প্রচ্ছদ সারাদেশ পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে যুবককে মারধর, থানায় অভিযোগ

পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে যুবককে মারধর, থানায় অভিযোগ

মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার বেতিলা-মিতরা ইউনিয়নের পালড়া বাজারে পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে এক যুবককে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে শুক্রবার দুপুরে মানিকগঞ্জ সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন আহত যুবকের বাবা খোকন সরদার।

অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে মিঠু মোল্লা, শাহিন মোল্লা, খোকন মোল্লা, আওলাদ মোল্লা, সুরুজ মোল্লা, আইজুদ্দিন, মাসুদ ও সাইফুলসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৬-৭ জনকে।

লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বেতিলা-মিতরা ইউনিয়নের পশ্চিম রাথুরা গ্রামের বাসিন্দা খোকন সরদারের কাছ থেকে প্রায় দুই বছর আগে ইটভাটায় কাজ করার অগ্রিম বাবদ ১ লাখ ১৩ হাজার টাকা নেন সোহেল নামে এক ব্যক্তি। তবে টাকা গ্রহণের পর তিনি ইটভাটায় কাজ না করায় খোকন সরদার বিভিন্ন সময় ওই টাকা ফেরত দাবি করেন। এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল এবং টাকা ফেরত চাইলে অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হতো বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ৪ জুন রাত আনুমানিক ৮টার দিকে খোকন সরদারের ছেলে সুমন সরদার (২৫) পালড়া বাজারের একটি চটপটির দোকানে বসে ছিলেন। এ সময় অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সেখানে উপস্থিত হয়ে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।

হামলাকারীরা চাপাতি, ছেনি, লোহার রড, হাতুড়ি, কাঠের বাটাম ও লাঠি দিয়ে সুমনকে এলোপাতাড়ি মারধর করে। একপর্যায়ে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথা লক্ষ্য করে চাপাতি দিয়ে কোপ দেওয়া হয়। তবে সুমন সরে যাওয়ায় কোপটি তার ডান পায়ের টাকনুর ওপর লাগে এবং তিনি গুরুতর রক্তাক্ত জখম হন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

সুমনকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে তার ভাই সোহাগ সরদার (২২) ও চাচাতো ভাই রবিউল (২০)-কেও মারধর করে আহত করা হয়। হামলার সময় সুমনের পকেটে থাকা একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।

স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সুমনের অবস্থা গুরুতর বিবেচনায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করেন।

অভিযোগকারী খোকন সরদার বলেন, “পাওনা টাকা ফেরত চাইতে গিয়ে এর আগেও মিঠু মোল্লা, শাহিন মোল্লা, খোকন মোল্লা, আওলাদ মোল্লা, সুরুজ মোল্লা, আইজুদ্দিন, মাসুদ ও সাইফুলসহ কয়েকজন আমাকে মারধর করে। সে সময় থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলাম। কিন্তু কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। উল্টো গতকাল রাতে তারা আমার ছেলে ও ভাতিজার ওপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়েছে। আমার ছেলে সুমন গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।”

তবে অভিযোগে উত্থাপিত বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তাদের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে মানিকগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মনির হোসেন বলেন, “মারামারির ঘটনার বিষয়ে আমরা অবগত হয়েছি। উভয় পক্ষই থানায় অভিযোগ দিয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”