প্রচ্ছদ অপরাধ ও বিচার মামাতো বোনের প্রেমের সালিশে ছুরিকাঘাত, প্রাণ গেল ফুফাতো ভাইয়ের

মামাতো বোনের প্রেমের সালিশে ছুরিকাঘাত, প্রাণ গেল ফুফাতো ভাইয়ের

যশোরের চৌগাছায় প্রতিপক্ষের উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে ঝন্টু মিয়া (৩০) নামে এক ফার্মেসী ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তার চাচাতো ভাই আশানুর রহমান (৩২) গুরুতর আহত হয়েছেন। তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৯ মে) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার দক্ষিণসাগর গ্রামে এই রক্তক্ষয়ী হতাহতের ঘটনা ঘটে।

নিহত ঝন্টু মিয়া (৩০) উপজেলার মাড়ুয়া গাজীপাড়ার শফিয়ার রহমানের ছেলে। তিনি পেশায় একজন ফার্মেসী ব্যবসায়ী ছিলেন। আহত আশানুর রহমান একই গ্রামের মশিয়ার রহমানের ছেলে এবং সম্পর্কে নিহতের চাচাতো ভাই।

নিহতের স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার ঝন্টুর মামতো বোন জুঁই (১৪) নামের এক কিশোরীকে ভাগিয়ে (অপহরণ) নিয়ে যায় দক্ষিণসাগর গ্রামের আমির হোসেনের ছেলে শান্তি মিয়া। এই ঘটনাটি মীমাংসার জন্য মঙ্গলবার রাতে দক্ষিণসাগর গ্রামে একটি সালিশ বৈঠকের আয়োজন করা হয়।

সালিশ বৈঠকে কিশোরী জুঁইকে ফেরত দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। তবে সালিশ শেষ হওয়ার পরপরই দুই পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে শান্তি মিয়ার পক্ষের আবু উবাইদাসহ কয়েকজন যুবক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ঝন্টু ও তার চাচাতো ভাই আশানুরের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং তাদের উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়।

স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় দুই ভাইকে উদ্ধার করে দ্রুত চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ঝন্টুকে মৃত ঘোষণা করেন। এছাড়া আশানুরের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে রেফার করা হয়।

হাসপাতালের জরুরী বিভাগের চিকিৎসক ডা. ফাহমিদা ইয়াসমিন জ্যোতি জানান, ‘আহতদের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনার পূর্বেই ঝন্টু মিয়ার মৃত্যু হয়েছিল। আমরা তাকে মৃত অবস্থায় পাই। এছাড়া আহত আশানুর রহমানের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক হওয়ায় রাত ৯টা ৫৫ মিনিটে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য যশোর সদর (জেনারেল) হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।’

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে চৌগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুর রশিদ জানান, কিশোরীর প্রেম ঘটিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। পুলিশ জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করেছে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।