প্রচ্ছদ অপরাধ ও বিচার ফাঁসির ‘কনডেম সেলে’ ঠাঁই হলো সোহেল-স্বপ্নার

ফাঁসির ‘কনডেম সেলে’ ঠাঁই হলো সোহেল-স্বপ্নার

রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তার হত্যাকাণ্ডের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত প্রধান দুই আসামিকে কারাগারের বিশেষ সেলে (কনডেম সেল) স্থানান্তর করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রধান আসামি সোহেল রানাকে কেরাণীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কাশিমপুর মহিলা কারাগারে রাখা হয়েছে।

সোমবার (৮ জুন) রাতে কারা অধিদপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (উন্নয়ন) মো. জান্নাত-উল ফরহাদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ফাঁসির অন্যান্য বন্দিদের মতো তাদেরও সব ধরনের নিরাপত্তা ও নিয়মের মধ্যে রাখা হয়েছে। আসামিদের মনস্তাত্ত্বিক অবস্থা ও সার্বিক নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে সেলগুলোতে সাধারণত একা না রেখে আয়তন অনুযায়ী ২ থেকে ৫ জন করে রাখা হয়।

দেশের বিচারিক ইতিহাসে অন্যতম দ্রুততম সময়ে মাত্র ৬ কার্যদিবসে আলোচিত এই মামলার রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন। রায়ে আসামিদের মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি আর্থিক জরিমানাও করা হয়।

ট্রাইব্যুনালের বেঞ্চ সহকারী পঙ্কজ পিটার গোমেজ জানিয়েছেন, মামলার ৬৬ পৃষ্ঠার মূল রায়সহ সব নথিপত্র সিলগালা করে উচ্চ আদালতের ডেথ রেফারেন্স শাখায় পাঠানোর প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। পুলিশি পাহারায় এগুলো নিরাপদে সুপ্রিম কোর্টে পৌঁছে দেওয়া হবে। দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী, নিম্ন আদালতের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের জন্য হাইকোর্টের অনুমোদনের (ডেথ রেফারেন্স) প্রয়োজন হয়।

এদিকে এই মামলার চূড়ান্ত বিচারিক প্রক্রিয়া আগামী তিন মাসের মধ্যে শেষ করা সম্ভব বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। রায় ঘোষণার পর সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, সরকারের বিশেষ অগ্রাধিকার এবং প্রধান বিচারপতির আন্তরিক সহযোগিতার কারণে এত দ্রুত বিচার সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে।

আইনমন্ত্রী আরও জানান, হাইকোর্টে ফাইল আসার পর দ্রুততম সময়ে ‘পেপার বুক’ প্রস্তুত করে বিশেষ বিবেচনায় শুনানি করা হবে। এরপর আপিল বিভাগের প্রক্রিয়া শেষ করে আগামী তিন মাসের মধ্যে পুরো বিচার কাজ চূড়ান্ত করা সম্ভব বলে সরকার মনে করছে। ভবিষ্যতে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ মামলাও কীভাবে দ্রুত নিষ্পত্তি করা যায়, তার একটি স্থায়ী পথ খোঁজার চেষ্টা করছে সরকার।

উল্লেখ্য, গত ১৯ মে ঘটনার পর পল্লবী থানা পুলিশ অত্যন্ত দ্রুততার সাথে তদন্ত শেষ করে মাত্র ৫ দিনের মাথায় (২৪ জুন) আদালতে চার্জশিট দাখিল করে। ঈদের ছুটির পর গত ১ জুন মামলার চার্জ গঠন করা হয়।

এরপর মাত্র ২ দিনে ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ, আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থন ও যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে ৭ জুন আদালত এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন। বিচারিক আদালতের অবকাশকালীন ছুটি থাকা সত্ত্বেও মামলার গুরুত্ব বিবেচনায় বিশেষ ট্রাইব্যুনালের ছুটি বাতিল করে এই রায় দেওয়া হয়।

সূত্র : ইত্তেফাক