প্রচ্ছদ জাতীয় মন্ত্রী হওয়ার আলোচনায় হাফ ডজন নেতা

মন্ত্রী হওয়ার আলোচনায় হাফ ডজন নেতা

মন্ত্রীপাড়ায় পরিবর্তনের পাশাপাশি বেশ কয়েকজন নতুন মুখের আগমনের সম্ভাবনা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে নানা আলোচনা। মন্ত্রিপরিষদ নতুন করে ঢেলে সাজাবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এমনই আভাস মিলেছে বিএনপি নেতাদের কাছ থেকে। এ আয়োজনে যেমন বাদ পড়তে পারেন বর্তমানের একাধিক মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী, তেমনই দপ্তর পরিবর্তনের পাশাপাশি পতাকাবাহী গাড়ির বহরে নতুন করে যোগ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বর্তমান সংসদ ও সংসদের বাইরে থাকা ৫-৬ জন নেতার।

সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনে বরিশাল অঞ্চলের ২১টি আসনের মধ্যে ১৮টিতে জয়ী হয়েছেন বিএনপি ও সমমনা দলগুলোর প্রার্থীরা। যে কোনো নিরপেক্ষ নির্বাচনে এভাবেই সব সময় বিএনপির পাশে থেকেছে এই অঞ্চলের মানুষ। সে অনুযায়ী বিএনপির কাছে তাদের দাবিও বেশি। আর সেই দাবিতেই মন্ত্রিপরিষদে এখানকার আরও কয়েকজনকে নেওয়ার দাবি তাদের। বর্তমান মন্ত্রিপরিষদে এ অঞ্চলের একজন মন্ত্রী এবং তিনজন প্রতিমন্ত্রী রয়েছেন। জাতীয় সংসদের স্পিকার এবং চিফ হুইপও বরিশাল অঞ্চলের। এছাড়াও আছেন প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর এক বিশেষ সহকারী। তবে এসবের পরও নিজেদের পরিপূর্ণ বলে মনে করছেন না এখানকার মানুষ। পটুয়াখালী জেলার যিনি প্রতিমন্ত্রী পদে রয়েছেন, তিনি বিএনপির নন। ফলে নিজেদের বঞ্চিত মনে করেন সেখানকার ৪টি নির্বাচনি এলাকার বিএনপি নেতাকর্মীরা।

মন্ত্রী হওয়ার আলোচনায় বরিশাল অঞ্চলের যে কজন নেতার নাম এখন পর্যন্ত শোনা যাচ্ছে, তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান, বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা সাবেক এমপি মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, বিজেপির (নাজিউর) চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ এমপি এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণবিষয়ক সম্পাদক এবিএম মোশাররফ হোসেন এমপি। এছাড়া বিএনপির চেয়ারম্যানের আরেক উপদেষ্টা বরিশাল সদর আসনের এমপি মজিবর রহমান সরোয়ার, কেন্দ্রীয় বিএনপির সহসভাপতি বিমানবাহিনীর সাবেক প্রধান আলতাফ হোসেন চৌধুরী এমপি, দলের কেন্দ্রীয় আইনজীবী নেতা অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদিন এমপি, বরিশাল জেলা (দক্ষিণ) বিএনপির আহ্বায়ক আবুল হোসেন খান এমপি এবং যুবদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন এমপিকে মন্ত্রিপরিষদে দেখতে চান তাদের নির্বাচনি এলাকার লোকজন।

আলোচ্য নেতাদের মধ্যে আছেন বর্ষীয়ান নেতা মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল। সরাসরি ভোটে এমপি হওয়া প্রশ্নে মনোনয়ন না দিলেও সংরক্ষিত মহিলা আসনে এমপি করা হয়েছে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমানকে। এর আগে একবার টেকনোক্র্যাট কোটায় প্রতিমন্ত্রী ছিলেন তিনি। মন্ত্রিপরিষদের সম্ভাব্য পরিবর্ধনে তাকে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি উঠেছে তার নির্বাচনি এলাকা বাবুগঞ্জ-মুলাদী থেকে।

পটুয়াখালী-৪ আসনের এমপি এবিএম মোশাররফ হোসেন। নির্বাচনি এলাকা আর রাজধানী ঢাকা মিলিয়ে হয়েছেন ২০/২২টি মামলার আসামি। পায়রা সমুদ্রবন্দরকে অবহেলার হাত থেকে বাঁচাতে এমপি মোশাররফের মন্ত্রিসভায় ঠাঁই হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করে সেখানকার মানুষ। একইভাবে বিজেপি (নাজিউর) চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ মন্ত্রিসভায় গেলে দ্বীপজেলা ভোলা দেশের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হবে বলে বিশ্বাস তার নির্বাচনি এলাকার মানুষের।

তাদের পাশাপাশি ছয়বারের এমপি সাবেক হুইপ ও সিটি মেয়র মজিবর রহমান সরোয়ার, বরিশাল জেলা (দক্ষিণ) বিএনপির আহ্বায়ক এবার নিয়ে দ্বিতীয়বার এমপি হওয়া আবুল হোসেন খান, সাবেক মন্ত্রী ও বিমানবাহিনী প্রধান আলতাফ হোসের চৌধুরী এমপি, আইনজীবী ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদিন এমপি এবং যুবদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন এমপি মন্ত্রিপরিষদে জায়গা পেলে অবহেলিত এই অঞ্চলের উন্নয়ন আরও তরান্বিত হবে বলে আশা সাধারণ মানুষের।

সূত্র : বাংলাদেশ টাইমস