প্রচ্ছদ আর্ন্তজাতিক বাংলাদেশে ভারতের একচ্ছত্র আধিপত্যের দিন এখন স্পষ্টতই শেষ’

বাংলাদেশে ভারতের একচ্ছত্র আধিপত্যের দিন এখন স্পষ্টতই শেষ’

২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে নতুন কিছু কৌশলগত পরিবর্তনের আলোচনা জোরালো হয়েছে। ভারত, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের ভারসাম্য রক্ষা, আঞ্চলিক সংযোগ বৃদ্ধি এবং নতুন অর্থনৈতিক অংশীদার খোঁজার প্রচেষ্টা—সব মিলিয়ে দেশের কূটনৈতিক অবস্থান নিয়ে নতুন করে বিশ্লেষণ করছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা।

সম্প্রতি দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ডেপুটি চিফ অব মিশন জন এফ ড্যানিলোভিচ বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক, চীন-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডোর, রোহিঙ্গা সংকট এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভবিষ্যৎ সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে নিজের মূল্যায়ন তুলে ধরেন।

ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক
সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক ইতিহাস ও ভৌগোলিক বাস্তবতার কারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে সাম্প্রতিক বিভিন্ন রাজনৈতিক ও আইনি ইস্যু দুই দেশের সম্পর্কে কিছুটা জটিলতা সৃষ্টি করেছে। তার মতে, শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান এবং তাকে ঘিরে বাংলাদেশের আইনি প্রক্রিয়া দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে একটি আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে।

ড্যানিলোভিচের ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমান সরকার ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে ধীরে ও সতর্ক কূটনৈতিক কৌশল অনুসরণ করছে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, দুই দেশের জনগণের মধ্যে ছড়িয়ে পড়া বিভ্রান্তিকর তথ্য ও রাজনৈতিক প্রচারণাও পারস্পরিক আস্থার ওপর প্রভাব ফেলছে।

চীন ও আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সংযোগ
চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক করিডোর নিয়ে আলোচনার বিষয়ে তিনি বলেন, রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণ এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য বাংলাদেশের নতুন অর্থনৈতিক অংশীদার প্রয়োজন। তার মতে, চীন এ ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগকারী ও বাজার হতে পারে।

তিনি আরও মত দেন, ভবিষ্যতে মিয়ানমারের পরিস্থিতি স্থিতিশীল হলে দেশটির সঙ্গে অর্থনৈতিক যোগাযোগ বাড়ানো বাংলাদেশের জন্য স্বাভাবিক পদক্ষেপ হবে। তবে দক্ষ কূটনীতি অনুসরণ করা গেলে এটি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়াবে না বলেও তিনি মনে করেন।

রোহিঙ্গা সংকট
রাখাইন রাজ্যে মানবিক করিডোর গঠনের সম্ভাবনা নিয়েও তিনি মন্তব্য করেন। তার মতে, দীর্ঘমেয়াদে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা শরণার্থীর দায়িত্ব একা বাংলাদেশের পক্ষে বহন করা কঠিন। তাই মিয়ানমারে অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি এবং নিরাপদ প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানো বাস্তবসম্মত উদ্যোগ হতে পারে। এ বিষয়ে প্রচলিত কিছু সমালোচনা ভুল তথ্যের ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে বলেও তিনি দাবি করেন।

আঞ্চলিক কূটনীতি
দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক সহযোগিতার সীমাবদ্ধতার কারণে বাংলাদেশ আসিয়ান ও ডি-৮সহ অন্যান্য বহুপাক্ষিক প্ল্যাটফর্মে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে বলে উল্লেখ করেন ড্যানিলোভিচ। তার মতে, আসিয়ানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা আরও বাড়াতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক
বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়েও আশাবাদ ব্যক্ত করেন সাবেক এই মার্কিন কূটনীতিক। তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও কৌশলগত সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করার বিষয়ে আলোচনা চলছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীরা দুই দেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

উল্লেখ্য, এসব মূল্যায়ন জন এফ ড্যানিলোভিচের ব্যক্তিগত বিশ্লেষণ ও মতামত, যা সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের অবস্থান বা আনুষ্ঠানিক নীতির প্রতিফলন নয়।

সূত্র: দ্য ডেল্টাগ্রাম