প্রচ্ছদ আন্তর্জাতিক আর্জেন্টিনা–কেপ ভার্দে ম্যাচে জিতবে কে? যা বলছে পরিসংখ্যান

আর্জেন্টিনা–কেপ ভার্দে ম্যাচে জিতবে কে? যা বলছে পরিসংখ্যান

নকআউটের মঞ্চে ভুলের কোনো সুযোগ নেই। এমন এক ম্যাচের আগে আর্জেন্টিনা ও কেপ ভার্দেকে ঘিরে নজর কাড়ছে বেশ কিছু পরিসংখ্যান, রেকর্ড ও তথ্য।
বিশ্বকাপের শেষ বত্রিশের এই ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে বাংলাদেশ সময় শনিবার (৪ জুলাই) ভোর ৪টায়। মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে প্রথমবারের মতো মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা ও কেপ ভার্দে, যেখানে জয়ী দল নিশ্চিত করবে শেষ ষোলোর টিকিট।

দুই দলের এটি হবে ইতিহাসের প্রথম সাক্ষাৎ। আর সেই প্রথম দেখাতেই বিশ্বকাপের নকআউট মঞ্চে লড়াই—যা ম্যাচটিকে দিয়েছে বাড়তি গুরুত্ব।

আর্জেন্টিনার জন্য ম্যাচটি বিশেষ আরেকটি কারণেও। জাতীয় দলের প্রধান কোচ হিসেবে এটি লিওনেল স্কালোনির ১০০তম ম্যাচ। তার অধীনেই সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নিজেদের অন্যতম সফল সময় পার করছে আলবিসেলেস্তেরা। এই সময়ে তারা জিতেছে ২০২১ ও ২০২৪ কোপা আমেরিকা, ২০২২ ফিনালিসিমা এবং ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ।

স্কালোনির প্রথম ৯৯ ম্যাচের রেকর্ডও ঈর্ষণীয়। এই সময়ে আর্জেন্টিনা জিতেছে ৭২টি ম্যাচ, ড্র করেছে ১৮টি এবং হেরেছে মাত্র ৯টিতে। এ ছাড়া, ২০১৯ সালের জুলাই থেকে ২০২২ সালের নভেম্বর পর্যন্ত টানা ৩৬ ম্যাচ অপরাজিত ছিল আলবিসেলেস্তেরা।

নকআউট পর্বে আর্জেন্টিনার ধারাবাহিকতাও বেশ শক্তিশালী। যেকোনো প্রতিযোগিতার নকআউটে তাদের সবশেষ হার সাত বছর আগে, ২০১৯ কোপা আমেরিকার সেমিফাইনালে ব্রাজিলের বিপক্ষে। বর্তমানে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে নকআউট ম্যাচসহ টানা ১০ জয়ের আত্মবিশ্বাস নিয়ে মাঠে নামবে তারা।

লিওনেল মেসির পারফরম্যান্সও স্কালোনির অধীনে নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। এই কোচের অধীনে ৭৪ ম্যাচে ৫৮ গোল করেছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক, যা ম্যাচপ্রতি গড়ে শূন্য দশমিক ৭৮ গোল। এর আগে জাতীয় দলে ১২৮ ম্যাচে তার গোল ছিল ৬৫টি, যেখানে ম্যাচপ্রতি গড় ছিল শূন্য দশমিক ৫১।

চলতি বিশ্বকাপেও দুর্দান্ত ছন্দে আছেন মেসি। ছয় গোল নিয়ে তিনি সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় ফ্রান্সের অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পের সঙ্গে যৌথভাবে শীর্ষে আছেন। উল্লেখযোগ্য বিষয়, এমবাপ্পের তুলনায় একটি ম্যাচ কম খেলেই এই সংখ্যায় পৌঁছেছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।

অন্যদিকে, প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলেই নজর কেড়েছে কেপ ভার্দে। গ্রুপ পর্বে স্পেন, উরুগুয়ে ও সৌদি আরবের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ফল এনে নকআউটে জায়গা করে নেয়া দলটি শেষ বত্রিশে ওঠা ৩২ দলের মধ্যে সবচেয়ে কম গোল করা দল। তাদের দুটি গোলই এসেছে উরুগুয়ের বিপক্ষে ড্র করা ম্যাচে।

তবে পরিসংখ্যানের বিচারে আর্জেন্টিনা স্পষ্ট ফেভারিট হলেও নকআউটের মঞ্চে কেপ ভার্দের মতো চমক জাগানো দলের বিপক্ষে কোনো ধরনের আত্মতুষ্টির সুযোগ থাকছে না। কারণ নকআউটের মঞ্চে ভুলের সুযোগ নেই।