎফুন্নাহার লোপাকে বিয়ে করেন আলী রেজা। বিয়ের পর স্ত্রীকে নিয়ে তিনি শ্বশুরের ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন।

পরিবারের ভাষ্য, ভোরে শ্বশুরবাড়ির লোকজন আলী রেজাকে শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান এবং তাদের জানানো হয়, তিনি আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন। খবর পেয়ে স্বজনরা হাসপাতালে গিয়ে তাকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান।

নিহতের ভাই আলী নকিব অভিযোগ করে বলেন, আমার ভাইকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। গলায় যে চেইনটি সে সবসময় পরত, সেটির দাগও স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। আমরা বিশ্বাস করি, এটি আত্মহত্যা নয়, পরিকল্পিত হত্যা। আমার ভাইয়ের হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি। পাশাপাশি শেরপুরবাসীর কাছে অনুরোধ করছি, বিষয়টিকে নিজেদের ভাইয়ের হত্যাকাণ্ড হিসেবে বিবেচনা করে ন্যায়বিচারের দাবিতে পাশে থাকুন।

নিহতের ভাই আলী হাসান ও চাচা একাব্বর আলীও অভিযোগ করেন, পরিবারের অমতে এই বিয়ে হয়েছিল। তাদের দাবি, বিয়ের আগে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন রাখা হয়েছিল এবং পরিকল্পিতভাবে আলী রেজাকে হত্যা করা হয়েছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে আলী রেজার শ্বশুর মো. লুৎফর রহমান ও স্ত্রী লুৎফুন্নাহার লোপার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে শেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহেল রানা বলেন, প্রথমে নিহতের পরিবার ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ গ্রহণ করতে চেয়েছিল। তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। পরে তারা সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করলে মঙ্গলবার বিকেলে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শেরপুর জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় আপাতত একটি অপমৃত্যু মামলা রুজু হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে এবং সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।