
একীভূত হওয়া দেশের পাঁচটি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকের সাধারণ আমানতকারীদের অর্থ ধাপে ধাপে ফেরত দেওয়া হবে বলে আশ্বস্ত করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। আজ সোমবার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদে আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেন।
বাজেট আলোচনায় অর্থমন্ত্রী ওই ৫ ব্যাংকের গ্রাহকদের আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বর্তমান বিএনপি সরকারের সুনির্দিষ্ট অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। আমানতকারীদের আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, ‘আমি দেশের সব সাধারণ আমানতকারীকে স্পষ্ট ভাষায় আশ্বস্ত করতে চাই—সাধারণ মানুষের কষ্টার্জিত আমানতের নিরাপত্তা ও তা রক্ষা করাই এই সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।’
ব্যাংকগুলোর বর্তমান অবস্থা এবং গ্রাহকদের টাকা তোলার প্রক্রিয়া নিয়ে অর্থমন্ত্রী জানান, একীভূত হওয়া ৫টি শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকের ব্যক্তিগত আমানতকারীরা আপাতত তাদের চলতি ও সঞ্চয়ী হিসাব থেকে তাৎক্ষণিকভাবে সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা পর্যন্ত তুলতে পারবেন; সেই ব্যবস্থা ইতিমধ্যে গ্রহণ করা হয়েছে। আর হিসাবের অবশিষ্ট অর্থ নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ধাপে ধাপে গ্রাহকদের ফেরত দেওয়া হবে।
বাজেট বক্তৃতায় ব্যাংকিং খাতের বহুল আলোচিত আইনি সংস্কারের বিষয়েও কথা বলেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘সদ্য প্রণীত ব্যাংক রেজলিউশন আইন, ২০২৬-এর ১৮(ক) ধারাটি নিয়ে বিভিন্ন অংশীজন ও বিশেষজ্ঞদের নানা মতামত ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। সার্বিক বিষয় বিবেচনা করে সরকার ওই বিতর্কিত ১৮(ক) ধারাটি সম্পূর্ণ বিলোপ বা বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’
সংসদে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের বার্তা একবারে স্পষ্ট ও জোরালো—বিগত দিনে যারা গায়ের জোরে জনগণের সম্পদ লুট করেছে কিংবা ব্যাংকিং খাতে আর্থিক অনিয়ম করেছে, তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। আইনি প্রক্রিয়ায় তাদের বিচার নিশ্চিত করা হবে। অন্যদিকে, সাধারণ মানুষের আমানতের শতভাগ সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার সব ধরনের পদক্ষেপ বজায় রাখবে।’













































