
রাজধানীর মুগদা এলাকায় ৫ লাখ টাকার জন্য সৌদিপ্রবাসী মোকাররম মিয়াকে হত্যার পর লাশ আট টুকরা করার মামলায় গ্রেপ্তার হেলেনা বেগম আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তিনি এই হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা ও প্রবাসীর পরকীয়া প্রেমিকা তাসলিমা বেগমের বোন।
অন্যদিকে হেলেনার মেয়ে হালিমা আক্তার কিশোরী হওয়ায় তাকে গাজীপুরের কোনাবাড়ী কিশোরী উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (১৯ মে) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীন আসামি হেলেনা বেগমের জবানবন্দি রেকর্ড করেন। এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মুগদা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) এনামুল হক মিঠু আসামিদের আদালতে হাজির করেন। হেলেনা স্বেচ্ছায় দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিতে রাজি হওয়ায় তা রেকর্ড করার আবেদন জানান তদন্ত কর্মকর্তা। জবানবন্দি গ্রহণ শেষে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আদালত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মামলার অন্য আসামি হালিমা আক্তার অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তাকে কিশোরী উন্নয়ন কেন্দ্রে রাখার আবেদন করা হয়। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৫-এর বিচারক মো. মনিরুজ্জামান তাকে গাজীপুরের কোনাবাড়ী কিশোরী উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর আদেশ দেন।
এর আগে সোমবার (১৮ মে) রাজধানীর মান্ডা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মা-মেয়েকে গ্রেপ্তার করে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।
এ সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বিভিন্ন আলামতও উদ্ধার করা হয়। র্যাব জানায়, নিহত মোকাররম মিয়ার বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায়। তিনি সৌদি আরবে থাকতেন। সেখানে তাসলিমা বেগম নামের এক নারীর সঙ্গে তার পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে ওঠে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, প্রবাসীর ৫ লাখের বেশি টাকা আত্মসাতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করা হয়।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, পরকীয়া প্রেমিকা ও তার সহযোগীরা প্রথমে মোকাররমকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করেন। পরে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে লাশ আট টুকরা করা হয়। এরপর টুকরোগুলো পলিথিনে মুড়িয়ে মান্ডা এলাকার বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেওয়া হয়।
এর আগে রোববার (১৭ মে) দুপুর দেড়টার দিকে মুগদার মান্ডা ১ নং গলি এলাকার আব্দুল করিম রোডের ‘শাহনাজ ভিলা’ নামের একটি ভবনের বেজমেন্ট থেকে অজ্ঞাত হিসেবে মোকাররমের খণ্ডিত ও পচাগলা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
মুগদা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. জালাল উদ্দিন বলেন, মরদেহটি পচে গিয়েছিল এবং শরীরের বিভিন্ন অংশ পলিথিনে মোড়ানো ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, অন্য কোথাও হত্যার পর লাশ টুকরো করে এনে ওই ভবনের বেজমেন্টে ফেলে রাখা হয়েছিল। ঘটনার পর পিবিআই ঘটনাস্থল থেকে আঙুলের ছাপ সংগ্রহ করে। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও প্রযুক্তির সহায়তায় দ্রুততম সময়ে আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হয়। এই চক্রের বাকি সদস্যদের ধরতেও অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।












































